আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল

‘এমন কিছু লিখব না যাতে সমাজের ক্ষতি হয়। এমন কোনো লেখা লিখে লাভ নেই যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোনো উপকার না হয়। আমার লেখা থেকে যেন কোথাও কোনো অকল্যাণ না হয়।’ কথাগুলো বলে হাসলেন যিনি তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ঠিক কোন বয়য়ে মনে পড়ে না। শুধু অস্পষ্ট ছায়ার মত তাঁর পরণের লাল শাড়ি আর কপালের বড়ো টিপটা মনে পড়ে। তিনি নবনীতা দেব সেন। পিসি- মাসি দুটো বলেই তাঁকে ডাকতাম,এই দুরকম ডাকের কারণটা হল বাবার দিক থেকে তিনি পিসি আর সাহিত্যিক কঙ্কাবতী দত্তের সূত্রে মাসি। এই দুই সমন্বয়েই তাঁর সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন গড়ে উঠেছিল।
ছোটোবেলার পর সেই অর্থে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হল ‘আজকাল’ সংবাদপত্রের মাধ্যমে।সেখানে বই আলোচনার কাজ করি। সদ্য প্রয়াত অলোক চট্টোপাধ্যায় একদিন দপ্তরে যাওয়া মাত্র নবনীতা দেবসেনের একটি ছোটোদের বইয়ের কথা উল্লেখ করে বললেন- দুদিনের মধ্যে বই যোগাড় করে রিভিউ করে দিতে হবে।কারণ যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সে বই নিয়ে বেপাত্তা।এদিকে দিদি ভীষণ রেগে গেছেন অনেকদিন পড়ে আছে।একটু উদ্ধার করে দে মা।
বইটির নাম “রূপকথা সমগ্র।” বই যোগাড় করে তড়িঘড়ি পড়তে বসলাম। ভূমিকাতেই লিখেছেন- “…আমার রূপকথায় একটু নারীশক্তির প্রকাশ আছে। রাজা, রাজপুত্তুরেরা আর নায়ক নন, ভুল ভ্রান্তি ভরা সাধারণ মানুষ। রানিরা আর রাজকন্যেরা দুর্বল নন, অসহায় নন, তাঁরাই সক্ষম । বিপন্ন হলে উদ্ধারের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারেন। নিঃসন্দেহে তাঁরাই নায়ক। তাঁরা নিজেরা শত্রুজয় করেন, কিন্তু বাহুবলে নয় বুদ্ধিবলে। রাজ্য উদ্ধার করেন, সুবুদ্ধির বলে। নারী-পুরুষের সামাজিক অসাম্য ঘোচাতে,নারীর আত্মনির্ভরতার প্রতি সম্মান জাগাতে এই দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। আমরা চাইব সমাজে ছেলেমেয়েরা সমান সম্মান, সমান সুযোগ পাক। নতুন যুগের মূল্যবোধগুলি এই নতুন যুগের ভাবনায় গোড়া থেকেই বুনে দেওয়া দরকার। রূপকথার দ্বারা তা সহজেই সম্ভব। আর আমরা, মা-বাবারা চাইব, তারা স্বপ্ন দেখতে শিখুক। রূপকথা সকলের হাতেই এই সোনার কাঠিটি তুলে দিতে পারে, কেউ নেয় কেউ নেয় না।”
দুদিনের মধ্যে পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়া গেল। প্রকাশও পেল। প্রকাশের পরেই নবনীতা মাসীর ফোন।
“তুমি যেখানেই থাকো এখনই বাড়ি আসতে হবে।”
খুব যে উৎসাহী ছিলাম যাবার জন্য তা একেবারেই নয়। তার দুটো কারণ, তিনি এর আগে একবার বাড়িতে এমন করে ডেকেও দরজা খোলেননি, বাড়ির সহকারীকে দিয়ে একটা খামে লেখা পাঠিয়েছিলেন নীচে।তিনি ফাঁক দিয়ে সেটা দিয়ে চলে গেছিলেন। আরেকদিন এক অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গেছিল। হেসে কথা বলতে গেলাম।উনি যেন চিনতেই পারেননি, এভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।
সেই বয়সে খানিক ইগো ছিল, কলেজ ছাড়লেও অধ্যাপিকা, পাশাপাশি অনুবাদ পত্রিকা, ভাষা সংসদ দুটোরই দায়িত্ব পুরোদমে নিয়ে চলেছি তখন। নিজেও লিখছি। তাছাড়া এর আগে বহুবার বিভিন্ন জায়গায়, সেমিনারে, আলোচনা সভায়,অনুবাদ পত্রিকার সূত্রে দেখা, লেখা নেওয়া হয়েছে। এমনকি আমার নৃত্য গুরু কলাবতীদির এক অনুষ্ঠানে দেখা হওয়া মাত্র শুধু আমাকে নয়, আমার মাকেও জড়িয়ে ধরে পুরোনো দিনের গল্প জুড়েছেন রবীন্দ্রসদনে দাঁড়িয়েই। সেই তিনি এরকম করবেন আমার সঙ্গে ভাবতে পারিনি। তাই খুব শান্ত স্বরে বললাম, ‘আমি আজ যেতে পারব না। আপনার বইয়ের রিভিউ পছন্দ হলে অলোক কাকুকে জানিয়ে দেবেন।’
