অম্লান দত্ত – এক বিশ্ব মানব

অম্লান দত্ত – এক বিশ্ব মানব

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

আলোর পথযাত্রী

২ : আলোর পথযাত্রী

…সৃষ্টির শেষ রহস্য, ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

“…সৃষ্টির শেষ রহস্য,ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন

কর্তার সিং দুগ্গল: এক বিরল স্রষ্টা

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন  

অম্লান দত্ত – এক বিশ্ব মানব

রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বকবিতা

এমন কী সন্দীপন যখন স্বপ্নে প্রবেশ করেন তখনও সে স্বপ্নের কোনও ওষ্ঠ নেই,উচ্চারণ নেই

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সোমক দাস : হৃদয়ের ছাইগুলি সযত্নে সাজিয়ে রাখার এক স্বতন্ত্র স্বর

টেবিল, দূরের সন্ধ্যা কবি পার্থপ্রতীম কাঞ্জিলাল

পিছনে ফিরে দেখতে বসে দেখি কত পথ পিছনে ফেলে এসেছি। সে পথে এক একটা পিলার হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত সব ব্যক্তিরা যারা আমাকে,আমার মতো অতি সাধারণ একটা মেয়েকে স্নেহ,ভালোবাসা, প্রশ্রয় দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিলেন।হয়তো তাঁরা বাবার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁদের যে যোগসূত্র তৈরি হলো তা সম্পূর্ণ আমার মতো করে।সেখানে আমি  বৈশম্পায়ন বাবুর মেয়ে পরিচয়টা গৌণ, মুখ্য ছিল আমি বিতস্তা নামের একটি মেয়ে যে চেষ্টা করছি কিছু একটা ভালো কাজ করতে যা হয়তে ভবিষ্যতে এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে থাকবে।

এমনই এক মানুষ অম্লান দত্ত। অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক, ভাইস চ্যান্সেলর এবং সর্বোপরি বাংলা ভাষার এমন বিদগ্ধ মানুষ হওয়া স্বত্বেও তাঁর মতো ব্যতিক্রমী ব্যক্তি আমি আজ অবধি খুঁজে পাই নি।

অম্লানকুসুম দত্তগুপ্ত। নামের থেকে ‘কুসুম’টি সরিয়ে আর পদবির ‘গুপ্ত’ গোপনে রেখে তিনি ছিলেন অম্লান দত্ত। ছোট থেকে বড় সকলের ‘অম্লানদা’।প্রথম যৌবনে তাঁকে এক জন প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি কী করেন?” উত্তরে অম্লান বলেছিলেন, “আমি চিন্তা করি।”

আমি তাঁকে ‘জ্যেঠু’ বলে ডাকায় তিনি বললেন, ‘যাক তোমাদের প্রজন্মের কেউ অন্তত এখনও বাবা কাকা জ্যেঠু ডাকছ দেখে ভালো লাগছে।’

প্রথম দিকে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কেন, জ্যেঠু বলব না? কি বলব তাহলে?’

‘দূর পাগলি, আমি তোমার জ্যেঠুই।’

তাঁর চিন্তা-চেতনাকে প্রভাবিত করার প্রধান তিন স্তম্ভ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, গান্ধী ও বার্ট্রান্ড রাসেল। আরও দু’জন তাঁর মনে সদাই সক্রিয় ছিলেন: কার্ল মার্কস ও মানবেন্দ্রনাথ রায়। তাঁকে ‘গান্ধীবাদী’ বললেও তাঁর লেখায় সবচেয়ে বেশি বার উচ্চারিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের নাম।তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন, গান্ধীর কিছু মতবাদ তাঁকে গভীর ভাবে আলোড়িত করলেও কেন তিনি সর্বাংশে গান্ধীবাদী নন। কিন্তু গান্ধীর শিক্ষা চিন্তা, পল্লি-সংগঠন এবং সর্বোপরি জীবনধারণে অত্যাবশ্যক বস্তুর অতিরিক্ত বিলাস-বাহুল্য ত্যাগের মহান আদর্শ তিনি নিজের জীবনে আমৃত্যু অনুশীলন করেছেন, যার তুলনা সহজে মেলে না। মাকড়সার জালের ডিজাইনের একটা ফতুয়ার মতো পাঞ্জাবি পরতেন—চারপাশে অজস্র ছেঁড়া সেলাই করা, তাপ্পি দেওয়া। আর বাইরে গেলে খাদির পাঞ্জাবি।

