বিশ্বসাহিত্যের ধারা - রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
লোকনাটকের উৎসকথা আলোচনা করতে হলে লোকসংস্কৃতিতে ‘লোক’ বলতে কাদের বোঝায় তার সম্পর্কে ধারনা থাকা দরকার। ‘The Study of Folklore’ গ্রন্থে Alan Dundes “লোক”-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন – “The term ‘folk’ can refer to any group of people whatsoever who share at least one common factor. It does not matter what liking factor is – it could be a common occupation, language, religion – but what is important is that a group formed for whatever reason will have some tradition which it calls its own.” এই সংজ্ঞা অনুযায়ী বলা যায় যে, মানবগোষ্ঠীর সামাজিক রীতিনীতিতে প্রাচীন ধারা প্রবাহিত হয়ে চলেছে এবং যারা গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে সাধারণভাবে জীবিকা, ভাষা, ধর্ম ইত্যাদির ক্ষেত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে চলেছে তাদের “লোক” বলা হয়।
‘লোক’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ থেকে তার প্রকৃত স্বরূপ বোঝা যায় না। এই শব্দটির প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে হলে মানুষের সামাজিক বিবর্তনের ধারাকে পর্যালোচনা করতে হবে। ডঃ গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য মনে করেন – “সমাজবিবর্তনের এক বিশেষ পর্যায়ে জনসংখ্যার এক বিশেষ অংশকে আর এক অংশ যেদিন লোক বলে চিহ্নিত করেছিল সেদিন থেকে ‘লোক’ কথাটি চলে এসেছে।”
মানবসমাজের বিবর্তনের ধারার আদি যুগে মানুষের মধ্যে কোনওরকম শ্রেণীবিভাগ ছিল না। তখন সর্বস্তরের মানুষই ছিল “লোক” পর্যায়ভুক্ত। আদি সমাজে মানুষ কৃষিকাজ ও পশুপালন করত। সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের অস্ত্র-শস্ত্র, পাত্র, নৌকা প্রভৃতির বহুবিধ বস্তুর প্রয়োজন হল। তখন কিছু মানুষ এই সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করতে শুরু করল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পশ্রমিকে পরিণত হল। যে মানুষেরা কৃষিকাজ ও পশুপালন করত তাদের সঙ্গে এই শিল্পশ্রমিকদের পার্থক্য দেখা দিল এবং মানুষ প্রবণতা অনুসারে বিভিন্ন কাজ করতে শুরু করে। এর ফলে কালক্রমে মানবসমাজে শ্রমবিভাগ দেখা দেয়, যার ফলে শ্রেণীবিভাগের উদ্ভব হয়। এর পর থেকেই মানুষের মধ্যে কৃষ্টিগত পার্থক্য দেখা দেয়। শিল্পশ্রমিকরা একটি বিশেষ অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হয়ে শিল্পাঞ্চলের সৃষ্টি করে, যাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে শাসনতন্ত্রের কেন্দ্রস্থল গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলগুলি পরে শহর বা নগরে পরিণত হয়। শহরের কিছু লোক আবার বিনিময় প্রথার মাধ্যমে অধিক সম্পদের অধিকারী হয়। এইভাবে কিছু লোকের হাতে অধিক সম্পদ জমা হওয়ায় সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। এর ফলেও সমাজে শ্রেণীভেদ দেখা দেয়।
