আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল
আলোর পথযাত্রী
বিতস্তা ঘোষাল

“এখন আর মহাকাব্য বা মহাকবিতার সময় নয়। আজ যে দীর্ঘ কবিতাগুলি লেখা হচ্ছে, সেগুলি আসলে অনেকগুলি ছোট কবিতার ‘ব্রেক-জার্নি’। ধরো, তুমি এখান থেকে বখতিয়ারপুর গেলে, সেখান থেকে আবার অন্য একটি ট্রেনে উঠে রাজগির পৌঁছালে, তারপর বাসে চেপে নালন্দা গেলে—এইভাবে যাত্রা এগিয়ে চলে একাধিক বিরতি ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। সমকালীন দীর্ঘ কবিতার গঠনও অনেকটা তেমনই।
কিন্তু Canterbury Tales-এর তীর্থযাত্রার মতো সেই অবিচ্ছিন্ন যাত্রাপথ আজ আর ফিরে আসবে না। অবশ্য সেই যাত্রাতেও রাত্রিবাসের বিরতি ছিল; সারারাত কেউ পথ চলত না। আবার স্বামী বিবেকানন্দ যখন ভারতাত্মার সন্ধানে সমগ্র ভারত পরিভ্রমণ করেছিলেন, সেই অভিযাত্রাও তো এক রাতে সম্পন্ন হয়নি। সেই দুঃসাহসিক পথচলার মধ্যেও ছিল অসংখ্য বিরতি, বিশ্রাম, আত্মমন্থনের মুহূর্ত। দীর্ঘ যাত্রার প্রকৃত স্বরূপই যেন এই—অগ্রসর হওয়া, থেমে ভাবা, আবার নতুন করে পথচলা।”
এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন কবি প্রাবন্ধিক অনুবাদক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।তাঁর সঙ্গে আমার যে খুব পরিচয় ছিল বা দেখা হয়েছে এমনটি নয়।কিন্তু বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা মধুর ছিল। এই কারণে বলছি, তিনি সাধক জীবন কাটানোর পর্বে যে গুটিকয় মানুষের ফোন দেশ -বিদেশ থেকে এলে ধরতেন, কথা বলতেন তাঁদের মধ্যে তাঁর ফোনও থাকত। একটা সময় পর্যন্ত বাবার ফোন এলে আমি ধরতাম।তখন এমনভাবেই দু-তিন বার তাঁর ফোন ধরার সুযোগ হয়েছে।তবে তখন আমি তাঁর লেখা পড়িনি।পড়লাম ২০০২ সালে বাংলা অকাদেমিতে তাঁকে কেন্দ্র করে এক সাহিত্য সভায়। অবশ্য ‘অনুবাদ পত্রিকা’য় তাঁর অনুবাদ এর অনেক আগেই পড়েছি।আমি বলছি তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ এসবের কথা।এই আলোচনা সভায় একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হয়ে যাওয়ায় আগে তাঁর লেখা পড়তে হয় তাঁকে নিয়ে লেখার প্রয়োজনে।
কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার বার পাঁচেক টেলিফোনিক কথা হয়েছে ২০০৯ -১০ সাল এই সময়টায়।তিনি প্রতিবারই ফোন করে আমাকে বাবার কুশল জিজ্ঞেস করে ‘অনুবাদ পত্রিকা’র দায়িত্ব তখন যিনি সম্পাদনা করতেন, তাঁর ওপরেই ছেড়ে দিতে বলতেন।এবং প্রতিবার মনে করিয়ে দিতেন, ঘোষালের মেয়ের যোগ্যতা নেই অনুবাদ পত্রিকা সামলানোর।এবং আমি প্রতিবারই স্বীকার করতাম, তিনি যেটা বলছেন সেটা ঠিক, এবং যদি কখনো পত্রিকার সত্যিই দায়িত্ব নিই তাঁর আশীর্বাদ যেন পাই।
