এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

আলোর পথযাত্রী

২ : আলোর পথযাত্রী

…সৃষ্টির শেষ রহস্য, ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

“…সৃষ্টির শেষ রহস্য,ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

কর্তার সিং দুগ্গল: এক বিরল স্রষ্টা

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন  

অম্লান দত্ত – এক বিশ্ব মানব

রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বকবিতা

এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

বাংলা সাহিত্যে আমার অন্যতম পছন্দের তালিকা যদি প্রস্তুত করতে বলা হয় তবে একেবারে ওপরের সারিতে থাকবেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। তবে লেখক সন্দীপনের সঙ্গে পরিচয় হবার বহুপূর্বেই আমি ব্যক্তি সন্দীপনকে চিনেছি।তখন আমি নয় কী দশ বছর বয়স। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বাবার সঙ্গে প্রথমে জোঁড়াসাকো ও রবীন্দ্রসদন যাই প্রতিবছরই। সে বছরেও গেছি। চারদিকে গান হচ্ছে।শুনছি। হঠাৎ উপলব্ধি করলাম বাবা আশেপাশে নেই। আমি এদিক ওদিক দেখছি। ভিড়ের মধ্যে সেভাবে কিছু দেখতেও পাচ্ছি না। হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ালেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বললেন- বাবাকে খুঁজছ?

-হ্যাঁ।

-তিনি হেমন্তদার সঙ্গে গাড়িতে উঠে রবীন্দ্রসদনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। বলে তাঁর পাশেই দাঁড়ানো এক ভদ্রলোক সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরা, তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন- সন্দীপন, এ হচ্ছে বৈশম্পায়নদার মেয়ে। দাদার বোধহয় খেয়ালই নেই মুনাই সঙ্গে এসেছিল।

-আমি তাহলে এখন কি করব?

-আমাদের সঙ্গে রবীন্দ্রসদন হেঁটে যেতে পারবে?

মাথা নাড়তে আমাকে নিয়ে তাঁরা বেরিয়ে এলেন। এবং তারপর সারা রাস্তা গান কবিতা নাচ করতে করতে পিছনে সামনে জন সমুদ্র নিয়ে আমরা রবীন্দ্রসদন পৌঁছালাম।

সেই প্রথম আমি সন্দীপন কাকুকে দেখি। এরপর দেখলাম বাবার সঙ্গে কফি হাউসে। এক টেবিলে বসে বাবা সুনীলমামা, সন্দীপন কাকু, উৎপল জেঠু মানবেন্দ্র জেঠু আড্ডা দিচ্ছেন।সেদিন আমি গেছিলাম বই কিনতে। তাঁদের আড্ডা সেখান থেকে এবার অনুবাদ পত্রিকার তৎকালীন অফিস ৮ বি রমানাথ মজুমদার লেনে। আমি যে আছি এবং বই কিনতে এসেছি বাবা বেমালুম ভুলে গেলেন। আড্ডা যখন ভাঙল তখন বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে।

-বাবা আমার বই ?

বাবা কিছু বলার আগেই সন্দীপন কাকু বলে উঠলেন- পাঠ্য বই পড়ে কিছু হয় না। বাবার কাছে বসে এর থেকে বেশী পড়া জানতে পারবে।

এরপর এল সেই অভিশপ্ত দিন। বাবার হার্ট অ্যাটাক। ১৯৮৯ সাল। ৭ জানুয়ারি।হাসপাতালে এক মাস জ্ঞান নেই। ডাক্তার আর এন চ্যাটার্জি দাদুকে রোজ জিজ্ঞেস করি, বাবা কবে সুস্থ হবে?

দাদু মাথায় হাত রাখেন। অবশেষে জ্ঞান ফিরল বাবার। কিন্তু এক আজব সমস্যা। সিগারেট খাবার জন্য এমন পাগলামি শুরু করলেন যে ডাক্তাররা ভাবলেন, বাবা কোনো বিশেষ নেশায় আসক্ত। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হল সঠিক কারণ জানার জন্য। তাতে বাবার হয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার জন্যে উপস্থিত হলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়,  তথ্য সংস্কৃতি বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য , ডিজি অর্চিস্মান ঘটক, মৎস সচিব সুজিত বন্দোপাধ্যায়, এবং সুনীল ও সন্দীপন সহ আরও কয়েকজন।

