অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা - তৃষ্ণা বসাক
অনুবাদকের কথা
তৃষ্ণা বসাক
পর্ব ১১
আজ ১৭ই মে প্রখ্যাত অনুবাদক লীলা সরকারের জন্মদিন। সম্প্রতি লীলা সরকারের মুখোমুখি হয়েছিলেন লেখিকা ও অনুবাদক তৃষ্ণা বসাক । এই লেখা অনুবাদকের জন্মদিনের উপহার। বাঙালি পাঠকের কাছে তাঁর পরিচিতিকরন অতিঅবশ্য কর্তব্য। রোদ্দুরের পক্ষ থেকে তাঁকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

লীলা সরকারকে বলা হয় মলয়ালমে বাংলা সাহিত্যের কণ্ঠস্বর, যিনি বাংলার ক্লাসিক সাহিত্যকে কেরালায় এনেছেন।
সিঙ্গাপুরে জন্ম, কেরালায় বেড়ে ওঠা এবং মুম্বাইতে বসবাস তাঁর। বাংলার কালজয়ী সাহিত্যকর্মগুলিকে মলয়ালমে অনুবাদ করেছেন। নব্বই পার করেও অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে করে চলেছেন নিরন্তর অনুবাদ, যা তাঁকে ভারতীয় সাহিত্যে একজন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একদিন ভোর সাড়ে চারটেয় ঘুম ভেঙে দেখি তাঁর মেসেজ, ‘তৃষ্ণা তোমার উত্তরগুলো পাঠালাম, কাল আবার লিখব’। মেসেজটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম। একজন মানুষ শতবর্ষ ছুঁতে যাঁর মাত্র আট বছর বাকি, তিনি এখনো বলতে পারছেন পরের দিন তিনি আবার লিখবেন। মুম্বাইয়ের মতো শহরে একদম একা থাকা, হাতে মাঝে মাঝেই ক্র্যাম্প ধরে, তার মধ্যেও তিনি নতুন বাংলা বই অনুবাদের কথা ভাবছেন। রোদ্দুর সানশাইনের জন্য অনেক অনুবাদকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, আরও নেব, কিন্তু এই একটি সাক্ষাৎকার নিতে পেরে, তাঁর কথা বাঙালি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে মনে হল জীবনে এই একটি পুণ্যের কাজ করলাম। বয়স ও শরীরের কারণে তিনি খুব বিশদে উত্তর দিতে পারেননি। কিন্তু যেটুকু দিয়েছেন তা আমাদের কাছে প্রেরণা হয়ে থাকল।
অশানি সংকেত (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) এর মতো অতুলনীয় ক্লাসিকসহ শতাধিক বাংলা বই মলয়ালমে অনুবাদ করে, লীলা সরকার কেরালার পাঠকদের বাংলা সাহিত্যের ধনসম্পদের সঙ্গে পরিচয় করানোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা
১৭ মে, ১৯৩৪ সালে সিঙ্গাপুরে জন্মগ্রহণ করা লীলা সরকারের শিকড় কেরালায়। তাঁর বাবা ডঃ কে.কে. মেনন, ত্রিশুর জেলার বাসিন্দা, এবং তাঁর মা ছিলেন থোট্টিপ্পালের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, তাঁর পরিবার কেরল ফিরে আসে, যেখানে তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। লীলা সেন্ট মেরি কলেজ, ত্রিশুর থেকে গ্র্যাজুয়েট হন এবং পরে মহারাজা কলেজ, এরনাকুলামে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
তিনি বাঙালি যুবক দীপেশ সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মুম্বাই চলে যান। তাঁর শাশুড়িকে বাংলা ভাষায় চিঠি লেখার জন্য, তিনি ভাষা শেখার চ্যালেঞ্জ নেন। তবে, যা একটি প্রয়োজন থেকে শুরু হয়েছিল তা দ্রুত এক অন্তরের তাড়নায় পরিণত হয়। যখন তিনি বাংলা সাহিত্যে ডুবে যান, তখন তিনি বুঝতে পারেন এই অসাধারণ সাহিত্যকর্মগুলি কেরালায় পরিচয় করানো কত দরকার।
তাঁর প্রথম অনূদিত গল্পটি 1978 সালে জনযুগম সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, যা সাহিত্যে অনুবাদের একটি আজীবন যাত্রার ভিত্তি স্থাপন করে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদগুলির মধ্যে রয়েছে :
– অনুরণ্যথিনতে অধিকরাম ( মহাশ্বেতা দেবীর অরণ্যের অধিকার, যার জন্য তিনি 1993 সালে সাহিত্য একাডেমি অনুবাদ পুরস্কার পেয়েছিলেন)
– মনসা বসুধা (শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মানবজমিনের অনুবাদ যার জন্য তিনি 2000 সালে কেরালা সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেছিলেন)
– বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশনি সংকেত
তিনি বিশ্বাস করেন যে একজন ভালো অনুবাদকের শুধুমাত্র ভাষা বোঝাই যথেষ্ট নয়। লীলা সরকার মূলত বাংলা সাহিত্য মলয়ালম পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিচিত হলেও, তিনি মলয়ালম রচনাকে বাংলায় অনুবাদ করার কাজেও হাত দিয়েছেন। যেমন বানপ্রস্থম, এম.টি. বাসুদেবন নায়ার, মথিলুকাল, বৈকুম মুহম্মদ বশীর। তবে লীলা সরকার স্বীকার করেন যে মলয়ালম থেকে বাংলায় অনুবাদগুলি ততটা উৎসাহজনক প্রতিক্রিয়া পায়নি, প্রধানত বাংলাভাষী পাঠকদের মধ্যে মলয়ালম সাহিত্যের সীমিত পাঠকের কারণে। লীলা সরকার স্থানীয় ভাষায় অনুবাদের প্রতি মনোযোগের কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আজকের অনেক অনুবাদ ইংরেজি থেকে করা হচ্ছে, একটি ভারতীয় ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নয়। তবে, তিনি সাহিত্যমূলক অনুবাদের ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বাড়ছে দেখে আশান্বিত।
তৃষ্ণা বসাক- প্রথমেই জানতে চাইব আপনার শৈশব, পরিবার, স্কুল, আর আপনার অনুবাদক হবার পেছনে কে বা কোন কোন ঘটনার প্রেরণা রয়েছে। সম্ভবত আপনার অনুবাদ জীবনে বিবাহের একটি বড় ভূমিকা আছে। সেটাও বিশদে জানতে চাই।
লীলা সরকার- আমি কেরলের সন্তান। বাবা ডাক্তার কে কে মেনন চাকরির সূত্রে সিঙ্গাপুরে ছিলেন সেখানেই আমার জন্ম। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ভারতবর্ষে ফিরে এলাম। আমার শিক্ষা কেরলাতেই। বাবা ডাক্তার, তাই আমারও ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হবার । কিন্তু পারিনি।
বাড়ির সকলেই মাসিক পত্র পত্রিকা পডত। সেজন্যই বিখ্যাত বাঙ্গালি লেখকদের গল্প উপন্যাস অনুবাদে পডবার সুযোগ পেয়েছিলাম।
এটা ঠিকই যে বিবাহের পর বাংলা শিখলাম, বাংলা প্রসার সমিতির ক্লাসে। তিন বছরের শেষে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ সার্টিফিকেট পেলাম। শেষ বছর থেকেই অনুবাদ করতে আরম্ভ করি। তবুও তা প্রকাশিত করব কখনও ভাবিনি।
তৃষ্ণা বসাক – – আমার পরের প্রশ্ন এই যে পরিবার ছাড়া কে বা কারা আপনাকে অনুবাদ করতে সবচেয়ে উৎসাহ দিয়েছেন? মলয়ালম সাহিত্য আমাদের দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্য, সে ভাষায় অনেক মহান লেখক আছেন। আপনার সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যিক কে এবং কেন তিনি প্রিয়? এখনো পর্যন্ত কাদের কাদের লেখা অনুবাদ করেছেন?
লীলা সরকার- মলয়ালি পাঠক পাঠকদের সাহিত্যতৃষ্ণা খুব বেশি।অন্য ভাষার জন্য আগ্রহের কারণে অনূদিত উপন্যাস সবসময় পাওয়া যেত। মলয়ালম লেখকদের মধ্যে এস কে পোট্টেক্কট, উর্বর, বিক্রম মুহম্মদ বশীর, এম টি বাসুদেব নায়ক এ সকলের রচনা আমার প্রিয়। বাংলাভাষা শিখেছি। উৎসাহ দিতে বা সংশোধন করতে কেউই ছিল না।বিয়ে হল, সেখানে শাশুড়ি মা শুধু শুদ্ধ বাংলা বলতেন। একদিন ঠিক করলাম তাঁকে বাংলায় চিঠি লিখব, লিখলামও। কি খুশি হলেন উনি, কী বলব ! অনুবাদ করে খুব আনন্দ পেতাম।
তৃষ্ণা বসাক-এই যে এত অনুবাদ করেছেন, এর পেছনে কি কোন বিশেষ পরিকল্পনা কাজ করেছে? মানে বলতে চাইছি, কেউ ঠিক করতে পারেন আমি শুধু নারীদের সাহিত্য অনুবাদ করব, বা দলিত সাহিত্য অনুবাদ করব, কারণ শুনতে পাই এর জন্য প্রকাশক পাওয়া একটু সহজ। তো আপনি কি বাজারে চলবে এমন কোন বিষয় বা লেখক অনুবাদের জন্যে এযাবত বেছেছেন? নাকি সেসব না ভেবে আপনার বিচারে যাঁরা মহান লেখক, তাঁদের লেখাই নির্বাচন করেছেন, যাঁদের অনুবাদ বাঙালি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত মনে হয়েছে? মোট কথা জানতে চাইছি, আপনার লেখক নির্বাচনের মাপকাঠি কী?
