১৬ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

১৬ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা - তৃষ্ণা বসাক

১ : অনুবাদের বাদ, বিসংবাদ ও সংবেদনা

২ : অনুবাদের অপযশ

৩ : অনুবাদ- ও  সাংস্কৃতিক ঔপনিবেশিকতা

৪ : শাসকের ভাষা, শাসিতের ভাষা এবং অনুবাদকের অবস্থান

৫ : অনুবাদকের সংকট

৬ : সংস্কৃতির অনুবাদ

 ৭ : অনুবাদের বাদ, বিসংবাদ ও সংবেদনা

৮ : অনুবাদের বাদ, বিসংবাদ ও সংবেদনা

৯ : অনুবাদের স্বর্ণযুগ : মধ্যযুগ  

১০ : অনুবাদকের কথা

১১ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

১২ : লেখক ও অনুবাদকের আন্তঃসম্পর্ক- অনুবাদক যখন নারী

১৩ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

১৪ : অনুবাদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

১৫ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

১৬ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

উর্দু ভাষা শেখার জন্য এক তরুণের ফুটপাথের জুতোর দোকানে বসে পাঠ নেওয়া—সেখান থেকেই শুরু। তারপর ধীরে ধীরে সেই ভাষার প্রেমে পড়ে বাংলা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন মির্জা গালিব, সাদাত হাসান মন্টো, ইসমত চুগতাই-সহ উর্দু সাহিত্যের অসংখ্য শ্রেষ্ঠ রচনা।

এই পর্বে বিশিষ্ট অনুবাদক পুষ্পিত মুখোপাধ্যায়-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর শৈশব, উর্দু শেখার রোমাঞ্চকর গল্প, অনুবাদ-দর্শন, গালিবের প্রতি গভীর অনুরাগ, অনুবাদক জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রকাশনা জগতের অভিজ্ঞতা এবং বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার আজীবন সাধনা।

অনুবাদ কি কেবল ভাষান্তর, নাকি এক সৃজনশীল পুনর্নির্মাণ? আক্ষরিক অনুবাদ কেন প্রাণহীন হয়ে পড়ে? বর্তমান সময়ে অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব কতখানি? তরুণ অনুবাদকদের জন্য তাঁর পরামর্শই বা কী?

‘অনুবাদের বাদ, বিসংবাদ ও সংবেদনা’-র এই পর্ব শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়; এটি এক নিবেদিতপ্রাণ অনুবাদকের আত্মকথন, যেখানে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিকতার সেতুবন্ধন একাকার হয়ে উঠেছে। অনুবাদের অন্দরমহলের অজানা গল্প জানতে এই পর্ব ।

তৃষ্ণা- প্রথমেই জানতে চাইব আপনার শৈশব, পরিবার, স্কুল,  আর আপনার অনুবাদক হবার পেছনে কে বা কোন কোন ঘটনার প্রেরণা রয়েছে।

উর্দুর প্রতি টান কোন বয়সে অনুভব করলেন? মূল ভাষাটি কীভাবে শিখলেন?

পুষ্পিত-সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের শৈশব যেমন কাটে,তেমনই কেটেছে আমার ছোট বেলা ।স্কুল যাওয়া ,টিউশনী পড়া,টুকটাক খেলা ধূলা। 

পরিবার বলতে বাবা ,মা,আমরা তিন ভাই,দুই দিদি। আমি ছিলাম সবার ছোট। রূপালি বিদ্যাকেন্দ্র নামে একটি পাঠশালায় চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা ।তারপর সিউড়ির বেণীমাধব হাইস্কুল থেকে হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করি ১৯৭০ সালে। তারপর বিদ্যাসাগর কলেজে। ওখানে তিন বছর কাটে। তারপর নানা কারণে পড়াশোনা এগোয়নি। 

