১৪ : জিজীবিষা

১৪ : জিজীবিষা

This entry is part 14 of 17 in the series জিজীবিষা

জিজীবিষা

১ : জিজীবিষা

২ : জিজীবিষা

৩ : জিজীবিষা

৪ : জিজীবিষা

৫ : জিজীবিষা

৬ : জিজীবিষা

৭ : জিজীবিষা

৮ : জিজীবিষা

৯ : জিজীবিষা

১০ : জিজীবিষা  

১১ : জিজীবিষা

১২ : জিজীবিষা

১৩ : জিজীবিষা

১৪ : জিজীবিষা

১৫ : জিজীবিষা

১৬ : জিজীবিষা

১৭ : জিজীবিষা

শ্যামপুকুর থানার বড় ঘরে টেবিলের একপাশে বসে আছেন বড়বাবু। তার সামনে পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে জটাধারী তিন ‘সাধু’। পরনে গেরুয়া বসন, কপালে তিলক, কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে ধূর্ততা। সুমন্ত আর কল্যাণ ঘরে ঢুকতেই উনি ইশারায় তাদের বসতে বললেন।
বড়বাবু গম্ভীর স্বরে সুমন্তর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনারা এসেছেন ভালোই হয়েছে। দেখুন এদের, গতরাতে আপনার ঠাকুমার ‘পূরবী ভবন’ থেকে এদের পাকড়াও করা হয়েছে। অথচ এরা দাবি করছে এরা তীর্থযাত্রী, পথ ভুলে ওখানে আশ্রয় নিয়েছিল।”
সুমন্ত এক পা এগিয়ে গিয়ে একজন সাধুর চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “পথ ভুলে সীল করা বাড়ির পেছনের ভাঙা পাঁচিল দিয়ে ঢুকেছিলেন? আর তীর্থযাত্রীদের ঝোলায় মাদকের প্যাকেট আর বিদেশি মুদ্রা কী করছে?”
কর্কশ গলায় একজন সাধু উত্তর দিল, “ওসব আমাদের নয় বাবা! কে বা কারা ওখানে ফেলে গেছে আমরা জানি না। আমরা তো শুধু জপ-তপ করার জন্য একটু শান্ত জায়গা খুঁজছিলাম।”
কল্যাণ পাশ থেকে একটু রেগে গিয়ে বলে উঠল, “জপ-তপ নাকি জাল পাতা? “
কল্যাণের কথা শুনে সাধুদের একজনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
বড়বাবু এবার মুচকি হেসে বললেন, ” ঠিক ধরেছেন কল্যাণবাবু। জেরা করে জানা গেছে, ওই বাড়ির নিচে একটা পুরনো কুঠুরি আছে। জায়গাটা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক দপ্তরের লোকজনকে ডাকা হয়েছে। “
এক কনস্টেবলকে ইশারা করে বললেন, ” হরি সিং, এদের তিলক আর জটাগুলো একটু পরীক্ষা করো তো!”
কনস্টেবল এগিয়ে গিয়ে একজনের জটা ধরে টান দিতেই সেটা খসে এল। বেরিয়ে পড়ল ছোট করে ছাঁটা চুল। তিলকের নিচের আঠা খসতেই বেরিয়ে এল একটা গভীর কাটা দাগ।
অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সুকোমল বাবু চমকে উঠে বললেন, “আরে! এটা তো সেই ‘কাটা মানিক’! অবিনাশের সবথেকে বিশ্বস্ত লোক। পাঁচ বছর আগে খুনের আসামী হয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। খবরের কাগজে খুব লেখালেখি হয়েছিল”।
কাটা মানিক ধরা পড়ে গিয়ে বিদ্রুপের হাসিতে বলল, “চিনে ফেলেছেন যখন, তখন আর লুকাব না। কিন্তু জেনে রাখুন ওই ‘পূরবী ভবন’ আমাদের হাতছাড়া হবে না। ওটা দিদিমনি তিন নাতির নামে করে দিলেও ওখানে যা লুকানো আছে, তার নাগাল কেউ কোনোদিন পাবে.না।”
বড়বাবু কড়া গলায় বললেন, “সেই সুযোগ আর তোরা পাবি না মানিক। অবিনাশ কোথায়? পশ্চিমের চটকলের পর সে এখন কোথায় আস্তানা গেড়েছে?”
কাটা মানিক চুপ করে থেকে মাথা নিচু করল।
কল্যাণ বড়বাবুকে অনুনয় করে বলল, ” স্যার এদের কড়া রিমান্ডে নিন। পূরবী ভবনের সেই গোপন কুঠুরিতে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যা অবিনাশের জন্য খুব জরুরি। আমাদের এখনই ওখানে তল্লাশি চালানো দরকার।”