লীলা সরকার- যে গল্প বা উপন্যাস পড়ে ভাল লাগল সেসব আমার ভাষার লোকজনও পড়তে পাক, সেই ভাবনা থেকেই অনুবাদ করতে আরম্ভ করি। প্রকাশ করা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। আমি নামকরা কেউই নেই।আর একটা অসুবিধে ছিল, মূললেখকের অনুমতি পাওয়া । নামকরা অনুবাদকের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।আমার মনে হল পুরস্কৃত বইগুলো করলে হয়ত শীঘ্রই প্রকাশ করতে পারব।শ্রীযুক্ত এন বি কৃষ্ণবারিয়র বিমল করের আকাদমি পুরস্কার প্রাপ্ত উপন্যাস ‘অসময়‘ মাতৃভূমি পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশিত করেন।
তৃষ্ণা বসাক- এযাবত ঠিক কতগুলি অনুবাদ করেছেন? সবগুলিই কি প্রকাশিত হয়েছে?
লীলা সরকার- -১৯৭৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১১০টি বই অনুবাদ করতে পেরেছি।
তৃষ্ণা বসাক- আপনার কোন অনুবাদটির জন্যে লোকে আপনাকে চিনেছে এবং কোন অনুবাদটি সবথেকে বাণিজ্য সফল?
লীলা সরকার- -একটা গল্প সংকলন করেছিলাম হিন্দি থেকে, মুনশি প্রেমচন্দের গল্প , সেটাই হয়তো সবথেকে বাণিজ্য সফল।
তৃষ্ণা বসাক-একটা কথা আছে যে Translation is nothing but a negotiation. মলয়ালম থেকে বাংলা অনুবাদে বা বাংলা থেকে মলয়ালমে কি কথাটা খাটে? আপনি কি আক্ষরিক অনুবাদেই বিশ্বাসী? না অনুসৃজনে? আপনার অনুবাদের প্রসেসটা ঠিক কী রকম? প্রথমে আক্ষরিক অনুবাদ, তারপর ভাষাটিকে সুন্দর করার জন্যে অল্প হেরফের, নাকি অন্য কিছু?
লীলা সরকার – Negotiation কথাতেই বিশ্বাস করতে পারছিনা। ভাষা এবং মূল লেখকর ভাবনাকে ভাল করে জানতে হবে।অনুবাদও সর্বাত্মক কৃতি, এই আমার বিশ্বাস।
তৃষ্ণা বসাক- বাংলা থেকে মলয়ালম অনুবাদও তো আপনি করে থাকেন। সুনীল নালিয়াথের আগে আপনিই ছিলেন বাংলা ও মলয়ালম ভাষা সাহিত্যের প্রধান সেতু। এই সময়ের উজ্জ্বল মলয়ালম লেখক ই কে শিবা সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে স্থানীয় লাইব্রেরিতে আপনার অনুবাদে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী লেখকদের সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর এবং তাঁর প্রজন্মের পরিচয়, যেটা নিঃসন্দেহে একটি বিরাট ঘটনা। কী ভাবে এটা শুরু হল?
লীলা সরকার- আমার আগে আরও কয়েক নাম করা অনুবাদক ছিলেন , যাঁরা বাংলার বিখ্যাত ঔপন্যাসিকদের রচনা মলয়ালি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন।
তৃষ্ণা বসাক- আপনি ট্রান্সলেটর্স ব্লক কে কীভাবে ডিল করেন? এমন কোন ড্রিম প্রজেক্ট আছে যা আপনি অনেক দিন ধরে করতে চাইছেন?
লীলা সরকার- আমি কোনও block এ বিশ্বাস করি না।
তৃষ্ণা বসাক- আপনি ভারতীয় সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন। আপনার কি মনে হয়, এই বহুভাষিক দেশে অনুবাদের ভূমিকা অনেকখানি? তার জন্যে কি যথেষ্ট অনুবাদক আছেন? অনুবাদকদের সম্মান ও সাম্মানিক এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ঠিক কতটা অভাব আছে? কীভাবে তা উন্নত করা যায়?
