বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

আলোর পথযাত্রী

২ : আলোর পথযাত্রী

…সৃষ্টির শেষ রহস্য, ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

“…সৃষ্টির শেষ রহস্য,ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

কর্তার সিং দুগ্গল: এক বিরল স্রষ্টা

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন  

অম্লান দত্ত – এক বিশ্ব মানব

রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বকবিতা

এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও অধ্যাপক মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। আমার বাবা বৈশম্পায়ন ঘোষালের প্রতিষ্ঠিত ‘অনুবাদ পত্রিকা’-র উদ্যোগে আয়োজিত এক তিন দিনের আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে দেশ-বিদেশের বহু কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী অংশ নিয়েছিলেন। অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো এবং তাঁদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখার দায়িত্বের একটি অংশ এসে পড়েছিল আমার কাঁধেও। তখন আমি সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। বাংলা মাধ্যমের ছাত্রী হিসেবে ইংরেজি জ্ঞানের সীমা ছিল ‘মাই নেম ইজ…’ পর্যন্ত; হিন্দিও তেমন জানা ছিল না। ফলে এক ধরনের সংকোচ নিয়ে বাবার নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করছিলাম।

সেই সময়ই এক সুদর্শন, স্নিগ্ধভাষী মানুষ এগিয়ে এসে বলেছিলেন, “এত চিন্তা কোরো না। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই নিজের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা জানেন না। ভাষা কেবল ভাব প্রকাশের একটি মাধ্যম। তুমি যেভাবে পারছ, সেভাবেই কাজ করো। অসুবিধা হলে আমাকে বলবে।”

সেই মানুষটি ছিলেন মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ এত বছর পরে ফিরে তাকালে মনে হয়, কথাগুলি নিছক সান্ত্বনা ছিল না; ভাষা, সংস্কৃতি ও মানবিক যোগাযোগ সম্পর্কে তাঁর গভীর বিশ্বাসেরই প্রকাশ ছিল। একজন অনুবাদকের কাছে ভাষা কখনো প্রাচীর নয়, বরং সেতু। পরবর্তী জীবনে তাঁর সমগ্র কর্মযজ্ঞকে বুঝতে গেলে এই ছোট্ট ঘটনাটিও অর্থবহ হয়ে ওঠে।

সেই আলোচনাচক্রে পেরু থেকে এক কবি এসেছিলেন। নামটি আজ আর মনে নেই। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে মানবেন্দ্রদা হেসে বলেছিলেন, “This beautiful lady is daughter of Ghoshal Babu.” আমরা তখন বাবার নির্দেশে অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে যেতাম। বিদেশি কবিটি আমাকে কৌতূহলী বিস্ময়ে দেখছিলেন। মানবেন্দ্রদা মৃদু হাসি নিয়ে বলেছিলেন, “She is just ten years old.” পরে আমাকে আলাদা করে বলেছিলেন, “কাল থেকে শাড়ি না পরে শালোয়ার-কামিজ বা ফ্রক পরে এসো।”

পরে বাবার মুখে শুনেছিলাম, এত অল্পবয়সী মেয়েকে শাড়ি পরানোর জন্য তিনি বাবাকে বকেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, একটি শিশু শাড়ি না পরলে ভারতীয় সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি হবে না। এই ঘটনাটুকুর মধ্যেই তাঁর মানবিকতা, আধুনিকতা এবং অনাড়ম্বর বোধের পরিচয় লুকিয়ে আছে।

সময় গড়িয়ে ২০০৬ সাল। আমি তখন কলেজে অধ্যাপনা করি। পাশাপাশি চেষ্টা করছি ‘অনুবাদ পত্রিকা’-কে আবার সক্রিয়ভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে। পত্রিকা তখনও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল, কিন্তু তার প্রচার ও উপস্থিতি আগের মতো ছিল না। অন্যরা সম্পাদনার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। আর বাবা তখন ক্রমশ আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হয়ে সমস্ত সাংগঠনিক কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

আমার মনে হয়েছিল, আবার যদি একটি বড় আলোচনাচক্র আয়োজন করা যায়, তবে নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে পত্রিকাটিকে নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সেই ভাবনা নিয়ে প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলতেই তিনি বললেন, “চলো, মানবেন্দ্রদার সঙ্গে কথা বলে আসি।”

তখন মানবেন্দ্রদা তিলজলার পূর্বা আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। অনুবাদ পত্রিকা-র অনুষ্ঠানে ওয়েবসাইট উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা শুনে তিনি বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে বলেছিলেন, “তুমি করেছ কী! এখনও অনুবাদ পত্রিকা পুরোপুরি হাতে নাওনি, তার আগেই ওয়েবসাইট!”