এই ‘না’ বলাটা ওনার বোধ হয় আত্মসম্মানে লাগল। তৎক্ষণাৎ বললেন- ‘ঘোষালের যোগ্য মেয়ে।একই রকম অহংকার। তোমার বাবাকে ফোন করে বলতে হবে দেখছি।’
আমি হাসলাম। বললাম, ‘শুধু বাবার মেয়ে নই, তোমারও ভাইজি। ফলে একটু তো সমস্যা থাকবেই।’
এবার হেসে উঠলেন। বললেন –“মেয়েদের এরকম মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ঝাঁঝ থাকা প্রয়োজন, নইলে সব জায়গায় ধাক্কা খেতে হয় বুঝলে পাগলি! সময় নিয়ে এস।”
তাঁর এই বৈচিত্র্যময় চরিত্র আমাকে বার বার বিস্মিত করেছে। বহু আগে তখন সবে ক্লাস সেভেনে পড়ি, সেটাই তাঁর বাড়িতে প্রথম গেছিলাম পিসি আনন্দ বাজারের কর্মী শুক্লা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দেখলাম নবনীতা পিসি তখন একটু একটু হাঁপাচ্ছন। পিসি প্রশ্ন করতেই বললেন- “না, না এসব নিয়ে কোনও ভাবনাচিন্তা নয়, একটু হাঁচি কাশি ছাড়া আমাকে ঠিক মানায় না। মানে নবনীতা বলে মনে হয় না। মনে হয় অন্য কেউ নবনীতার নাম ভাঁড়িয়ে কথা বলছে” তারপরেই অনুবাদ পত্রিকা নিয়ে বললেন, “এই যে শুধুমাত্র এটা অনুবাদ পত্রিকারই কাগজ, এটা খুবই অসাধারণ। এত বড়ো দেশ এতগুলি ভাষায়, আমরা একে অপরের সাহিত্যজগৎ সম্পর্কে কিছু জানব না?গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভ্যাক, আমার খুব বন্ধু, উনি মহাশ্বেতাদির লেখা অনুবাদ করায়… হ্যাঁ অনুবাদ খুবই জরুরি। ঘোষাল একটা গুরূত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।ওনার মতো করে এত বছর পরেও কেউ এই অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে ভাবতে পারলেন না।”
সেই সময় অতিক্রান্ত হয়ে আবার তাঁর সঙ্গে দেখা হল ভারতীয় ভাষা পরিষদের এক অনুষ্ঠানে।তখন আমি সবে কলেজে পড়াতে শুরু করেছি। বহুদিন পর দেখা হওয়ায় আমি একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। তিনি কথা বলতে বলতে হঠাৎ চেঁচিয়ে ডেকে উঠলেন আমার ডাক নামে।তাড়াতাড়ি গিয়ে প্রণাম করে জিজ্ঞেস করলাম- আমাকে চিনতে পারলে কি করে?
-পিসি যদি না চেনে তো কে চিনবে?
সেদিন আমি পড়াতে ঢুকেছি, বাচ্চা হয়ে গেছে শুনে বললেন, ‘এত কিছু হয়ে গেছে! ইস্ আমি জানতেই পারলাম না।’
এরপর আবার বেশ বিরতি। ইতিমধ্যে বক্তিগত পরিসর ছেড়ে তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে ডুবে গেছি। ক্লাস টেনেই ‘ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে’ পড়ে কতদিন ভেবেছি এভাবেই একদিন আমিও অসমের জোড়হাট থেকে অরুণাচল প্রদেশের দুর্গম তাওয়াং সীমান্ত এলাকায় র্যাশন ট্রাকে চড়ে ভ্রমণ করব। সেই যে তিনি লিখেছিলেন “জগতে শুধু এলেই তো হল না, সে তো সবাই আসে। আনন্দযজ্ঞের খোঁজটি পাওয়া চাই, সেটা সবাই পায় না……। আমি বড় চঞ্চল। বড় অস্থির। কখনো এস্পার, আবার কখনো ওস্পার। এই ছিলুম ঘরে, এই বসেছি পারে। আর ভেতরে ভেতরে? না ঘরের, না পারের, স্রেফ পারাপারের সওয়ারি” – সেই রকমভাবে আমিও তো একা একাই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পরেছি, অচেনা জায়গার হাতছানিতে।যেকোনো দিন আমিও লিখে ফেলতে পারি এমন সব ঘটনা, যা শুনলে মানুষ ভাববে বাপরে কী ডানপিটে, বেপরোয়া, সাহসী মেয়ে!