অম্লান দত্তের জন্ম অবিভক্ত বাংলার কুমিল্লার শিক্ষাশোভন বনেদি পরিবারে ১৯২৪ সালের ১৭ জুন। প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির কৃতী ছাত্র, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে অধ্যাপনা। আশুতোষ কলেজ(১৯৪৭) থেকে পরের বছর (১৯৪৮) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠ অধ্যাপক অচিরেই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি(১৯৭২-১৯৭৪ )পদে উন্নীত হন। তারপর উত্তরবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৪-১৯৭৭) থেকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে(১৯৮০-১৯৮৪) উপাচার্যের পদে ছিলেন। মাঝে বছরখানেক (১৯৭৮-৭৯) তিনি বারাণসীর গান্ধীয়ান ইনস্টিটিউট অব স্টাডিজ-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। আমন্ত্রিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী, আর্থিক উন্নয়ন ও শিক্ষার সমস্যা নিয়ে দেশবিদেশে তিনি বক্তৃতা দিয়েছেন, পড়িয়েওছেন। আবার ১৯৭৯-তে রাষ্ট্রসংঘের সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক কমিশনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই সমান পারদর্শী অম্লান দত্তের ক্ষুরধার মনীষাঋদ্ধ অসাধারণ লেখনীর পাশাপাশি আবু সয়ীদ আইয়ুবের সঙ্গে যৌথভাবে ইংরেজি ‘Quest’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ফর ডেমোক্র্যাসি’ পড়ে আইনস্টাইন ও রাসেল তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন, সেই বইতে যে প্রশ্নগুলি উত্থাপন করেছিলেন, বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে নিজেই তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, “ভারতের একটা ঐক্য আছে, সেটা কিন্তু মূলত সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় নয়।” তার পরেই বলছেন, “বিকেন্দ্রীকরণ ও মৌল বা ‘তৃণমূল’ স্বায়ত্তশাসনের ভিতর দিয়েই এই বৈচিত্র্যবিধৃত ঐক্য রক্ষা করা সম্ভব।”

একের পর এক প্রবন্ধের বই বেরিয়েছে তাঁর।‘গণযুগ ও গণতন্ত্র'(১৯৬৭), ‘প্রগতির পথ'(১৯৬৮), ‘সমাজ ও ইতিহাস'(১৯৭০), ‘পল্লী ও নগর'(১৯৭৩), ‘তিন দিগন্ত'(১৯৭৮), ‘ব্যক্তি যুক্তি সমাজ'(১৯৭৮), ‘কমলা বক্তৃতা ও অন্যান্য ভাষণ'(১৯৮৪), ‘গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ'(১৯৮৬), ‘সমাজ সংস্কৃতি স্মৃতি'(১৯৮৭), ‘উন্নয়নের তত্ত্ব ও ভবিষ্যৎ'(১৯৮৭), ‘দ্বন্দ্ব ও উত্তরণ'(১৯৮৯), ‘শান্তির সপক্ষে'(১৯৯২), ‘বিকল্প সমাজের সন্ধানে'(১৯৯৪), ‘অন্য এক বিপ্লব'(১৯৯৯), ‘মুক্তি তোরে পেতেই হবে'(২০০২), ‘যে কথা বলিতে চাই’ (২০০৯) প্রভৃতি।সত্তরের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ‘সমাজ ও ইতিহাস’ (১৯৭০) বইয়ের ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবপ্রসঙ্গে’ প্রবন্ধে তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ : “শ্রম, বিজ্ঞান ও মানবতাবোধ, দেশ গড়বার এই মূল উপাদান। সামাজিক মুক্তির কোনো ত্বরিত ও সহজ পথ নেই।” সেক্ষেত্রে রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের পরে বাংলার অসমাপ্ত সাংস্কৃতিক বিপ্লব জরুরি মনে করেছেন তিনি।

সারা জীবন ধরে তাঁর প্রধান জিজ্ঞাসা ছিল, মুক্ত সমাজে পৌঁছনোর পথ কী? তিনি বলছেন, “ভারতের একটা ঐক্য আছে, সেটা কিন্তু মূলত সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় নয়।” তার পরেই বলছেন, “বিকেন্দ্রীকরণ ও মৌল বা ‘তৃণমূল’ স্বায়ত্তশাসনের ভিতর দিয়েই এই বৈচিত্র্যবিধৃত ঐক্য রক্ষা করা সম্ভব।” 