কথাটির মধ্যে রসিকতা ছিল, কিন্তু ছিল দায়িত্ববোধেরও ইঙ্গিত। ঐতিহ্যের ভিত মজবুত না করে কেবল প্রযুক্তির দিকে ছুটে যাওয়া তাঁর স্বভাব ছিল না। তবু তিনি নতুন উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করেননি। বরং পরবর্তী সময়ে নানা পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন।

এই সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। সাহিত্য, অনুবাদ, বিশ্বসংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনীতি—বিষয়ের কোনো সীমা ছিল না। অসুস্থ শরীর নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতেন। লক্ষ করেছি, সাহিত্য প্রসঙ্গ উঠলেই তাঁর চোখে যেন নতুন আলো জ্বলে উঠত।

আমার বাবার জীবন ও দর্শন সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাবা যখন ধীরে ধীরে সমস্ত প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোনিবেশ করেন, তখন অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু মানবেন্দ্রদা বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখতেন।

তিনি বলেছিলেন, “একজন মানুষ মাত্র পনেরো বছরে বাংলা সাহিত্যে অনুবাদচর্চার ক্ষেত্রে যে কাজ করে গেলেন, এত বছর পরেও আর কেউ সেই সাহস দেখাতে পারল না। এই মানুষটি নিজেই একটি গবেষণার বিষয়।”

আমি কখনও কখনও বলতাম, বাবা যদি দায়িত্বে থাকতেন, তবে আমার কাজ সহজ হতো। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতেন, “তোমার বাবা কিন্তু একাই কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি সারা বিশ্বকে বাংলায় নিয়ে এসেছিলেন। তার থেকেও বড় কথা, আলোয় থাকার পর সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না।”

এই ধরনের মন্তব্য কেবল তাঁর কাছ থেকেই নয়; সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, অম্লান দত্ত, শিবনারায়ণ রায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল, অনুরাধা মহাপাত্র—অসংখ্য মানুষের মুখেই আমি শুনেছি। কিন্তু মানবেন্দ্রদার উপলব্ধির গভীরতা ছিল আলাদা।

মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৩৪৫ বঙ্গাব্দের ১২ বৈশাখ (১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে), শ্রীহট্ট জেলার সদর অঞ্চলে। বাবার কর্মসূত্রে তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে অসমে। করিমগঞ্জে স্কুলজীবন, আগরতলার মহারাজা বীরবিক্রম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট, তারপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে স্নাতক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শিক্ষা।

পরবর্তী সময়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ও পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা এবং অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে আন্তর্জাতিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করে। কর্মজীবনের শুরু রেঙ্গুনে অধ্যাপনার মাধ্যমে। পরে খড়গপুরের হিজলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা এবং দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

লেখালেখির শুরু কবিতা দিয়ে। ছোটবেলায় মৌচাক, রামধনু, কিশোর বাংলা প্রভৃতি পত্রিকায় শিশু-কিশোরদের জন্য কবিতা লিখতেন। পাঠাভ্যাস থেকেই লেখার উৎসাহ জন্মেছিল। পরবর্তীকালে সম্পাদনার কাজও করেছেন, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর নাম প্রকাশিত হয়নি।

প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীরা প্রায়ই মজা করে বলতেন, “তোর আর ভাবনা কী! তোর দাদার নোট লিখে দিলেই ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে যাবি।” তাঁর দাদা ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পরে সেই বিষয়েই অধ্যাপনা করেছিলেন। এই তুলনা তাঁকে এতটাই বিরক্ত করেছিল যে ইতিহাস অনার্স ছেড়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্য ও অনুবাদচর্চার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। প্রচুর বই কিনতেন। এক প্রকাশক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “এত বই পড়ছেন, নিজে কিছু লিখছেন না কেন?” উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমার লেখা কে পড়বে?” তখনই তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়—অনুবাদ করতে।

সেই সূত্রে শুরু হয় জুল ভের্নের রচনার ভাষান্তর। প্রেসিডেন্সি কলেজের গ্রন্থাগারে থাকা দুষ্প্রাপ্য ইংরেজি অনুবাদগুলি তাঁকে গোপনে এনে দিতেন এক সহৃদয় গ্রন্থাগারিক। প্রকাশকের প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ উপন্যাসকে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করতে হতো। তিনি পরে স্বীকার করেছিলেন, সেগুলি প্রকৃত অর্থে অনুবাদ নয়, বরং ভাষান্তর বা অভিযোজন।