তাঁর আমার প্রতি অকারণ রূঢ়তা আমাকে কষ্ট দিত, কিন্তু আমি কোনোদিন তাঁকে অসম্মান করিনি।এরপর তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে, সামনাসামনি হলে ‘কেমন আছেন’ বলে প্রণামও করেছি।অনুবাদ পত্রিকা চেয়েছেন। পাঠিয়ে দিয়েছি- এটুকুই। কিন্তু ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে বাবা চলে যাবার পর তাঁর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়।সে কথা এতটাই ব্যক্তিগত যে তিনি বলেছিলেন,আমি যেন তা কখনো কোথাও না বলি।কিন্তু যে কথাটা আমাকে স্পর্শ করেছিল সেটার উল্লেখ না করলে এই কথা বলার দরকার ছিল না।তিনি বলেছিলেন, আমার যখন যে লেখা বা বই তিনি পেয়েছেন সংগ্রহ করেছেন। এমনকি আমার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘অপ্রেমের প্রবেশ পথ’ এবং উপন্যাস ‘ঘেরাটোপের নীল অতলে’ তাঁর খুব ভালো লেগেছে। আর একটা কথা বলেছিলেন, ‘আমাকে ভুল বুঝো না, অনেক সময় আমরা বাইরে থেকে ভেতরের কথা না জেনেই বিবাদে জড়াই। আশা করি সে সব মনে রাখবে না।”
না, রাখিনি।তাই এই লেখা লিখতে বসেছি।
অলোকরঞ্জনের জন্ম কলকাতায়, ১৯৩৩ সালের ৬ অক্টোবর। শৈশব কেটেছে সাঁওতাল পরগনার রিখিয়ায়। বিদ্যালয়ের পড়াশুনা বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনে। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। তাঁর পিএইচডি-র বিষয় ছিল বাংলা কবিতা। ১৯৫৭ সালে যোগ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে। এখানেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষকে।এরপর জার্মানির হামবোল্ট ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ নিয়ে জার্মানিতে গবেষণার কাজ করতে যান। ১৯৭২ সালে যোগ দেন হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভারততত্ত্ব বিষয়ের অধ্যাপক রূপে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সূত্রেই গত পাঁচ দশক ধরে হাইডেলবার্গের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কখনও কলকাতা ও কলকাতার সাহিত্যজগৎ থেকে দূরে যাননি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিটি বিষয়ে ছিল তাঁর অসীম আগ্রহ। আর সেই টানেই প্রতি বছর অন্তত একবার আসতেনই কলকাতায়। এখানকার সাহিত্যের পত্রপত্রিকার সূচিপত্রে ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি।
তাঁর কাব্যজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে। কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে তখনকার উল্লেখযোগ্য কবিতাপত্র আলোক সরকার সম্পাদিত ‘শতভিষা’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘কৃত্তিবাস’-এ। দু’টি পত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য অলোকরঞ্জনের কবিতা প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন- “কৃত্তিবাস’-এর ব্যাপারটাই ছিল চারপাশের প্রথাময়তাকে আঘাত করা, আর ‘শতভিষা’র ব্যাপার ছিল, প্রথার মধ্যে যা কিছু সংরক্ষণযোগ্য, তাকে তুলে আনা… আমার ওপর ‘কৃত্তিবাস’ বা ‘শতভিষা’ কোনো দিক থেকেই সেন্সর ছিল না। দুটো কবিতাপত্রের কোথাও এতটুকু শিবিরপনা ছিল না।”