    অনুবাদক হবার পেছনে তেমন প্রেরণা কারো কাছ থেকে পাইনি। ছোট থেকেই হিন্দি ভাষাটাকে আমি পছন্দ করতাম। হায়ার সেকেন্ডারী পাশ করার পর হিন্দি সাহিত্য পড়া শুরু করি। হিন্দিটা আমি খুব ভালো বলতে,পড়তে পারতাম। তৎকালীন হিন্দি গান আমার খুব প্রিয় ছিল। হিন্দি গান শোনার পাশাপাশি উর্দু গ়জ়ল আমার অত্যন্ত ভালো লাগত। বেগম আখতার,মেহেদী হাসান,গুলাম আলির গাওয়া গ়জ়ল শুনতে ভালো লাগত,কিন্তু   সব শব্দের অর্থ বুঝতাম না। সেজন্য একটা অস্বস্তিও হতো। জেদ চাপলো এই ভাষাটা যেমন করে হোক শিখতে হবে। 

   কলেজে পড়ার সময় থেকে টুকটাক সাহিত্য চর্চা ।উর্দু শেখার জন্য আমার স্কুলের শিক্ষক এক মৌলবি সাহেবের কাছে গেলে উনি বলেন উর্দু অক্ষর জ্ঞানের জন্য প্রাইমারী যে বই আছে সেটি সংগ্রহ করো। বইটির নামউর্দু কায়দা। কায়দা পুস্তিকাটি কেনার পর মৌলবি সাহেবের কাছে গেলে উনি বলেনআমার তো সময় নেই’, তোমাকে কোনো উর্দু ভাষীর কাছে হাতে কলমে শিখতে হবে। খুঁজতে শুরু করি। আমাদের এখানে মসজিদ মোড়ে রাস্তার ধারে চটি জুতোর ব্যবসা করতেন এক উর্দু ভাষী। আনোয়ার ভাই। ওনার সঙ্গে আলাপ করি। ওনার ফুটপাথের দোকানে বসেই চলত উর্দু শেখা ।কতো আর বয়স হবে তখন,তেইশ চব্বিশ বছর। 

উর্দু অক্ষর জ্ঞান হতেই উর্দু আঁকড়ে এগোতে থাকা। সঙ্গে বাংলা সাহিত্য চর্চা ।

মূলত উর্দু গ়জ়ল ,ঠুমরির প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও ভালবাসা ।উর্দু ভাষাটাই একটু সড়গড় হতেই বিভিন্ন লেখকের লেখা উর্দু ছোট গল্প পড়তে গিয়ে উপলব্ধি করলাম উর্দু বিশ্বের অন্যতম ঋদ্ধ ও মধুর ভাষা। 

তৃষ্ণা- আমার পরের প্রশ্ন এই যে পরিবার ছাড়া কে বা কারা আপনাকে অনুবাদ করতে সবচেয়ে উৎসাহ দিয়েছেন?  উর্দু সাহিত্য আমাদের দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্য, সে ভাষায় অনেক মহান লেখক আছেন। আপনার সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যিক কে এবং কেন তিনি প্রিয়?  এখনো পর্যন্ত কাদের কাদের লেখা অনুবাদ করেছেন?

পুষ্পিত-আমাকে অনুবাদ করতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন প্রয়াত ডক্টর সুধীর করণ মহাশয়,প্রখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক ও গবেষক ডক্টর শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্য্য মহাশয়,আমার মেজদা কবি দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ।

  উর্দু সাহিত্যে আমার প্রিয় লেখক সাদাত হসন মন্টো ।মন্টো এইজন্যই প্রিয় যে তিনি সমাজের নিষ্পেসিত ও অত্যাচারিত,খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের জীবন কথা নিখুঁত ভাবে তুলে ধরেছেন। উর্দু সাহিত্যে মন্টোর পূর্বে এইভাবে কেউ তুলে ধরেননি।  অবশ্য ইসমত চুগতাইও আমার অন্যতম প্রিয় লেখক। 