পড়েছি তাঁর নারী কেন্দ্রি একাধিক গল্প। যেখানে নারীরা জীবনের কথা বলে।যেমন-‘গদাধরপুর উইমেন্স কলেজ’ গল্পের কথক একজন নারী। সে চায় আত্মপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বামীর সংসারে অস্তিত্বহীন স্ত্রীর চরিত্র প্রথমদিকে তার ভালো লাগলেও একসময় খারাপ লাগতে থাকে। সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়; কিন্তু সংসার ভেঙে নয়, সংসারে থেকেই।
‘এক্সপেন্স একাউন্ট’ গল্পটিতে একজন ছোট পিসি, যিনি বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বদলে যাওয়া কলকাতাকে দেখে ব্যথা পান। মেনে নিতে পারেন না। সুকৌশলে তিনি চারপাশের মানুষগুলোকে পুরনো দিনের ঐতিহ্যের কথা শোনান।
‘দাদামনির আংটি’ এক সাধারণ গৃহবধূর অসাধারণ হয়ে ওঠার কাহিনি। দাদামনির আংটি চুরি গেলে এই বধূ থানায় ডায়েরি করতে যায়। থানা ডায়েরি নিতে আপত্তি করে। বধূ প্রতিবাদ করে বলে দেয়, ডায়েরি না নিলে তিনি নিজেই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার নামে এফআইআর করবেন।
‘পরীর মা’ গল্পের মা নিজের সন্তানকে ঘটনাচক্রে হারিয়ে ফেললেও অন্যের সন্তানকে বুকে টেনে নেন। ‘শুভমিতা প্রোপ্রাইটার’ গল্পে শুভমিতা দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও প্রথম সন্তান শুভকে ভুলতে পারে না।
আবার এলিজাবেথ এক অসাধারণ নারী। সে অন্য পন্থায় সন্তান ধারণ করে কারো বাধা না মেনে। একটি অসাধারণ বাক্য আছে এ-গল্পে, ‘মায়ের মুখের একটা কথার ওপরে বাবার বাবাত্ব টলমল করছে। আর তো কেউ জানে না প্রকৃত বাবাটি কে!’
তাঁর গল্পে নারীর বহুমাত্রিক রূপ দেখছি।এই গল্পের নারীরা হিংস্র নয়। পুরুষের ব্যাপারে তাদের অনীহা বা অশ্রদ্ধা নেই। প্রতিহিংসাও তারা দেখায় না। তাদের প্রতিবাদ পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে। যা কিছু পুরনো তার বিরুদ্ধে। পুরনো ঐতিহ্যের মাঝে যে ভালো থাকে সেই ভালো বার্তাই যেন দিচ্ছেন তিনি।
তাই যখন পত্রিকার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর কাছে প্রশ্ন করি, “তুমি শুক্লা পিসিকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে “কবিজীবনে বেদনা, নারী, বেপরোয়া যাপন- এটা কি ক্ষতি করে, জীবনকে কি পূর্ণতা না অপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। বেদনা বিলাস কি শিল্পীর ইচ্ছাকৃত?” এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলে- ‘বেদনা বিষাদের যোগ না হলে কবিতা উত্তীর্ণ হয় না। এই বেদনার সঙ্গে থাকে আত্মনির্যাতন মৃত্যুতৃষ্ণা অসুন্দরকেও ক্রমাগত আলিঙ্গন। এই মায়াবী অধরা জগৎকে ক্রমাগত ছুঁয়ে দেখার আকুল তৃষ্ণা। আবহমানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে স্বপ্নের ভাষাকে মারও প্রাজ ‘Romantic Agony’ নামে একটি চমৎকার লেখা লিখেছিলেন। কয়েকটা নাম মনে পড়ছে, মোনালিসা বা মেডুসার মতো ভয়াবহ নিয়তিতুল্য রহস্যময়ী নারী অস্কার ওয়াইল্ড, সুইনবার্ন দান্নুৎসিও লাফর্গ ফ্লবেয়ার মালার্কে Villiers de l’sle Adam, হ্রাগনার ডস্টরেডস্কি আঁদ্রে জিদ, ডরলেন, রেমি দ্য গুর্ম, মার্কস দ্য সাদে বোদলেয়ার, কিটস, গতিয়ে বায়রন, দোলা ক্রোয়া, গ্যেটে, হাইনে গুস্তডে থোরা এডগার অ্যালান পো- এমনি বহু চরিত্র। কবিতার বেদনার ইতিহাস বলতে যা বেছে নেওয়া যায় পো, বোদলেয়ার মালার্মে হাইনে, বায়রন ও কিটসের মতন কবিতা বেদনাকে আশ্রয় করে আশ্রয় খুঁজেছেন। এঁদের সঙ্গে জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু প্রভৃতি বঙ্গভাষার কবিতদেরই হৃদয়ের ভিতর আগলাচ্ছেন, মাইকেল মধুসূদন তারও আগে।’ এখনও কি একইভাবেই উত্তর দেবে?”