প্রথমকাব্যগ্রন্থ ‘যৌবনবাউল’ ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কবি হিসেবে অলোকরঞ্জনের এই স্বাতন্ত্র্য তাঁকে দিয়েছে প্রতিষ্ঠা ও খ্যাতি। তিনি যখন কবিতা রচনা শুরু করেন তখন বাংলা কবিতা এক বাঁকবদলের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কাব্যাদর্শের বাইরে গিয়ে ততদিনে নতুন পথ, আদর্শ খুঁজে পেয়েছে। নতুন যুগের কবি তখন সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, কিন্তু সব ছাড়িয়ে জীবনানন্দের প্রভাব বনস্পতির চেহারা নিচ্ছিল। অন্যদিকে ছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথদের দাপুটে উপস্থিতি। সমাজবদলের স্বপ্ন বাংলা কবিতায় ডানা মেলেছিল। এমন পটভূমিতে অলোকরঞ্জন, আলোক সরকার, সুনীল, শঙ্খ ঘোষ, কবিতা সিংহ, নবনীতা দেবসেন প্রমুখ একঝাঁক কবির আবির্ভাব ঘটল। তাঁরা নতুন পথে চলতে চাইলেন। তিরিশের কবিদের মতো পাশ্চাত্য রীতিতে কবিতা রচনায় দেখা গেল এঁদের প্রবল অনীহা! আবার চল্লিশের কবিকুলের উদ্দেশ্যমূলক স্লোগানের কবিতা রচনার প্রবণতাকেও তাঁরা নস্যাৎ করলেন। এসবের পুরোভাগে যিনি ছিলেন তিনি হলেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। তাঁর কবিতায় শোনা গেল সম্পূর্ণ নতুন সুর। সেই সুর রাবীন্দ্রিক কাব্যাদর্শ থেকে বহুদূরে। আবার সেখানে জীবনানন্দের বিষণ্নতা, অস্তিবাদী চেতনার কোনো ছাপ নেই। শোষণমুক্তির স্বপ্নও তাঁর কবিতার আকাশে নিশান ওড়ায়নি। তাঁর কবিতায় এলো আঞ্চলিকতার স্বপ্ন, এলো মানুষ ও প্রকৃতিকে আবহে থাকা ঈশ্বরচেতনা, এলো সহজ যৌবনের গীতল সুর। এলো রোমান্টিকের সহজ বিস্ময়ের স্বপ্নিল উজ্জীবন। অন্ধকার পরিপ্রেক্ষিতকে স্বীকার করে আলোকের অভিসারের একান্ত এষণা!‘যৌবন বাউল’ থেকেই কবির এই অনন্য পরতন্ত্র জীবনদৃষ্টি ডানা মেলতে থাকে। রিখিয়ার গ্রামীণ বালক বুধুয়ার চোখ দিয়ে কবি নিজের অন্তরে উপচেওঠা অবাক বিস্ময় তুলে ধরেন : “এবার রিখিয়া ছেড়ে বাবুডির মাঠে/ বুধুয়া অবাক হয়ে হাঁটে,/ দেহাতি পথের নাম ভুলে/ হঠাৎ পাহাড়ে উঠে পাহাড়ের মতো/ মুখ তোলে/ ভাবে : ওটা কার বাড়ি, কার অতো/ নীল।”
‘অরণ্যমধু’, ‘দেবযান’, ‘নামখোদাই’ ইত্যাদি কবিতাতে এসেছে আঞ্চলিক পটভূমি-“অরণ্যমধু ভরে নিতে মৌচাকে/ শহুরিয়া যতো গ্রামে কেন বাঁধে/ ডেরা।।”
এরপর ‘নিষিদ্ধ কোজাগরী’। ঈশ্বরবিশ্বাসী, অলোকরঞ্জন এখানে প্রণিপাত করেছেন মানুষের দরবারে।গভীর বিশ্বাসে বলেন :‘যেদিকে ফেরাও উট, এই দ্যাখো করপুটে একটি গণ্ডুষ/ বিশ্বাসের জল, তুমি পান করো, আমি জল না খেয়ে মরব।’
এখন তিনি ক্ষমতাতন্ত্রকে বিদ্ধ করতেও অকুণ্ঠ। তাই লিখলেন ‘এক বেশ্যা অনায়াসে ভিতরমন্দিরে ঢুকে যায়’-এর মতো বিপ্লবী কবিতা। পরের কাব্যগ্রন্থ‘রক্তাক্ত ঝরোখা’। এই রক্ত অনেকটাই হৃদয়ের। স্বাধীন দেশে তখন বেকারি ছাইছে। বাড়ছে দারিদ্র্য। অর্থনৈতিক সংকট যাপনকে জটিল করে তুলেছিল। পাশাপাশি নতুন নাগরিক সংস্কৃতিও মানুষের মনকে জটিল করে তুলেছিল। প্রেমের সম্পর্কের আন্তরিক বিশুদ্ধতার জায়গাগুলোও ধূসর হচ্ছিল। বাড়ছিল ভুল-বোঝাবুঝি, বিশ্বাসঘাতকতা। এই সমাজবাস্তবতাই উৎকীর্ণ হয়েছে ‘বক্ষ্যমাণ’ কাব্যগ্রন্থে। ‘নাকের একটি নথ’ কবিতাটির সূচনা ধ্বস্ত প্রেমের কথায় : ‘চোখের সামনে শুধু মিলায় নিজস্ব রাজধানী পল-বিপলের কত শহর রক্তে উপার্জিত,/ভিতরবাগান ঘুরে এসে একহাঁটু জলকাদা/ যা ছিল খুব আলুথালু, ক্রমশ মার্জিত।’