    এখনো পর্যন্ত ষাট সত্তর জন লেখকের লেখা অনুবাদ করেছি। 

তৃষ্ণা-এই যে এত অনুবাদ করেছেন, এর পেছনে কি কোন বিশেষ পরিকল্পনা কাজ করেছে? মানে বলতে চাইছি, কেউ ঠিক করতে পারেন আমি শুধু নারীদের সাহিত্য অনুবাদ করব, বা দলিত সাহিত্য অনুবাদ করব, কারণ শুনতে পাই এর জন্য প্রকাশক পাওয়া একটু সহজ। তো আপনি কি বাজারে চলবে এমন কোন বিষয় বা লেখক অনুবাদের জন্যে এযাবত বেছেছেন? নাকি সেসব না ভেবে আপনার বিচারে যাঁরা মহান লেখক, তাঁদের লেখাই নির্বাচন করেছেন, যাঁদের অনুবাদ বাঙালি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত মনে হয়েছে? মোট কথা জানতে চাইছি, আপনার লেখক নির্বাচনের মাপকাঠি কী? গালিব আপনাকে এত টানেন কেন?

 পুষ্পিত-এত অনুবাদ করার উদ্দেশ্য হলো বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা। 

না,আমি নির্দ্দিষ্ট কোন শ্রেণীর জন্য অনুবাদ করিনি । উন্নত মানের গল্প অনুবাদ করেছি। নারী বা পুরুষ বাছ বিচার করিনি। 

ঠিকই বলেছেন যাঁরা মহান লেখক তাঁদের লেখাই বেছে নিয়েছি। অবশ্য প্রতিভাবান তরুণ লেখকদের লেখাও অনুবাদ করেছি এবং বাঙালি পাঠকদের কাছে পোঁছে দেবার চেষ্টা করেছি। 

    গ়ালিব আমার এইজন্যই প্রিয় যে, গ়ালিবের লেখন শৈলী,দর্শন ও অসাধারণ গদ্য,বিশেষ করে গ়ালিবের চিঠিপত্র ও ভাষা আমাকে মুগ্ধ করেছে। গ়ালিব পূর্ববর্তী লেখকদের প্রচলিত ধারাকে ভেঙ্গে নূতন রূপ দিয়েছেন। গ়ালিবই আধুনিক উর্দু গদ্যের জনক। 

তৃষ্ণা-এযাবত ঠিক কতগুলি অনুবাদ করেছেন? সবগুলিই কি প্রকাশিত হয়েছে?

পুষ্পিত- এ যাবৎ অজস্র অনুবাদ করেছি। প্রায় সবগুলিই প্রকাশিত। 

তৃষ্ণা- আপনার কোন অনুবাদটির জন্যে লোকে আপনাকে চিনেছে এবং কোন অনুবাদটি সবথেকে বাণিজ্য সফল?

পুষ্পিত-গ়ালিবের চিঠি অনুবাদ করার জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছি। 

   মির্জ়া গ়ালিবের চিঠি ও গ়ালিব পত্রাবলী সব থেকে বাণিজ্য সফল। 

তৃষ্ণা-একটা কথা আছে যে Translation is nothing but a negotiation. উর্দু থেকে বাংলা অনুবাদে কি কথাটা খাটে? আপনি কি আক্ষরিক অনুবাদেই বিশ্বাসী? না অনুসৃজনে? আপনার অনুবাদের প্রসেসটা ঠিক কী রকম? প্রথমে আক্ষরিক অনুবাদ, তারপর ভাষাটিকে  সুন্দর করার জন্যে অল্প হেরফের, নাকি অন্য কিছু?

পুষ্পিত-  অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি অণুসৃজনে বিশ্বাস করি। 

আমার অনুবাদের প্রসেসটা হলো যখন যেখানে প্রয়োজন হয়। তবে আক্ষরিক অনুবাদ তো নয়ই। উর্দুর আক্ষরিক অনুবাদ করলে সেটা হবে নির্জীব অনুবাদ। অনুবাদকে প্রাণবন্ত করতে গেলে একটু স্বাধীনতা নিতেই হয়। 

তৃষ্ণা- বাংলা থেকে উর্দু অনুবাদও কি করেন? যদি না  করেন তবে কেন করেন না? এটাও তো দরকার।

পুষ্পিত- বাংলা থেকে উর্দু অনুবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও করিনি,কারণ নূতন করে অভ্যাস করতে হবে,যেটা এই বয়সে এসে আর সম্ভব নয়। 

তৃষ্ণা- আপনি ট্রান্সলেটর্স   ব্লক কে কীভাবে ডিল করেন? এমন কোন ড্রিম প্রজেক্ট আছে যা আপনি অনেক দিন ধরে করতে চাইছেন?