সেখানে সকলেই এক মত হলেন, সিগারেট ছাড়া বাবার অন্য কিছুতে আসক্তি নেই। যাহোক, সে যাত্রায় আরও দিন পনেরো পর বাবা বাড়ি ফিরলেও বাড়ির দরজা সমস্ত এলিট শ্রেণীর জন্য বন্ধ হয়ে গেল। ফলে আমাদের যোগাযোগ কমে গেল সকলের সঙ্গেই। কিন্তু এই সময় ডা আর এন চ্যাটার্জির ছেলে ডাক্তার বিশ্বজিৎ কাকুর সঙ্গে বাড়িতে আসার ছাড়পত্র পেলেন সন্দীপন।

সন্দীপনের যেসব বই সচরাচর ছোটোদের পড়া নিষিদ্ধ, আমি কিন্তু খুব সহজেই সেগুলো পড়ার ছাড়পত্র পেয়েছিলাম। ‘এখন আমার কোনো অসুখ নেই’, ‘আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি’, ‘জঙ্গলের দিনরাত্রি’। ১৯৮৯ এই উপহার পেলাম ‘হিরোসিমা মাই লাভ।’

জঙ্গলের দিন রাত্রি কি অরণ্যের দিন রাত্রি দেখে লিখেছ? শুনে হঠাৎ করেই হেসে উঠলেন তিনি।খানিক বাদে বললেন- ভাগ্যিস বললে না টুকে লিখেছ।

আসলে আমি এত না ভেবেই নামের সাদৃশ্য দেখেই প্রশ্ন করেছিলাম। পরবর্তী কালে দেখলাম ‘লাভ ইন দ্য ডেজ অফ কলেরা’, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের বিশ্বখ্যাত উপন্যাস, যার বাংলা অনুবাদ করেছেন কবীর চৌধুরী, সেই গ্রন্থের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সন্দীপন তাঁর উপন্যাসের নাম রাখলেন ‘কলেরার দিনগুলিতে প্রেম।’ এবং ডিসক্লেইমার দিলেন-“নামকরণে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘লাভ ইন দ্য ডেজ অফ কলেরা গ্রন্থ-নামটি বাংলায় ব্যবহার করেছি। কারণ, এছাড়া এই কাহিনীর আর কোনও নাম হতে পারত না। বলাবাহুল্য,  নামে ছাড়া ওই বইটির সঙ্গে এ রচনার আর কোনও সম্পর্ক নেই। অন্তত, থাকার কথা নয়। কেননা, নাম শুনলেও, বইটি এখনও হাতে আসেনি। একই নামের দু’জন মানুষ থাকে। একই নামের দুটি বই।”

যাহোক এই সময় থেকেই আমি সন্দীপনের লেখার প্রেমে পড়ে যাই। নেশার মতো পড়তে থাকি তাঁর এযাবৎ প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস।তাঁর একটি বইয়ের ব্লার্বে পড়েছিলাম তিনি লিখেছিলেন, “আমি প্রায় সবকিছুকেই মিথ্যে ও ভুল বলে ধরে নিয়েছি। সবচেয়ে বড় ভুল ও বেশী সন্দেহজনক মনে করেছি আমার আন্তরিকতাকে। কোনো ভোর ভালো লাগলে, কোথাও বাগড়ের পিছনে সূর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ হলে কোনোদিন, কাঁধে হাত রেখেছি নিজের, ‘সত্যি তো, নাকি বই পড়ে শিখেছ?’ জানতে চেয়েছি, ‘বা, এই রকম প্রচলিত বলে ভালো লাগছে।”

এই ব্লার্বের লেখা বা ভূমিকা নয় অথচ ভূমিকার থেকেও স্পষ্ট ভাবে ব্যাপ্ত লেখা আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করেছে বার বার। যেমন “ভারতবর্ষ” গ্রন্থে শুরুতেই লিখলেন- “ এই রচনায় ঘটমান কাহিনী এবং ভবিষ্যৎ আখ্যান রয়েছে পাশাপাশি; উদ্দেশ্য, পরপর এবং পাশাপাশি থাকতে থাকতে তারা কিছুদিন মেলামেশা করুক।”

এভাবে কেউ আগেভুমিকা লিখেছেন কিনা আমি জানি না। কিম্বা এই উপন্যাস যেখানে শেষ হচ্ছে, বইয়ের নাম বা লেখক কে না জেনে যদি পড়তাম ভাবতাম এ নির্ঘাৎ কোনো বিদেশি বইয়ের বঙ্গীয়করণ। “২০৪২ খ্রিস্টাব্দে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৫০ বছর পরে ভারতবর্ষে কুকুর-রাজ প্রতিষ্ঠা হয়। মিশরের মানুষের কাছে একসময় আরাধ্য দেবতা ছিলেন অ্যানুবিস নামে এক শৃগাল-দেবতা, পিরামিডের স্তম্ভগাত্রে আজও যাঁর ছবি আছে। ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতায় যাঁর প্রতিষ্ঠা হল তিনি দেব নন, দানবও নন, তিনি এক রক্তমাংসময় কুকুর।