সমাজের এই শ্রেণীভেদ যখন খুব প্রকট হয়ে দাঁড়ায় তখন শহরের বাইরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষেরা পারিবারিক ঐক্য ও সমবেত শ্রমের উপর নির্ভর করতে শুরু করে। তাদের মধ্যে ভৌগোলিক ব্যবধান থাকার কারণে বহির্জগতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ খুব একটা ছিল না। এই কারণে চিরাচরিত বংশানুক্রমিক রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার প্রভৃতির উপর তাদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। ক্রমে তারা ঐতিহ্যের অনুসারী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের মনে নানা ধরণের সংস্কার বাসা বাঁধে। তাদের জীবনধারণের প্রধান অবলম্বন ছিল কৃষি, যার মধ্যে বৈচিত্র্য ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় তাদের মনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী সৃষ্টি হয় নি। তাই প্রকৃতিকে তারা রহস্যময় বলে মনে করত এবং একটি নির্ণায়ক শক্তি বলে ভাবত। এই কারণে তারা প্রকৃতিকে পূজা করত এবং বিশ্বাস করত প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করলে জমি থেকে উৎপাদন ভাল হবে।
সামাজিক বিবর্তনে কিছু মানুষ চিন্তাধারায় ও মননে অন্যদের থেকে এগিয়ে গেল। এভাবে এক নাগরিক পরিবেশের সৃষ্টি হল যেখানে দর্শন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ের চর্চার ফলে মানবপ্রজ্ঞা বিস্তৃততর হল। আর এই নাগরিক পরিবেশের বাইরে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠী তাদের চিরায়ত প্রাচীন ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে জীবনযাপন করতে লাগল। এদের মানসিক স্তর প্রাচীন এবং তার পরিবর্তনের গতিও ধীর। এই মানুষেরা সামগ্রিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীযুক্ত এবং ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে গ্রামে সংহতভাবে জীবন কাটায়। এদের মধ্যেই মানবসমাজের প্রাচীন ধারা প্রবাহিত হয়ে চলেছে এবং এরা গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনকে অবলম্বন করেছে। এই শ্রেণীর মানুষদেরই ‘লোক’ বলা হয়।
‘লোক’ বা বৃহত্তর অর্থে লোকসমাজের স্বরূপ বুঝতে গেলে প্রথমে এইসব মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলিকে অনুধাবন করতে হবে। এরা নিরক্ষর হতে পারে বা অক্ষরজ্ঞান থাকতে পারে। তবে নিরক্ষর হলেও এরা কিন্তু মূর্খ নয়, বরং non-trained বলা যেতে পারে। এদের গোষ্ঠীজীবন এবং নিজস্ব জন-অংশ (racial) আছে। এরা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল এবং ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন কাটায়। এদের জীবনযাপন, রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার সবই ঐতিহ্যমুখী (traditional)। সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ও সভ্যতার অগ্রগতি সত্বেও এদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারা মোটামুটিভাবে অপরিবর্তিত থেকেছে। এদের মধ্যে ব্যক্তিচেতনার কোনও গুরুত্ব নেই, যে কারণে লোকসংস্কৃতিবিদ চিত্ত মণ্ডল মন্তব্য করেছেন – “সবই সমষ্টিমননের, যৌথ প্রয়াস।”
‘লোক’-এর স্বরূপ বুঝতে গেলে মনে রাখতে হবে মানবসভ্যতার সূচনাপর্বে এক শ্রেণীবদ্ধ সমাজব্যবস্থায় এদের উদ্ভব। এদের অস্তিত্ব ও বিকাশ পুরোটাই কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় এবং সেই বিকাশের ভিত্তি হল অর্থনীতি। এর বাইরে এদের অস্তিত্ব আপাতদৃষ্টিতে দুরূহ ঠেকলেও তাকে অতিক্রম করার মতো চালিকাশক্তি (motive-force) আছে। আসলে এদের সংহত সমাজের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে মূলত ঐতিহ্যের পটভূমিতে। আচার-আচরণ ও রুচির ব্যাপারে এরা পুরোদস্তুর