“ঠিক বলেছ কল্যাণদা। ঠাকুমার স্মৃতিমাখানো বাড়িতে নীল ডায়েরি, মেডেলিন, মেহেদিপুরের সিন্দুকের পরেও অবিনাশ ঠিক কী খুঁজছে, সেটা জানতেই হবে। ” সুমন্ত বিড়বিড় করে বলতে লাগল।
এরপর থানা থেকে ফিরে সুমন্ত আর কল্যাণ যখন ড্রয়িংরুমে ঢুকল, দাদু অতীশ তখন অস্থিরভাবে পায়চারি করছিলেন। পূর্ণা আর সুনীপা সোফায় বসে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছে। দুই ভাইয়ের গম্ভীর মুখ দেখে দাদু থমকে দাঁড়ালেন।
সুমন্ত দাদুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, “দাদু , সৌরীশদার আন্দাজই ঠিক। ওই সাধুগুলো আসলে অবিনাশের ‘কাটা মানিক’ আর ওর সাঙ্গোপাঙ্গ। ছদ্মবেশে ওরা পূরবী ভবনে আস্তানা গেড়েছিল।”
কল্যাণ এগিয়ে এসে বলল, “কিন্তু সবচেয়ে বড় খবর সেটা নয় দাদু। জেরা করতে গিয়ে বেরিয়ে এল, ওরা পূরবী ভবনের নীচে একটা পুরনো কুঠুরিতে ঢোকার চেষ্টা করছিল।”
দাদু অতীশ চমকে উঠে থমকে গেলেন, “কী বললে? পুরনো কুঠুরি? পূরবী ভবনের নিচে কোনো কুঠুরি আছে বলে তো আমি জানতাম না! রহমান ভাইয়ের কাছ থেকেও কোনোদিন তো এরকম কিছু শুনিনি।”
সুমন্ত নিশ্চিত করে বলল, ” হ্যাঁ দাদু, ওরা ওটাকেই ওদের গোপন যাতায়াতের সুড়ঙ্গ বা লুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার ছক কষছিল। কাটা মানিক বলছিল, ওখানে নাকি এমন কিছু আছে যা আমাদের নাগালের বাইরে।”
দাদু অতীশ কপালে হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লেন। “অসম্ভব! অবিনাশ কি তবে এমন কিছু জানে যা বাড়ির লোক হিসেবে আমরাও জানি না?”
পূর্ণা শঙ্কিত স্বরে বললেন, “তার মানে কি ওই বাড়িতে এমন কোনো পারিবারিক গোপন তথ্য বা সম্পদ আছে যার ওপর অবিনাশের নজর পড়েছে?”
সুনীপাও চিন্তিত মুখে বলল, ” দাদু, অবিনাশের মতো লোক তো শুধু আশ্রয়ের জন্য অত ঝুঁকি নেবে না। নিশ্চয়ই ওই কুঠুরিতে এমন কিছু আছে যা উদ্ধার করতে পারলে ওর ক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে।”
দাদু অতীশ চোখ বুজে কিছুক্ষণ ভাবলেন। “কুঠুরিটা যদি থেকে থাকে, তবে তার চাবিকাঠি বা হদিস নিশ্চয়ই তোমাদের ঠাকুমার সেই সিন্দুকে অথবা নীল ডায়েরিতে থাকার কথা। ” সুমন্তকে আরো বললেন, “সৌরীশকে বল কাল সকালেই যেন আমাদের উপস্থিতিতে ঐ কুঠুরীতে যাওয়া হয়। আমি দেখতে চাই আমার অজান্তে আমার বাড়িতে কী রহস্য দানা বেঁধেছে।”
“ঠিক দাদু। আমরা কালই পুলিশ নিয়ে ওখানে যাব। অবিনাশের শেষ আস্তানাটা আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।” কল্যাণ জল খাওয়ার জন্য বোতলের ছিপিটা খোলার সময় বলল।

জিজীবিষা

১৩ : জিজীবিষা ১৫ : জিজীবিষা

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 14 of 17 in the series জিজীবিষা

This entry is part 14 of 17 in the series জিজীবিষা আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর পথযাত্রী …সৃষ্টির শেষ রহস্য,

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

বিশ্বকে বাংলায় চেনার জানলা মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

This entry is part 14 of 17 in the series জিজীবিষা

This entry is part 14 of 17 in the series জিজীবিষা আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর পথযাত্রী …সৃষ্টির শেষ রহস্য,

Read More »