এই কুকুর-রাজা ছিলেন মহামৌনী। আকারে বাছুরের মত উঁচু আর বড়, তাঁর হাঁ-করা চোয়াল থেকে জিভ সব সময়েই লম্বা হয়ে ঝুলে থাকত, ইনি সব সময় হাঁপাতেন ও থরথর করে কাঁপতেন এবং এর ঝুলন্ত জিভ থেকে টপটপ করে লালা ঝরে পড়ত। সমকালীন শ্বাপদতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক ড. ফ্রানসেসকা নিট-এর গবেষণা থেকে আমরা অবশেষে জানতে পারছি, এঁর বংশসূত্রের সন্ধান রাজস্থানের মরুঅঞ্চলে শিকারি কুকুর ভোলা প্রজাতির মধ্যে নেই, যা নাকি শুরুতে ভাবা হয়েছিল। প্রকৃত প্রস্তাবে, ওঁর বংশধারার উৎস পাপুয়া নিউগিনির প্রান্তসীমায় আইবম জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে। এদের সমাজেও আদিতে ছিলেন কুকুর-রাজা আইবম। রাজবংশ লুপ্ত হলেও সেই থেকে ওখানে কুকুর-তন্ত্র চলছে।

পাহাড়ের পর পাহাড় পেরিয়ে প্রৌঢ়া ফ্রানসেসকা তাঁর যুবক স্বামী আলফনসো নিটের সঙ্গে ওখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। আইবম জাতি গোষ্ঠীর পরিচয় ‘আইবমদের সমাজবিধি ও যৌন আচরণ’ গ্রন্থে তিনি অতি বিশদভাবে জানিয়ে গেছেন। ফ্রানসেসকা লক্ষ্য করেন, ওখানে প্রজাবৃন্দ মনুষ্যাকৃতির হলেও আচার-আচরণে তারা সুদূর অতীতের কুকুর-রাজাকেই অনুসরণ করে চলে। আজও তারা এঁটো খেতে ভালবাসে, জল চেটে খায়, লাথি খেলে সেই পা চাটতেই এগিয়ে যায় এবং সেখানেই মুখ গোঁজে। পরস্পরের পিছন শুঁকে তারা যা বোঝার বুঝে নেয়। এমনকি, রাজ-অনুকরণে সঙ্গমও করে নারীর নিতম্বের দিক থেকে। কুকুর-রাজার মৌন ইঙ্গিতে সৈন্যরা ছুটে যায় এবং শত্রুনাশ করে রাজ্যের সীমানা বাড়ায় ও দুর্গন্ধ মূত্রত্যাগ করে রাজ্যের বর্ধিত সীমানা চিহ্নিত করে।

ভারতবর্ষে এই সারমেয়-শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।”

এই যে লেখা এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর আগে ক-জন করেছেন! উপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও নারায়ণী চট্টোপাধ্যায়ের সপ্তম সন্তান সন্দীপনর জন্ম ২৫ অক্টোবর ১৯৩৩ সালে। প্রথম প্রকাশিত রচনা একটি ছোটগল্পের বই, ‘কৃতদশ কৃতদশী’ (১৯৬১); নয় বছরের বিরতির পর তাঁর দ্বিতীয় ছোটগল্প সংকলন ‘শমবেতো প্রতিদ্বন্ধী ও অন্যন্য’ প্রকাশিত হয়। এরপর ধারাবাহিক ভাবে লেখেন ‘বিপ্লব ও রাজমোহন’ (১৯৬৯)’, ‘শমেন পলিতের বৈবহিক’ (১৯৭০) এবং ‘২৫শে বৈশাখের সূর্য’ (১৯৭০)। ‘বিজনের রক্তমাংশ’ প্রকাশের পরপরই, যখন সবাই তাকে আলবার্ট কামুর সাথে তুলনা করতে শুরু করলে, সন্দীপন ঘোষণা করেন যে তিনি কামু পড়েননি। তবে, পরে তাঁকে পড়ার পর তিনি নিজেকে ‘কামু-কাতর’ (অর্থাৎ কামুর প্রতি শ্রদ্ধাবনত) বলে অভিহিত করেন। তার অন্যান্য প্রিয় ইউরোপীয় লেখক ছিলেন ফ্রানৎস কাফকা এবং জঁ জেনে। শঙ্খ ঘোষ মনে করতেন সন্দীপন ‘একমাত্র সমসাময়িক ইউরোপীয় মানসিকতার বাঙালি লেখক।’ অবশ্য সন্দীপন মনে করতেন, তিনি একেবারেই ভেতো বাঙালী।