পুষ্পিত- হ্যাঁ, ড্রিম প্রজেক্ট আছে বৈকি,যেমন গ়ালিবের লেখা সমগ্র উর্দু চিঠির অনুবাদ করা। আটশোর অধিক। জানিনা এই জন্মে আর পারবো কিনা।

তৃষ্ণা-আপনি ভারতীয় সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন। আপনার কি মনে হয়, এই বহুভাষিক দেশে অনুবাদের ভূমিকা অনেকখানি? তার জন্যে কি যথেষ্ট অনুবাদক আছেন? অনুবাদকদের সম্মান ও সাম্মানিক এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ঠিক কতটা অভাব আছে? কীভাবে তা উন্নত করা যায়?

পুষ্পিত-   আমাদের এই বহু ভাষিক দেশে অনুবাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন মানুষের পক্ষে সব ভাষা জানা সম্ভব নয়। 

কাগজে কলমে বহু অনুবাদক আছেন। সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত  Transltor’s Register এ অজস্র অনুবাদকদের পরিচিতি আছে। কিন্তু এঁদের মধ্যে কতজন অনুবাদের কাজ করেন বা অনুবাদ সাহিত্যে সক্রিয় আছেন,আমার জানা নেই। 

   অনুবাদকদের সম্মান ও সাম্মানিক নিয়ে আগে তাচ্ছিল্যই  করা হতো। অনুবাদ সাহিত্যকে সাহিত্য হিসাবে গণ্যই করা হতো না। যদিও বিশ্বের বহু লেখক নিজের মৌলিক লেখার সঙ্গে সঙ্গে অনুবাদও করেছেন। তবে বর্তমানে কিছুটা হলেও অনুবাদ সাহিত্য গুরুত্ব পাচ্ছে। সাহিত্য অকাদেমি অনুবাদ সাহিত্যের ওপর সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ও দিয়ে থাকে। আর পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি  অনুবাদ সাহিত্যের জন্যলীলা রায়সম্মান দিয়ে থাকে। 

  প্রয়াত শ্রী বৈশম্পায়ণ ঘোষাল ই সম্ভবতঃ  সর্ব প্রথম বাংলা ভাষায় অনুবাদের ব্যাপারটা নিয়ে সচেষ্ট হন। বাংলায় অনুবাদ সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারে ওনার অবদান অপরিসীম। ১৯৭৫ সালে তিনিঅনুবাদ পত্রিকানামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁর প্রয়াণের পর তাঁর সুযোগ্যা কন্যা মাননীয়া বিতস্তা ঘোষাল অনুবাদ পত্রিকা ও অনুবাদ সাহিত্যকে  সর্ব ভারতীয় স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। অসামান্য এই পত্রিকাটি নানান পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছে।  একমাত্র এই অনুবাদ পত্রিকাই  অনুবাদকদের  যথেষ্ট সম্মান দিয়ে চলেছে এবং অনুবাদের জন্য সাম্মানিকও দিয়ে থাকে। এনাদের নিজেদের প্রকাশন সংস্থা আছেভাষা সংসদ।

তৃষ্ণা-চাকরির পাশাপাশি অনুবাদ করা কতখানি কঠিন ছিল?

পুষ্পিত-চাকরি করার পাশাপাশি অনুবাদ  করাটা আমার কাছে তেমন কঠিন ঠেকেনি। 

অনুবাদ সাহিত্যকে  ভালবাসা ও অনুবাদের প্রতি আকর্ষণটাই ছিল মূল। 

তৃষ্ণা- আপনার  কোন কোন অনুবাদ সম্মানিত হয়েছে এখনো পর্যন্ত?