প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একদিন করে তাঁর বাড়িতে যেতাম।তাঁর বসার ঘরের দেয়ালে তিন মনীষীর তিনটি ছবি। গান্ধী-রবীন্দ্রনাথ-শহীদুল্লাহ্।পাশে চিনা শিল্পীর আঁকা একটি বুদ্ধ পোর্ট্রেট। চিনে বক্তৃতা করতে গিয়ে উপহার পেয়েছিলেন। একদিকে টাইপ রাইটার, অন্য দিকে কালো পুরনো আমলের টেলিফোন।

শহীদুল্লাহ্-কে তখন পর্যন্ত আমি জানতাম না। বা তাঁর কোনো ছবিও দেখিনি। সে কথা বলায় বললেন- ‘তিনি অবিভক্ত বাংলার এক নাম করা ব্যক্তিত্ব।বিখ্যাত সাংবাদিক, উপন্যাসিক।কিন্তু এগুলোর বাইরে তাঁর মতো সরল,  অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ সুনীতিকুমার বাবুকে বাদ দিলে আমাদের দেশে আর তেমন কাউকে পাবে না। বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁর জীবনের কেন্দ্রে। ধর্ম এবং জ্ঞান দুই-ই অসাধারণ। সব মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন। আমি যেমন নির্জনতা ভালোবাসি। তিনি তেমন ছিলেন না। সাধারণ মানুষ তাঁকে পীরের মতো শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর মধ্যে অহংকার বলে কিছু ছিল না।’

মনে মনে বললাম, তোমার মতো মানুষও আমি আগে কখনো দেখিনি।

যারা তাঁর পরিচিত তাঁরা জানেন, তিনি একাই থাকতেন। রান্নাবান্না এক দিদি এসে সামান্য কিছু করে দিয়ে যেতেন। বাকিটা তিনি নিজেই সামলে নিতেন। আমি যাওয়ার সময় অধিকাংশ দিনই কিছু না কিছু খাবার নিয়ে যেতাম। সেসব খাবারের খুব সামান্য অংশ তিনি নিয়ে বাকিটা আমাকেই খাইয়ে দিতেন। যদি বলতাম, ‘জ্যেঠু চা, কফি করি,’ তিনি হেসে নিজেই উঠে যেতেন।তারপর ইলেকট্রিক কেটলিতে নিজেই করে আনতেন।

তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হত। বিশেষ করে বিশ্ব সাহিত্য নিয়ে। যেহেতু আমি সাহিত্যের ছাত্রী নই,তিনি আমাকে সবসময় উৎসাহিত করতেন এই বলে, ‘বিশ্ব সাহিত্যের অধিকাংশ সাহিত্যিকই সাহিত্যের ছাত্র ছাত্রী নন।’

বিশ্বের ইতিহাস নিয়ে অনেক গল্প হত।

তিনি বলতেন, ‘বিকল্প সমাজে দরকার।’

‘সেটা কেমন? সাম্যবাদের কথা মার্ক্স বলেছিলেন।’

‘তেমন নয়। সারা ভারতীয় উপমহাদেশ নিয়ে একটি পরিসংঘ বা সম্মিলিত রাষ্ট্র গড়ে উঠবে, সমগ্র উপমহাদেশের জন্য সৈন্যবাহিনী থাকবে শুধু একটি, অধিকাংশ গঠনমূলক কাজের দায়িত্ব থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলির হাতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রিত হবে যথাসম্ভব।’

-‘এ আদৌ সম্ভব?’

‘নিশ্চয়ই সম্ভব। বিশ্ব-ইতিহাস পড়লেই দেখতে পাবে এমন অনেক ‘অবাস্তব’ সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণতি লাভ করেছে।তুমি উৎসাহী হলে আমি তোমাকে দেখাতে পারি।’

তারপরেই বলতেন, ‘তুমি এখন কি ভাবছ?’