এই অন্ধকারে আলোকজাগানিয়ার দেখা অবশ্য মিলেছিল :‘আমায়, তুমি স্তব্ধ থাকতে দাওনি/ আমার হাতে কলম দিলে, প্রদীপ জ্বেলে।’ কিন্তু সেই প্রদীপের আলো কুয়াশার অন্ধকার দূর করতে শেষ পর্যন্ত পারল না : পাঁচমাত্রার ছন্দে/যেই আমি কুয়াশা/ ধরতে গেলাম, বাণীবিহীন মন্ত্রে/ছমাত্রা কুয়াশা এসে ছিঁড়ল আমার/ ছাউনি॥
অলোকরঞ্জনের কবিতায় আবার বাঁকবদল‘ছৌ-কাবুকির মুখোশ’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থ থেকে।শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়, তাঁর আগামীকালের চলা যে দুইয়ের মধ্যে ফল্গুসঞ্চারী সামঞ্জস্যকে পাথেয় করেই তার ইঙ্গিত এর প্রথম কবিতাতেই আমরা পেয়ে যাই : ‘তুমি নারী ট্রাক্টর চালিয়ে এলে গমখেত থেকে আঙিনায়/ বীজগম নেবে বলে/ তোমার হাতে দেব বলে সোনারপুরের শাঙন কাজললতা/ যশোরের চিরুনি হাতে দাঁড়িয়ে আছি।’
এই নারী ভারতীয় নারী নয়। জার্মান নারী। ট্যুবিঙ্গেনের কিষানি সে। তার হাতে কথক সোনারপুরের কাজললতা এবং যশোরের চিরুনি তুলে দেওয়ার জন্য অপেক্ষারত। এইভাবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে মেলালেন।এই কাব্যগ্রন্থে ফ্রেস্কো, হিপি, বাভারিয়ার জঙ্গল, হাইডেলবার্গের মঞ্চ ইত্যাদির প্রসঙ্গ যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে দেশজ খালুই, সুন্দরবন, যযাতি, যামিনী কৃষ্ণমূর্তির কথা।
সোভিয়েত রাশিয়ার পতন, গাল্ফযুদ্ধে মানবতার অপমৃত্যু দেখে শিউরে ওঠেন কবি।এর অভিঘাতে তাঁর জীবন ও কাব্যদর্শনটাই বদলে যায়। চিন্ময় গুহের সঙ্গে এক কথালাপে এই বদলের দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে :‘এইখানে আমি বলব, বার্লিনের দেয়াল থেকে শুরু করে গাল্ফ যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার আবর্ত আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। তার কারণ আমি তাদের প্রত্যক্ষ সাক্ষী থেকেছি। … মিলেনিয়াম শেষ হওয়ার সময় আমার মনে হলো এইসব কথা আমি যদি এখন না ভাবি, যা ভাবছি তা যদি না বলি, তাহলে আমার অসততা করা হবে কবিতার কাছে।’
নিজের লেখার সার্থকতা সম্পর্কে তাঁর অবশ্য পরিষ্কার কথা- ‘আমিআমারআজন্ম-অর্জিত ভাষার পক্ষে লড়াই করে গেছি। এই কথাটুকু যদি আমার সমাধি-বেদিতে উৎকীর্ণ থাকে তাহলে আমি নিজেকে ধন্য বলে মানব।’
কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদও করেছেন অসংখ্য। ১৯৫৭ সালে, বন্ধু আলোক সরকারের সঙ্গে যুগ্মভাবে ‘ভিনদেশী ফুল’ নামে ফরাসি কবিতার অনুবাদ, শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে নানা ভাষার কবিতা নিয়ে সম্পাদনা ‘সপ্ত সিন্ধু দশ দিগন্ত’, ‘প্রেমে পরবাসে’, ‘হাইনের কবিতা’ ‘দক্ষিণ এশীয় ভাষাগুলি থেকে অনুবাদে সমস্যা’, প্রভৃতির পাশাপাশি বাংলা কবিতা, নাটক অনুবাদের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন জার্মান পাঠকদের কাছে। তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলির মধ্যে আছে ‘শরণার্থীর ঋতু ও শিল্প ভাবনা’,‘ ভ্রমণে নয় ভুবনে’ প্রমুখ।
পেয়েছেন ‘সাহিত্য অকাদেমি’, ‘আনন্দ’ ‘গ্যেটে’ সহ একাধিক পুরষ্কার ও সম্মান। তবু কেন জানি না মনে হয় ‘আত্মদানের/ আরপরিচর্যারজগতে/ খুঁজেপাইঅস্তিত্বেরমানে’–তাঁর নিপুণ প্রতিভা ও পরিশ্রমের মূল্য কি আমরা দিতে পেরেছি?