পুষ্পিত- আমার অনূদিত দুটি বই সম্মানিত হয়েছে এখনো পর্যন্ত। 

মির্জ়া গ়ালিবের লেখা সিপাহী বিদ্রোহ চলা কালীন দিন লিপিদস্তবুঁপশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমী প্রদত্তলীলা রায়পুরস্কার লাভ করেছে। এছাড়াপ্রতিভাস প্রকাশনেরগ়ালিব পত্রাবলীসাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। 

তৃষ্ণা- আপনার অনুবাদক জীবনে অনেক অসম্মান প্রত্যাখ্যান আছে, অসৎ প্রকাশক আছে, আবার  নিশ্চয় এমন কিছু ঘটনা আছে, যা আজো আপনার কাজের স্পৃহা জাগিয়ে রেখেছে? সেইরকম কিছু স্মরণীয় ঘটনা, পাঠকের ভালবাসার কথা জানতে চাই।

পুষ্পিত-দেখুন,অনুবাদক জীবন কেন,মৌলিক লেখক জীবনেও অনেক অসম্মান প্রত্যাখ্যান প্রায় জনেরই থেকে থাকে, আমিও ব্যাতিক্রম নই। 

    আমার অনুবাদের জন্য বহু পাঠকের ভালবাসা ও সম্মান পেয়েছি। 

আমার লেখা উর্দু সাহিত্যের ওপর মৌলিক প্রবন্ধ,গল্প পাঠকের ভালো লেগেছে, পত্র পত্রিকায় প্রসংশিত হয়েছি ।

তৃষ্ণা-পুষ্পিতদা, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ  এতটা সময় আমাকে দেবার জন্যে। শেষে জানতে চাই আপনার ঠিক কতগুলি অনুবাদের বই আসছে সামনে এবং তাদের প্রকাশক কারা?

পুষ্পিত-  আপনাকেও ধন্যবাদ দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমার কথা শোনার জন্য। 

    আগামীতে দু তিনটে বই প্রকাশিত হতে চলেছে। সে গুলোর প্রকাশকপ্রতিভাস প্রকাশন,প্রাচ্য পাশ্চাত্য প্রকাশনী।

তৃষ্ণা-তরুণ অনুবাদকদের জন্যে আপনি কিছু বলতে চান? কীভাবে তারা এগোতে পারে অনুবাদকে পেশা করে?

পুষ্পিত-তরুণ অনুবাদকদের বলতে চাই, আপনারা অনুবাদ সাহিত্যকে ভালবাসুন। মূল ভাষাটি নিখুঁত ভাবে জানুন,চিনুন,বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে পারে এমন সব লেখা নির্বাচন করুন,এই টুকুই বলতে পারি। 

    অনুবাদকে পেশা করা আমাদের দেশে সম্ভব নয় বলে মনে করি।

তৃষ্ণা- এই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও ধর্মীয় মেরুকরণের সময়ে উর্দু সাহিত্যের অনুবাদের জন্যে আপনাকে কি কোন বাধা পেতে হয়েছে? তা কীভাবে সামলেছেন?

 পুষ্পিত-  উর্দু সাহিত্য অনুবাদের জন্য আমাকে কোন বাধা পেতে হয়নি। 

অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা - তৃষ্ণা বসাক

১৫ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

একজন ‘সাতচল্লিশের শিশুর কাহিনী’-র স্রষ্টা সাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 16 of 16 in the series অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা – তৃষ্ণা বসাক আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ :

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

একজন ‘সাতচল্লিশের শিশুর কাহিনী’-র স্রষ্টা সাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 16 of 16 in the series অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা – তৃষ্ণা বসাক আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ :

Read More »

ভারতের উৎসব : ঋতুচক্র, কৃষি ও সমাজ

This entry is part 16 of 16 in the series অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা – তৃষ্ণা বসাক ভারতের সংস্কৃতি সিরিজ – নবকুমার দাস ১ : সিন্ধু–সরস্বতী

Read More »