আঞ্চলিক ও সমসাময়িক। এইসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে নির্মলেন্দু মণ্ডল তাঁর ‘জনজীবন, সংহত গোষ্ঠী ও বাংলার লোকনাট্য’ প্রবন্ধে বলেছেন – “একটি নির্দিষ্ট সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে যদি ঐক্যবোধ ও সংহতি বজায় থাকে, যদি তারা পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর দাঁড়িয়ে একই ভাষা, একই ধর্ম, একই গোষ্ঠীচেতনার দ্বারা পরিশীলিত হন, যদি তাদের সৃজনশীলতা সামগ্রিক সমাজের সৃষ্টিতে পরিণত হয়ে ওঠে, তবেই তারা লোকসমাজের মধ্যে গণ্য হবেন।”
একটি লোকগোষ্ঠীকে সংহত হওয়ার জন্য বিশেষ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি থাকা দরকার। যখন লোকগোষ্ঠী এভাবে সংহত হয় তখন তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়। লোকসমাজের সংহত রূপ সৃষ্টির জন্য কয়েকটি বিশেষ দিকের সম্মেলন ঘটা প্রয়োজন। যেমন জীবনের নানা পর্বে এবং বছরের নানা তিথি ও অনুষ্ঠানে নৃত্য, বিশেষ ritual-এর প্রতি লোকগোষ্ঠীর সকলের আস্থাজ্ঞাপন এবং নিষ্ঠাসহকারে সেগুলি পালন করা অন্যতম দিক। সৃষ্টিতত্ত্ব, সৃষ্টির উৎপত্তি বিষয়ক তত্ত্ব, নানাপ্রকার মিথ প্রভৃতিতে সেই লোকগোষ্ঠীর সকলের সক্রিয় বিশ্বাস যেমন থাকা দরকার, তেমনই দরকার একই culture hero-র প্রতি বিশ্বাস। তাছাড়া নিজের গোষ্ঠীর সব মানুষের মধ্যে communication-এর জন্য বিশেষ মাধ্যমকে আবহমান কাল ধরে অনুসরণ করা এবং স্বগোষ্ঠীর নিজস্ব social institution-কে মান্য করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এরকম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি গোষ্ঠীর সকল মানুষের জীবন একই অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক জীবনচর্চা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া। এইসব দিকগুলির সম্মেলনের ফলে যে সংহত লোকসমাজ সৃষ্টি হয়, সামগ্রিকভাবে তার অন্তর্ভুক্ত মানুষদেরই বলা হয় ‘লোক’।
লোকগোষ্ঠীর আচার-আচরণ, জীবনধারা, শিল্প, ললিতকলা প্রভৃতির সামগ্রিক প্রকাশকে লোকসংস্কৃতি বলা যায়। লোকমানসের স্তরেই লোকসংস্কৃতির উদ্ভব হয়। লোকসংস্কৃতি বৃহত্তর মানবসমাজের অন্তর্গত বিশেষ একটি লোকগোষ্ঠীর সামগ্রিক পরিচয় বহন করে। লোকসংস্কৃতির প্রকাশ নানাভাবে হতে পারে, যেমন – লোকবিশ্বাস, লোকসংস্কার, লোকাচার, লোকধর্ম, লোকউৎসব, লোকশিল্প, লোকনৃত্য, লোকসাহিত্য ইত্যাদি। লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ আর্চার টেলর বলেছেন – “Folklore is the material that is handed on by tradition, either by word or mouth or by custom and practice. It may be folk-songs, folk-tales, riddles, proverbs or other materials preserved in words. It may be traditional tools and physical objects like fences or knots, hot cross buns and easter eggs; traditional ornamentation like the walls of troy; or traditional symbols like the swastika. It may be traditional procedures like throwing salt over ones shoulder or knocking on woods. It may be traditional beliefs like the notion that elder is good for ailments of the eye. All these are folklore.”
লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে ডঃ মযহারুল ইসলাম তাঁর ‘ফোকলোরের পরিচিতি’ গ্রন্থে বলেছেন – “ফোকলোর সাধারণ মানুষের সৃষ্টি, অশিক্ষিত মানুষ মুখে মুখে এগুলোর সৃষ্টি করে এবং সব ক্ষেত্রেই তা ব্যক্তির সৃষ্টি, তবে মাঝে মাঝে দলগতভাবেও সৃষ্টি হতে পারে, যেমন, কোনো সংগীত বা গীতিকা, হেঁয়ালী, ক্ষুদ্রকাহিনী, প্রবাদ ইত্যাদি। তবে ব্যক্তির বা ব্যষ্টির সৃষ্টি হলেও কালের প্রবাহে যখনই সে সৃষ্টি একটি ব্যাপক জনসমাজের সামগ্রী হয়ে ওঠে, তখনই তা ফোকলোর হয়। এগুলো সাধারণত মুখে মুখেই জন্মলাভ করে এবং মুখে মুখেই পূর্বপুরুষের নিকট থেকে পরবর্তী পুরুষে চলে আসে, পালিত হয় এবং বেঁচে থাকে। মুখে মুখেই এগুলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে এবং এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে ভ্রমণ করে।”
লোকসংস্কৃতির উপাদানগুলি ঐতিহ্য-আশ্রয়ী এবং কথাবার্তা, আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। চরিত্র ও গঠন অনুযায়ী লোকসংস্কৃতিকে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে – বস্তুনির্ভর ও অবস্তুনির্ভর। বস্তুনির্ভর লোকসংস্কৃতি মধ্যে পড়ে পোষাক, কুটির শিল্প, ভাস্কর্য, বিভিন্ন রকম পাত্র, দেওয়াল চিত্র প্রভৃতি। অন্যভাবে বললে লেখ্য বিষয়ের সাহায্য ব্যতীত বিশেষ লোকগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি যে সব বস্তুর দ্বারা রূপায়িত হয় সেগুলিই বস্তুনির্ভর লোকসংস্কৃতি। পক্ষান্তরে বিভিন্ন প্রবাদ, ছড়া, ধাঁধাঁ, গীতিকা, লোকসংগীত, লোকনৃত্য, লোকনাটক, লোকপুরাণ ইত্যাদি অবস্তুনির্ভর লোকসংস্কৃতির মধ্যে পড়বে। আসলে অবস্তুনির্ভর লোকসংস্কৃতি হল লোকসাহিত্য, যা লোকসাধারণের মুখে মুখে রচিত ও প্রচারিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ লোকসাহিত্য সম্পর্কে বলেছেন – “নিয়ত পরিবর্তনশীল অন্তরাকাশের ছায়ামাত্র, তরল স্বচ্ছ সরোবরের উপর মেঘক্রীড়িত নভোমন্ডলের ছায়ার মতো।” লোকসাহিত্য স্রষ্টার মুখে মুখে সৃষ্টি হয় এবং মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে বেঁচে থাকে। লোকসাহিত্য কোনও একজন বিশেষ ব্যক্তির রচনা হলেও তা একটি সমাজের সামগ্রিক সৃষ্টিতে পরিণত হয়। সেখানে স্রষ্টার আলাদা কোনও পরিচয় থাকে না। সেইজন্যই ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য বলেছেন – “লোকসাহিত্য সংহত সমাজের সামগ্রিক সৃষ্টি।” এই বিষয়ে ‘Standard Dictionary of Folklore and Mythology’ গ্রন্থে মারিয়া লীচ আরও বিস্তারিতভাবে বলেছেন – “All aspects of folklore, probably originally the products of individuals, are taken up by the folk and put through a process of recreation, which through constant variation and repetition become a group product.” লোকসমাজ তাদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা থেকেই লোকসাহিত্য সৃষ্টি হয়। এই সাহিত্যের মধ্যে লোকসমাজের চিন্তাধারা, মনন ও সমাজচিত্র যেমন ধরা পড়ে তেমনই তাদের আনন্দও দান করে।