লীলা সরকার- ভারতীয় ভাষাগুলির আরো প্রচার করা আবশ্যক মনে করি ।অনুবাদকের আর্থিক সমস্যা আছে বলেই মনে হয়।
তৃষ্ণা বসাক- আপনি কি কোন চাকরি করেছেন নাকি সংসার সামলানোর পাশাপাশি অনুবাদ? এই জার্নি কতখানি কঠিন ছিল? আর এখন নব্বই অতিক্রম করেও একাকী জীবনেও আপনার অনুবাদের খিদে বিস্ময়কর ভাবে বেঁচে আছে। এটা কী করে সম্ভব হল?
লীলা সরকার- আমি কিছুকাল চাকরি করেছি। তখন শুধু রাতেই অনুবাদ করতে পারতাম। ১৯৮৭ থেকে ২০০০ পর্যন্ত একা চেষ্টা করে বাংলা থেকে মলয়ালম অভিধান করেছিলাম। প্রকাশ করার সুবিধা ছিল না। আমার বোনের সাহায্যে প্রকাশিত হয়েছিল। পুরস্কারও পেলাম।
তৃষ্ণা বসাক- আপনার কোন কোন অনুবাদ সম্মানিত হয়েছে এখনো পর্যন্ত?
লীলা সরকার – কেন্দ্র সাহিত্য অকাদমির অনুবাদ পুরস্কার মহাশ্বেতা দেবীর অরণ্যের অধিকার’ এর অনুবাদের জন্য, ১৯৯৩ -এ , ২০০০-এ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যয়ের ‘মানবজমিন’ অনুবাদের জন্য কেরলা সাহিত্য অকাদমির পুরস্কার পেলাম।
তৃষ্ণা বসাক- আপনার অনুবাদক জীবনে হয়তো অনেক অসম্মান প্রত্যাখ্যান আছে, অসৎ প্রকাশক আছে, আবার নিশ্চয় এমন কিছু ঘটনা আছে, যা আজো আপনার কাজের স্পৃহা জাগিয়ে রেখেছে? সেইরকম কিছু স্মরণীয় ঘটনা, পাঠকের ভালবাসার কথা জানতে চাই।
লীলা সরকার- মন স্থির করে সঙ্কল্প করলে সবকিছু করা সম্ভব হয়ে উঠবে, তাই আমার বিশ্বাস। এখনও আমি একটা time table করে সব কাজ করি। আমি সম্মানের পিছনে যাই না, তাই অসম্মানের কথা উঠছে না।
আমার প্রকাশকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । মাতৃভূমি , ডি সি , গ্রীন, পূর্ণা প্রকাশকদের, s.p.c.s, national book trust, এঁরা সহৃদয় থেকেছেন। আর সাময়িক পত্রিকার সম্পাদকের ভুলতে পারব না। তাদের মধ্যে এন বি কৃষ্ণবারিয়র অনেক পরামর্শ দিতেন।
আমাকে প্রথম উপন্যাসের অনুমতি দেন শ্রী বুদ্ধদেব গুহ। সেই সময় কারোর অনুমতি পাচ্ছিলাম না, নিরাশ হয়ে সব ছেড়েই দিতাম।
শুধু দুই বার কোলকাতা গেছি। প্রথম বার রামপুরহাটের চৌধুরী এবং বুদ্ধদেব গুহর সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল। দ্বিতীয় বার সত্যজিৎ বাবুর সঙ্গ পেয়েছিলাম ।
তৃষ্ণা বসাক- এখন কি কোন বাংলা সাহিত্য অনুবাদ করছেন? তরুণ অনুবাদকদের জন্যে আপনি কিছু বলতে চান? কীভাবে তারা এগোতে পারে অনুবাদকে পেশা করে?
লীলা সরকার- সব দিক থেকেই আধুনিকতা এসে পডেছে। বেশিরভাগই মূল ভাষা নয়, ইংরেজি অনুবাদ থেকে অনুবাদ করতে ইচ্ছুক, তাতে কি সম্পূর্ণ ঠিক অনুবাদ হতে পারে?
তবুও অনেক নতুন অনুবাদকদের পরিশ্রম করায় উৎসাহিত করতে হবে। এক ভাষার রচনাগুলি অন্য ভাষার সাহিত্যপ্রেমিকের কাছে পৌঁছানোর এই একমাত্র উপায়।
অনুবাদকে পেশা করলে অর্থলাভ করা যায় বলে মনে হয় নি। copywrite rules অনুসারে পেশা করাটা মনে হয় এখনো অনেক কম।
তৃষ্ণা বসাক- অনেক ধন্যবাদ লীলাদি, এতটা সময় আমাদের দেওয়ার জন্য। আপনি এইভাবেই আমাদের মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে থাকুন এবং অনেক অনুবাদককে প্রেরণা দিন।
কলকাতা, ৪ মে ২০২৬