অথচ ২০০২-এ আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘আমি ও বনবিহারী’ উপন্যাসের শুরুতেই লিখলেন সিগমুণ্ড ফ্রয়েডের বাণী, ‘আমি যতই বিশ্লেষণ করি না কেন, দেখি, সবার শেষে এক কবি বসে আছে।’ উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে; নামের নীচে লেখা কবি, নাট্যকার, মন্ত্রী…। সঙ্গে এ-ও লিখলেন, “১৯৬৭ থেকে ১৯৯৭—বামপন্থী রাজনীতির এই ঐতিহাসিক সময়টা বেছে নিলেও (এবং তার ব্যবহার যথাসাধ্য তথ্যনিষ্ঠভাবে করা সত্ত্বেও)—এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়।

এই ক্ষুদ্রকায় উপন্যাস লেখা হয় কেবলমাত্র একটি সমস্যার সমাধানের কথা ভেবে আর সেটা হল, একটা গদ্য-রচনা করা যায় কিনা যা হবে কবিতার মুখপাত্র। বিষয়ে এবং আঙ্গিকে—উভয়ত।”

কাহিনী শুরু হচ্ছে ঃ

“আমি এবং বনবিহারী এক লোক না। কিন্তু, বনবিহারী একথা মানে না। শুধু মানে যে না, তা নয়। সে আমার অস্তিত্বের কথা ভুলে গেছে।অবশ্য, তাকে দোষ দিই কী করে। আমি কে; বা, কী। কিছুই না। আমার তো একটা নামই দেয়নি কেউ। নিজের নাম আমি নিজেই রেখেছি।তাই, এমনই তো হয় আর সেটাই হরবখৎ, যখন তার ও আমার মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখাটা আমি নিজেই খুঁজে পাই না।সুধী পাঠক, আমাকে ‘প্রাণ’ বলে ডাকুন।”

‘টেলিফোন” গল্পে তিনিলিখলেন, “আজ ভোরের স্বপ্নটা যেমন। প্রথমে ছিল একটা নিরীহ পিঁপড়ে। ওই ফুর্ফুরে কালো পিঁপড়েগুলোর একটা। টয়লেটের ছায়াচ্ছন্ন দেওয়ালে উদ্বিগ্নভাবে ঘোরাঘুরি করছে। কমোডে বসে আমি নিরুপায়ভাবে লক্ষ্যও করছিলাম তাকে। কারণ, আর কী বা করব! গৃহীনির বায়ুগ্রস্ততাবশত বইটই দুরস্থান, পুরনো খবরের কাগজও টয়লেটে আনতে পাই না। আহা — পিঁপড়েটির উদ্বিগ্নতা, স্বপ্নের বোধ আমাকে প্রথমে জানাল, সে দলছুট একা বলেই। ক্রমে দেখা দিল তার মুখে একটি মৃত পিঁপড়ে। ও সে তাহলে শ্মশান খুঁজছে! তখন আমি পিঁপড়েটাকে তুলে সেই দেওয়ালের সেই গর্তের সামনে রাখতে গেলাম, যেখান থেকে হাজার হাজার বাস্তুত্যাগী পিঁপড়ে বেরিয়ে গেছে (সে সেটাই খুঁজছে)। ঠিক এই সময় আমার কাছে এবারের গল্পটি দেখা দিল। যখন মৃত পিঁপড়েটি তার মুখ থেকে আমারই অপরিণামদর্শিতার কারণে, ঝরে পড়ে গেল। স্বপ্নে শোনা গেল জলস্থল-অন্তরীক্ষ জুড়ে এক হাহাকার, যখন তার মুখ থেকে মৃতের শব ঝরে পড়ে গেল।…ক্রমে সেই শব্দই রূপবদল করল টেলিফোনের শব্দে।”

তাঁর সঙ্গে আমার আবার যোগসূত্র তৈরী হল ‘আজকাল’-এ কাজ করার সময়।তবে সেই সময় বাবাকে নিয়েই বেশী কথা হত, যা একেবারেই ব্যক্তিগত। কিন্তু একটি কথা প্রায়ই বলতেন, যা আমি আজও বিশ্বাস করি, সাহিত্যিক হতে গেলে আগে ভাষা ঠিক করতে হবে, তারপর বিষয়। অন্ততঃ তিনি এভাবেই দেখতেন।

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বকবিতা

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

রূপকথা নিয়ে কিছু কথা

This entry is part 10 of 10 in the series আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী ১ : বাস্তববাদ ও সাহিত্য

Read More »