লোকনাটক হল অবস্তুনির্ভর লোকসংস্কৃতির একটি অঙ্গ। অনেক ফোকলোর বিশেষজ্ঞ লোকনাটককে যে ভঙ্গিগত বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন তার নাম formalized folklore। লোকনৃত্য, ইঙ্গিত ও সংকেত লোকনাটকের অঙ্গীভূত হতে দেখা যায়। ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য বলেছেন – “লোকনাট্য লোকজীবনের কাহিনির উপর ভিত্তি করে মুখে মুখে রচিত এবং অভিনীত নাটক। কোনো পৌরাণিক কিংবা ঐতিহাসিক কাহিনি তার ভিতরে প্রবেশ করা সঙ্গত নয়, তার কাহিনিতে পূর্ববর্তী কোনো ধারা বা ঐতিহ্য থাকে না।” এই বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই ভিন্নমত পোষণ করেন। ডঃ বরুণ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন – “লোকনাট্য লোকজীবনের কাহিনির ওপরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ভরশীল, কারণ তবেই তা সংহত সমাজের কাছে আদৃত হয় বহুল পরিমাণে, নিজেদের সমাজে অনুষ্ঠিত কোনো ঘটনার প্রতিফলন যখন তারা নাটকে দেখে, তখন তা এক বিশেষ আগ্রহ সঞ্চার করে দর্শক সমাজে নিঃসন্দেহে। কিন্তু তাই বলে পৌরাণিক কিংবা ঐতিহাসিক বিষয়কে লোকনাট্য আত্মসাৎ করতে পারে না, এমন বক্তব্য যথার্থ নয়। কারণ তাহলে রামায়ণ অবলম্বনে কুশান, ঐতিহাসিক কাহিনি অবলম্বনে মানপাঁচালি, কিংবা রামযাত্রা, কৃষ্ণযাত্রা ইত্যাদির মতো লোকনাট্যগুলির উদ্ভব হতো না। তবে লোকনাট্য যে পূর্ববর্তী কোনো ধারাকে অনুসরণ করে রচিত হয় না একথা ঠিক। আর লোকনাট্য যে মৌখিকভাবে রচিত হয়, কোনো লিখিত রূপ এর থাকে না, এটিও এর এক বৈশিষ্ট্য।”
লোকনাটক কোনও ব্যক্তির দ্বারা রচিত হলেও তা লোকসমাজের সৃষ্টি বলে পরিচিতি পায়। বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতিবিদ ডঃ নির্মলেন্দু ভৌমিক মনে করেন লোকনাটক হল – “Myth ও Rituals মিলিত হয়ে কোনো সংহত লোকগোষ্টীর মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তারই নাট্যরূপ।” কিন্তু লোকনাটকের মৌল চরিত্রের সবকটি দিক এখানে নির্দেশিত হয়নি। ‘বাংলা লোকনাট্য : কয়েকটি দিক’ শীর্ষক প্রবন্ধে মানিক সরকার বলেছেন – “লোকাশ্রিত কাহিনি, কাহিনি আশ্রিত চরিত্র, চরিত্র অনুযায়ী উক্তি-প্রত্যুক্তি সহজ সরল এবং বলিষ্ঠতার সঙ্গে লোক-গীতি-নৃত্য স্বল্প সংলাপ এবং লৌকিক বাদ্যযন্ত্রের ঐকতানের মাধ্যমে ঋজুদৃঢ় ভাবভঙ্গির দ্বারা লোকাকীর্ণ উন্মুক্ত আসরে অভিনয়ের সাহায্যে যা প্রকাশ করা হয় তাই-ই সাধারণ অর্থে লোকনাট্য (ফোকড্রামা)।” এ ছাড়াও লোকনাটকের মৌলচরিত্রের আরও কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল – এটি তাৎক্ষণিকভাবে রচিত হয়, এর কোনও লিখিত রূপ থাকে না, এটি সবসময় মৌখিক হয়ে থাকে এবং লোকভাষা বা আঞ্চলিক উপভাষায় রচিত হয়। মনে রাখতে হবে লোকনাটক সর্বদা লোকায়ত সমাজগ্রাহ্য এবং সমসাময়িক লোকায়ত সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়।
লোকনাটকের উৎস অনুসন্ধান করলে সেই আদিম সমাজের দিকে তাকাতে হবে যখন ভাষার সৃষ্টি হয়নি। তখন মানুষ শিকার করে ফিরে এসে নিজের গোষ্টীর কাছে নানা অঙ্গভঙ্গী ও ইঙ্গিতের সাহায্যে তার বর্ণনা দিত। পরবর্তীকালে মানুষ যখন সমাজ গঠন করে কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু করে তখন ভূমি, শস্য ও গৃহপালিত জীবজন্তুর উৎপাদিকা শক্তির স্তুতিমূলক অনুষ্ঠান করত। সমাজের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের জীবনে ধর্ম ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন লোকসমাজে সূর্য-উপাসনা প্রচলিত হয়েছিল। সূর্য এবং তার উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ গতিকে কেন্দ্র করে ভারতে বহু লোকউৎসবের সৃষ্টি হয়েছে। ডঃ দুলাল চৌধুরী বলেন – “সেই সব উৎসবের কেন্দ্রীয় দেবদেবী মূলত কৃষির দেবতা, কৃষির কৌল প্রতিমা। মানুষ শস্য রোপন ও ফল চয়নের আনন্দকে প্রকাশ করেছেন উৎসব ও মেলায়। সেদিনের লোকজীবন ও সমাজের পূজা বা অনুষ্ঠানের গোড়ার কথা ছিল নাচ ও গান এবং স্ত্রীপুরুষের মিলন ও আমোদ উৎসব।”