আমি তখন হয়তো কিছু অনুবাদ করার চেষ্টা করছি, কিম্বা খুব সামান্য কিছু লেখার চেষ্টা করছি, তিনি মন দিয়ে সেই লেখা শুনতেন। কোন কোন শব্দ অন্য ভাবে ভাবা যায় তাই নিয়ে বলতেন।এমন করে বহু প্রতিশব্দের ব্যবহার শিখে গেলাম।

একটা জিনিস লক্ষ করতাম তিনি যখন বাংলা বলতেন, একটিও ইংরেজি শব্দের ব্যবহার করতেন না। বারবার বলতেন, ‘যখন বাংলা লিখবে তখন কখনো ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করবে না।একান্তই যদি উপায় না থাকে তখনই কেবল লিখবে।’

তাঁর আর আমার মধ্যে বহু চিঠি লেখালিখি হত।দীর্ঘদিন সেসব আমার অফিসে ছিল।কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য অফিসে আগুন লাগলে অন্যান্য বহু গুরুত্বপূর্ণ বই খাতা ডকুমেন্টের সঙ্গে সেসব পুড়ে যায়।

জ্যেঠুর বাড়িতে শেষ যাবার কথা ছিল তিনি চলে যাবার আগের আগের দিন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ এ। তিনি নিজেই আমাকে ফোন করেছিলেন যেতে বলে।এবং দুপুরে খেতে বলেছিলেন। সেই মতো আমি বাড়ি থেকে বেরোই অল্প কিছু রান্না করে নিয়ে। কিন্তু যাওয়া হল না। খুব পরিচিত এক কবি ফোন করে বললেন, ‘অম্লানদা আজ তোমাকে আসতে বারণ করছেন।তুমি পরে ফোন করে এসো।’

আমি অবাক হয়েছিলাম তাঁর কথা শুনে। বললাম, ‘ফোনটা দাও, কথা বলি।’

তিনি বললেন, ‘না, তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না, বাথরুমে গেছেন। আমাকে তাই তোমাকে বলে দিতে বললেন।’

এরপর আর আমি যাই কি করে!

সেদিন সন্ধেবেলা জ্যেঠুর ফোন এল। ‘কি ব্যাপার তুমি এলে না? অনুরাধা বললেন, তোমার শরীর ভালো নেই, আসতে পারবে না জানিয়েছ। আমাকে জানালে না! আমি অপেক্ষা করছিলাম।’ 

আমি হতবাক হয়ে গেলাম। এ কী কথা বলছেন জ্যেঠু! আমি তো রাস্তা থেকে ফিরে এলাম ফোন পেয়ে। 

চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় মনে হল।

জ্যেঠু একটু চুপ থেকে নিজেই বললেন, ‘বুঝতে পেরেছি। তুমি কিন্তু এসব নিয়ে ভেবে নিজের কাজের অবহেলা কোরো না। তাতে সার্বিক ভাবে পত্রিকা ও তোমার ক্ষতি। লক্ষভেদ করার জন্য একাগ্রতা দরকার। তোমার তা আছে। আমি বলছি তুমি পারবে, মন শক্ত রেখে যা ঘটতে চলছে তার মোকাবিলা করো।’

বললাম, ‘কাল আসব?

বললেন, ‘কাল না এসে পরশু এসো।’

সেই পরশু গেলাম, তিনি তখন চির ঘুমের দেশে।

লিখতে বসে ভাবছি এই তো তিনি সোফায় বসে, আর আমি নিচে মাটিতে। তিনি আমি একটা করে কিছু জানতে চাইছি, তিনি উত্তর দিচ্ছেন। বলছেন, পৃথিবীর সব মহাপুরুষরা যা  যা বলে গেছেন সব রবীন্দ্রনাথ বলে দিয়েছেন।

-‘গান্ধীজিও’

– ‘হ্যাঁ।হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী…’ তারপরেই বললেন, ‘নাচটা জানলে করো তো! অনেকদিন তোমার নাচ দেখিনি।’

আজ ভাবছি, এই যে নির্ভেজাল ভালোবাসা,আশ্বাস, আশ্রয় এখনকার কার কাছে পাওয়া যায়! জীবন পথে চলতে চলতে কত বিখ্যাত মানুষের সান্নিধ্যে এলাম, কিন্তু তাঁর মতো করে আমাকে প্রশ্রয় দিল কে!কেই বা একদম সাধারণ একটা মেয়েকে এভাবে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধল! এটা আমার এক অর্থে যে কি বিশাল প্রাপ্তি ছিল তা আজ বুঝতে পারি।  

আলোর পথযাত্রী - বিতস্তা ঘোষাল

শঙ্খ ঘোষ এক বৃহত্তর জার্নি অথবা দর্শন   রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বকবিতা

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »

১৩ : অনুবাদের বাদ বিসংবাদ ও সংবেদনা

This entry is part 8 of 13 in the series আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল অনুবাদ বিষয়ক প্ৰবন্ধমালা – তৃষ্ণা বসাক ১ : অনুবাদের বাদ,

Read More »