তিনি বলেন- ‘তুমি দেখছি মুখস্ত করে ফেলেছ। আসলে মারিও প্রাজের কথা যদি বলি রোমান্টিসিজমের মধ্যে রয়েছে এক অসাধারণ অস্বাভাবিক মানে ‘a morfid exquistenses of feeling’- এটা এক সূক্ষ্ম আত্মিক অসুস্থতা বোদলেয়ারও পাই, জীবনানন্দ দাশের কবিতা সূক্ষ অনুভূতির বিকৃতি ঘটিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলার প্রক্রিয়াটা ফরাসি সাংকেতিক ভাষায় কবিতায় বার বার দেখা গেছে। আত্মনির্যাতনে কবিরা এক ধরনের শান্তি পায়।
তার পরেই হাসতে হাসতেই বলে ওঠেন-
‘Since she must go, and I must mourn, come night,
Environ me with darkness, whilst I write:
Shadow that hell unto me, which alone
I am so suffer when my love is gone.
Alas! the darkest magic cannot do it.
Should chinthia quit thee, vennus and each star
It would not form one thought dark as mine are.”
আমি যেই বলে উঠি জন ডন তোমার খুব প্রিয়, তাই না! সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘তুমিও আমার খুব প্রিয়। সেদিন রূপা তোমার একটা কবিতা পড়ে শোনালো, বেশ লিখছ।’
আমি একটু থতোমতো খেয়েই জিজ্ঞেস করলাম, ‘রূপা’?
“দেব সাহিত্য কুটীরের। ওই যে ওই কবিতাটা- “ সব শেষের ঘরটি আমার/সেখানেই আমার সাথেই বন্দি থাক/যাবতীয় মান অভিমান বিষাদ/আর চোখের জল।”তবে এসব বিষাদের কথা বাইরে প্রকাশ করবে না। যেসব নারী নিজেকে দূর্বল ভাবেন, আমার তাদের ওপর রাগ হয়।মেয়েরা কখনো চণ্ডী, কখনো মীরা, কখনো গার্গী মৈত্রেয়ী আবার কখনো সীতা। নিজেকে ভাববে ঝাঁসির রানি। মাথা নত করবে যখন মনে হবে করা দরকার।কিন্তু কারোর দাবিতে, কাউকে তোষামোদ করার জন্য নয়।”
মায়ের মুখে শুনেছিলেন “আশাপূর্ণা দেবীকে সাহিত্য অকাদেমি সম্মান দেবার কথা হলে তিনজনের কমিটির অন্য দুজন পুরুষ চান নি তাঁকে দিতে।এক মাত্র নবনীতা দি-ই লড়ে গেছিলেন।পুরুষ কী করে বুঝবেন আশাপূর্ণার লেখা! কিন্তু এ লেখা নারীর অন্দরমহলের।কাজেই তাঁকে স্বীকৃতি দিতেই হবে বলে নবনীতাদি রীতিমতো লড়াই করেছিলেন।”
সেটা বলতেই বললেন- ‘মেয়েরা মেয়েদের জন্য লড়বেন নাতো কে লড়বে? সেইজন্যই তো ‘সই’ তৈরি করেছি।’
আমি ততদিনে জেনে গেছি “সই”য়ের কথা। এ হলো তাঁর প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ লেখিকা সঙ্ঘ, যা সৃষ্টিশীল নারীদের প্রতিভা বিকাশের মঞ্চ। তাঁর কথায় “সৃজনশীল মেয়েদের খোলা বারান্দা”। উদ্দেশ্য মেয়েদের লেখার নিরাপদ জগত তৈরি করা।
কথায় কথায় সময় এগোয়। আরও একদিন সেই হাসি ভরা মুখ নিয়ে এলোচুলে সদ্য স্নান করে বসার ঘরে বসে।আমি গিয়েছি পত্রিকার জন্য সাক্ষাৎকার নেব।সে বিষয়ে কথা বলতেই বললেন, ‘তুমি নেবে না কাউকে পাঠাবে নিতে?’
‘তুমিই বলো’
‘যা কে তাকে পাঠাবে না।আমার অনুবাদ নিয়ে যাদের বিন্দুমাত্র ধ্যান ধারণা নেই, তাঁদের পাঠালে দূর করে দেব, আগেই বলে দিলাম।’
( চলবে )