একইভাবে বাংলার অনেক লোকউৎসবের সৃষ্টি হয়েছে। আদিপর্বের বাঙালিরা শস্যরোপণ ও ফল-ফুল তোলার আনন্দকে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করত। ডঃ দুলাল চৌধুরী মনে করেন – “তবে লিখিত সংস্কৃতির ধারার সঙ্গে অলিখিত মৌখিক একটি ধারাও প্রাচীন কাল থেকেই চলে এসেছে। এই অলিখিত সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের ধারা অনুসরণ করে বলা যায় সূর্য পূজাই সমাজের আনন্দের একমাত্র নাটকীয় অভিব্যক্তি। সূর্যপূজাকে ‘সূর্যযাত্রা’ বলা হয়। পরবতীকালে এই যাত্রা কথা দিয়ে বহু লোকশ্রুতি, যেমন কৃষ্ণযাত্রা, দৈবযাত্রা, রথযাত্রা, রাসযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদি প্রচলিত হয়।” উৎসবকে কেন্দ্র করে নাচ-গান অনুষ্টিত হত বলে একে ‘নাটযাত্রা’ বলা হত। বস্তুত নাচ ও গানকে আশ্রয় করেই লোকসমাজে অভিনয়ের বিকাশ ঘটে। অভিনয়ের মধ্যে তখন সংলাপ গুরুত্ব পায়নি, গানগুলি ছিল সংলাপের বিকল্প।
লোকসাধারণকে আনন্দ দেওয়ার জন্য নাচ, গান, অঙ্গভঙ্গি, ইঙ্গিত সহযোগে অভিনয় কলার সৃষ্টি হয়। এইভাবে নানা ধরনের গীত, গীতিকা ও পালার সৃষ্টি হয়। মুখোশ পরে বা মুখে রং লাগিয়ে নানা ভাবের গান পরিবেশন করা হত, যাকে ‘সঙ’ বলা হয়। এগুলোর সবকিছুই লোকনাটকের অঙ্গীভূত হয়ে যায়। তাই ডঃ দুলাল চৌধুরী-র অভিমত – “বাংলার লোকনাট্য উদ্ভবের অন্তরালে গীত, পালা, গীতিকা, যাতপরব, সঙ এবং বিভিন্ন লৌকিক নৃত্য, পট, পুতুল এগুলির যৌগিক প্রভাব রয়েছে।”
বাংলার ব্রতকথাগুলি লোকনাটকের অন্যতম উৎস । অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন – “ব্রত হচ্ছে মানুষের সাধারণ সম্পত্তি। . . . ঋতু পরিবতনের সঙ্গে মানুষের যে দশা বিপর্যয় ঘটত সেগুলোকে ঠেকাবার ইচ্ছা এবং চেষ্টা থেকেই ব্রতক্রিয়ার উৎপত্তি। বিচিত্র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিচিত্র কামনা সফল করতে চাচ্ছে, এই হল ব্রত।” সূর্য, নদী, সন্তানকামনা ও সন্তানের মঙ্গলকামনা প্রভৃতিকে উপলক্ষ্য করে ব্রতগুলি উদযাপিত হয়। এর মধ্যে মেয়েলি ব্রতগুলোই প্রাচীন যেগুলিতে আল্পনা দেওয়া, ব্রতের শেষে ছড়া কাটা ও ব্রতকথা পাঠ করা হয়। তাই ব্রতের মধ্যে ছবি, কবিতা, উপাখ্য়ান ও নানা ধরণে শিল্পরূপ ফুটে ওঠে। বেশীর ভাগ ব্রতই দল বেঁধে অনুষ্ঠিত হয়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে নাটকের মতো পাত্র-পাত্রী থাকে এবং অঙ্ক অনুযায়ী নানা দৃশ্য সাজানো হয়। এইসব ব্রতগুলির মধ্যে রঙ্গাভিনয়, সঙ, পৌরাণিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা হয়েছে। এর সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন লোকাচার ও মানুষের জীবনসংগ্রাম থেকে নাট্যবোধের উন্মেষ ঘটেছে। সুতরাং বাংলার আনুষ্ঠানিক ব্রতগুলিকে নাটকের প্রত্নরূপ বলা যায়।
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত ব্রতগুলির মধ্যে নাট্যকলার লক্ষণ দেখা যায়। দক্ষিণবঙ্গের ভাদুলী ও মাঘমন্ডন ব্রত এর উদাহরণ। উত্তরবঙ্গের ব্রতগুলির মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ব-খেলা, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ষষ্ঠীদেবীর পূজার ব্রত বা ষাইটল পূজা, কাত্যায়ণী ব্রত প্রভৃতি নাট্যলক্ষণযুক্ত। বাংলার ব্রতগুলিতে নাচ ও গানের আধিক্য রয়েছে, অনেকটা যেন গানের মধ্য দিয়েই বর্ণনা দেবার চেষ্টা করা হয়। কখনও গীদালের সাহায্যে ব্রত উদযাপিত হয়, যেমন ষাইটোল পূজার ব্রত। কয়েকটি ব্রতানুষ্টানে বাদ্যযন্ত্রের (যেমন ঢাক) ব্যবহার দেখা যায়। ব্রতগুলির আঙ্গিক খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায় লোকনাটক যেন এরই বিকশিত রূপ।