তাঁর একটি উক্তি আজও মনে পড়ে—“অনুবাদ মানে অনু পরিমাণ বাদ। তাই আমি ‘তর্জমা’ শব্দটি বেশি পছন্দ করি।”

এই রসিক মন্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল অনুবাদতত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর গভীর সচেতনতা।

লাতিন আমেরিকার সাহিত্য, আফ্রিকার সাহিত্য এবং তৃতীয় বিশ্বের নানা ভাষার সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ ছিল অসাধারণ। পোল্যান্ডে থাকার সময় তিনি পোলিশ ভাষা শেখেন এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পোলিশ কবির কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরে নোবেল পুরস্কারও পান। চেসোয়াভ মিউওশ তাঁদের অন্যতম।

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের লেখার সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও হয়েছিল বিদেশে অবস্থানকালে। দেশে ফিরে তিনি মার্কেসকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন, যখন বাংলা ভাষার অধিকাংশ পাঠকই লেখকের নাম শোনেননি।

শঙ্খ ঘোষ মজা করে বলেছিলেন, “মানববাবু যাঁদের অনুবাদ করেন, কয়েক বছর পর দেখা যায় তাঁরাই নোবেল পান।”

রসিকতার আড়ালে ছিল একটি সত্য। মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল অনুবাদ করতেন না; তিনি বাংলা পাঠককে বিশ্বসাহিত্যের নতুন দিগন্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। মার্কেসের ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’, ‘সরলা এরেন্দিরা’, পাবলো নেরুদার ‘প্রশ্নের খাতা’—এসব গ্রন্থ বাংলা পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল তাঁর হাত ধরেই।

ভারতের বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যকে এক মলাটে আনার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনন্য। ‘ভারতীয় সাহিত্য’ সংকলন এবং ‘ভেদ-বিভেদ’ গ্রন্থ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। দেশভাগ, দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ভাষাগুলির সাহিত্যিক প্রতিক্রিয়াকে একত্রে পাঠ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।

তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতবর্ষে ভাষার বৈচিত্র্য যতই থাকুক, সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার গভীরে একটি মৌলিক ঐক্য বিদ্যমান। সেই ঐক্যকে চিনিয়ে দেওয়াই অনুবাদের অন্যতম দায়িত্ব।

মালয়ালম সাহিত্যিক ভৈকম মুহাম্মদ বশীরের গল্প অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি অনুবাদ পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু পুরস্কার কখনো তাঁর পরিচয়ের কেন্দ্র ছিল না। তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য ছিল পাঠকের দিগন্ত প্রসারিত করা।

বিশিষ্ট সাহিত্যসমালোচক শিশিরকুমার দাশ তাঁকে ‘অনুবাদেন্দ্র’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। উপাধিটি যথার্থ। কারণ তিনি শুধু অনুবাদক ছিলেন না; ছিলেন এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকার।

তাঁর অনুবাদের মধ্যে ছিল তীক্ষ্ণ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি, ছিল লেখকের সামাজিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার একাডেমিক নিষ্ঠা, ছিল নতুন সাহিত্যরীতির বিশ্লেষণী পাঠ। তিনি পাঠককে কেবল একটি লেখা দিতেন না; সেই লেখার জন্মভূমি, ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতিরও পরিচয় দিতেন।

সবচেয়ে বড় কথা, তিনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির স্পর্শে তাঁর অনুবাদে গড়ে উঠেছিল এক স্বতন্ত্র বাংলা গদ্য—স্বাদু, মেধাবী, শ্লেষাত্মক, মানবিক এবং গভীরভাবে সাহিত্যিক।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু আজও বাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্য পাঠের যে পরিসর আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই, তার পেছনে তাঁর মতো মানুষের দীর্ঘ শ্রম, নিষ্ঠা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে গেছে।

মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন, যাঁরা জানতেন—অনুবাদ মানে শুধু ভাষা বদল নয়; এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতির দিকে জানলা খুলে দেওয়া। তাঁর হাত ধরে বাংলা পাঠক বিশ্বকে চিনেছে, আর বিশ্বও প্রবেশ করেছে বাংলার ঘরে। তাই তাঁকে মনে পড়লে আজও মনে হয়—তিনি ছিলেন সত্যিই বিশ্বকে বাংলায় চেনার এক অনন্য জানলা।

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 11 of 11 in the series আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 11 of 11 in the series আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর

Read More »