লোকনাটকের উৎপত্তি সম্পর্কে লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ডঃ নির্মলেন্দু ভৌমিক বলেন – “ভারতের নানা তিথি, পার্বণ, বছরের এক একটি সময় ও ঋতুকে কেন্দ্র করে নানা যাত্রা ও উৎসব ইত্যাদিকে ভিত্তি করেই আনুষ্ঠানিক লোকনাট্য মূলতঃ গড়ে উঠেছে।” যেমন বছরের প্রথম মাসে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নানা উৎসব-অনুষ্ঠান হত, পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হত, দেবতাকে নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ করা হত। এক একটি গোষ্ঠীর কাছে গ্রাম দেবতার কাছে বার্ষিক পূজা নিবেদন, প্রথম শস্য রোপন বা প্রথম শস্য তোলার জন্য পূজা দেওয়ার এক একটি নির্দিষ্ট সময় ছিল। এই ধরনের অনুষ্ঠানের সময় নানা সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত মৌখিক নাটক-নাটিকা অভিনীত হত, যার থেকে লোকনাটকের উদ্ভব হতে পারে। তখনকার সেই নাট্যাভিনয়ের প্রধান বিষয় ছিল পুরাণ ও লোকপুরাণ। তার সঙ্গে নানা সমসাময়িক প্রসঙ্গও যুক্ত করা হত।
উৎসব ও অনুষ্ঠান উপলক্ষে সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে নাটক অভিনয়ের ঐতিহ্য বাংলার কোনও কোনও অঞ্চলের গাজন উৎসবে প্রচলিত আছে। বাংলার সঙ ও মালদহের গম্ভীরা লোকনাটকের গানে এর উদাহরণ মিলবে। এ ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানেও সঙের প্রচলন দেখা যায়। কোনও কোনও লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ মনে করেন বিভিন্ন লৌকিক ক্রীড়ানুষ্ঠানও লোকনাটকের উৎস হওয়া সম্ভব। গ্রামবাংলায় প্রচলিত অনেক লৌকিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে লোকনাটকের লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে অনুকৃতিময়তার লক্ষণ স্পষ্ট। যেমন গাচ্ছুয়া-গাচ্ছুয়া খেলার আঙ্গিকে যথেষ্ট নাট্যধর্মিতা দেখা যায়।
লোকনাটকের প্রকাশ মাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে অভিনয়ের দু’টি ভাগ – কায়িক ও বাচনিক। কায়িক অভিনয় মুখ্যত অঙ্গভঙ্গি-নির্ভর। নাটকের অভিনয়ে অঙ্গভঙ্গির সাহায্যে অনেকটাই ভাষার কাজ করানো যায় এবং অঙ্গভঙ্গি তখন প্রকাশভঙ্গি হয়ে ওঠে। এই প্রকাশভঙ্গি নাচের মধ্যে সব থেকে প্রকটভাবে দেখা যায়। তাই বলা যায় নৃত্য থেকেই নাটকের জন্ম এবং নৃত্যই হল মানুষের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম কলা। এই প্রসঙ্গে হ্যাভলক এলিস বলেছেন – “Dancing is the primitive expression alike of religion and of love – of religion from the earliest times we know of and of love from a period long anterior to the coming of man.” সুতরাং আদিম সমাজে নৃত্যের মাধ্যমে লোকেরা ধর্মভাব ও হৃদয়ভাব প্রকাশ করত। হ্যাভলক এলিস নৃত্য সম্পর্কে আরও বলেছেন – “For all the solemn occasions of life, bridals and for funerals, for seed time and harvest, for war and for peace, for all these things there were dances.”
সঙ্গীত সমন্বিত ভাব প্রকাশক নৃত্যই ধীরে ধীরে নাটকের অভিনয়ে পরিণতি পায়। নাটকের উৎপত্তি বিষয়ে এ. বি. কীথ বলেছেন – “Hence the doctrine which has the approval of Oldenberg and which finds the origin of drama in the sacred dance, of course, accompanied by gesture of pantomimic character, combined with long, and later enriched by dialogue, this would give rise to the drama.” কালক্রমে অঙ্গভঙ্গিযুক্ত নৃত্যের সঙ্গে লোক-ধ্বনি যুক্ত হয়। এই লোক-ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভাষা সুরবাহিত হয়ে গীতের সৃষ্টি হয়েছে। গীতের মধ্য দিয়ে যখন বহু মানুষের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তখনই লোক-গীতের সৃষ্টি হয়েছে। লোকসংগীত হল লোকনাটকের একটি বিশেষ অঙ্গ। লোকনাটকের সংগীত নাট্যলক্ষণযুক্ত হয়। বিভিন্নপ্রকার ছড়া ও গীত নাট্যলক্ষণযুক্ত হয়ে লোকনাটকে অঙ্গীভূত হয়েছে। লোকনাটকে কথকতার প্রচুর প্রভাব রয়েছে। এর কারণ কথকতায় বাচিক অভিনয় রয়েছে যা লোকনাটকের অঙ্গীভূত হয়েছে।
আদিতে লোকনাটক অঙ্গভঙ্গী আশ্রয়ী ছিল। তারপর লোকনাটকের সঙ্গে গীতি ও সংলাপ যুক্ত হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে যেরকম ব্রতগুলি উদযাপিত হয়, সেরকমই লোকনাটকগুলিও অভিনীত হয়। কোনও এক সময় যা ছিল ব্রতানুষ্ঠান, লোকগীতি বা ক্রীড়ানুষ্ঠান; কালক্রমে সে-সব লোকনাটকের রূপ নিয়েছে। লোকনাটকের বিষয়বস্তু মৌখিক, শ্রুতিনির্ভর, সংলাপধর্মী ও গীতিময়। লোকনাটকের প্রকাশের মধ্যে জড়িয়ে আছে অঙ্গ-সঞ্চালন, যার মধ্যে কাব্যিক ব্যঞ্জনা ও ছন্দাত্মক পরিবেশ মিশে আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকনাটকের আঙ্গিক, বিষয়বস্তু ও ভাষার অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং এখনও হয়ে চলেছে।
সহায়ক গ্রন্থাবলী ও পত্র-পত্রিকা :
১. Alan Dundes : The Study of Folklore. Barkelay, 1965।
২. ডঃ গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য : বাংলা লোকনাট্য সমীক্ষা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭২।
৩. চিত্ত মণ্ডল : ফোকলোরের স্বরূপ। পুস্তক বিপনি, কলকাতা, ১৯৮৩।
৪. নিমলেন্দু ভৌমিক : জনজীবন, সংহত গোষ্ঠী ও বাংলার লোকনাট্য। প্রবন্ধ, লোকশ্রুতি (’৮৬ সংকলন সংখ্যা)।
৫. Archer Taylor : Folklore and the student of literature, The pacific spectator (Vol-2), 1948।
৬. ডঃ মযহারুল ইসলাম : ফোকলোরের পরিচিতি। ঢাকা, ১৯৭৪।
৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : লোকসাহিত্য। বিশ্বভারতী।
৮. ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য : বাংলার লোকসাহিত্য (১ম খণ্ড), ১৯৬২।
৯. Maria Leach : Standard Dictionary of Folklore and Mythology, Newyork ed, 1949।
১০. ডঃ দুলাল চৌধুরী : পশ্চিম দিনাজপুরের লোকনাট্য : একটি সমীক্ষা। মধুপর্ণী, পশ্চিম দিনাজপুর জেলাসংখ্যা, ১৩৯৯।
১১. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর : বাংলার ব্রত। বিশ্বভারতী।
১২. নির্মলেন্দু ভৌমিক : বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠান : লোকনাট্যের একটি দিক। উত্তরবঙ্গ লোকযান সংবাদ, লোকনাট্য সংখ্যা ১, ১৩৯১, মহালয়া।
১৩. Havelock Ellis : The Art of Dancing, Selected Essays।
১৪. A. B. Keith : The Sanskjit Drama in its origin, development theory and practice।
১৫. ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য : বাংলার লোকসংস্কৃতি, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, নয়াদিল্লি।
১৬. ডঃ বরুণ কুমার চক্রবর্ত্তী : বাংলা লোকসাহিত্য চর্চার ইতিহাস (২য় সংস্করণ), ১৯৮৬, রুস্তক বিপণী, কলকাতা।
১৭. ডঃ সুবোধ সেন : বাংলা লোকনাটকের উৎস কথা, সংজ্ঞা ও পরিচয়, ভাস্বতী, কলকাতা, ২০০৭।
১৮. শিশির মজুমদার : উত্তরবঙ্গের লোকনাট্য ও পশ্চিম দিনাজপুরের খনের গান, শারদীয়া ত্রিবৃত্ত, ১৯৭৮।
১৯. মানিক সরকার : বাংলার লোকনাট্য : কয়েকটি দিক, (প্রবন্ধ). অমৃত, ২ এপ্রিল, ১৯৭৬।



