পরমার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
অণুগল্প
সাহিত্যের বাজারে ভূতেদের এখন খুব কদর।
যেদিকে তাকাই সেদিকেই খালি ভূত, মানে ভূতের গপ্প। ভূতের ওভারডোজ হয়ে গিয়ে, সেদিন স্বপ্নে আস্ত একটা ভৌতিক সিনেমাই দেখে ফেললাম। দেখলাম, আমি ভূতের সঙ্গে কবাডি খেলছি। ভূত আর আমি। ভূশণ্ডির মাঠে, খেলা জমে ক্ষীর। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছি না। অমাবস্যার রাতে সব আলো নিভিয়ে দিয়ে ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে খালি কবাডি, কবাডি আওয়াজ। হ্যাঁ, এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভূশণ্ডির মাঠেও হ্যালোজেন আলো। তাই নেভাতে হল।যাইহোক, আমিও ভূতোকে দেখতে পাচ্ছি না, ভূতোও ভূতোকে দেখতে পাচ্ছে না। শুধু তড়পানি চলছে।
হঠাৎ আমার একটু সন্দেহ হল, ভূতোকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এটা কীরকম হল, ভূতো কী করেই বা ভূতোকে দেখবে!” তা সে বলল, “আসলে আমি নই, তুমি নিজেই ভূতো এবং উলটোটাও…।” জানি না, ওই ভুষোকালি অন্ধকারে, ও আমার মুখ দেখতে পাচ্ছিল কি না! ওদিকে তো নাকি ভূতো, ভূতোকে দেখতে পাচ্ছে না!
সে আমার মনের কথা বুঝে ফেলেই বোধহয় বলল, “অমন ভূতের মতো চেয়ে না থেকে, আঁধারে মিলিয়ে দেখে নিলেই হয়। আঁধার মানে জানো তো? আবার আধার কার্ডের ছবির সঙ্গে মেলাতে যেয়ো না। আজ পর্যন্ত কোনও ভূতো, আধারের ছবির ভৌতিক উচ্চতায় পৌঁছোতে পারেনি। ওটা আধিভৌতিক কেস।” আমার খুব আঁতে আঘাত লাগল, আঁধার মানে কি আমি জানি না! স্কুলে আমি বাংলায় হামেশাই পাশ নম্বর পেতাম। নিজের নামের বানানও কোনওদিন ভুল লিখিনি। রাগের চোটে ভূতোর শণের দড়ি ধরে মেরেছি এক টান, না তারপরে অমনি ঘুমটা ভেঙে যায়নি। ঘুম ভেঙে উঠে যে দু’-এক গাছা দড়ি হাতের মুঠো খুলে আবিষ্কার করব, তেমন কিছুও হয়নি। সেটা গল্পের শেষে হয়, লেখকদের কল্পনার দৌড় ওই হাতের রেখাতেই সমাপ্ত।
এটা তো গল্প নয়, সিনেমা; থুড়ি কবাডি। উত্তেজনা এখন চরমে। ভূতো ভূতোকে, আমি আমাকে, ভূতেরা অন্ধকারে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। শুধু আন্দাজে চুল, না চুল নয়; দড়ি টানাটানি। ক্যামেরাম্যান আছে, ফুটেজ নেই। ইন্টারভিউ আছে, সম্প্রসারণ নেই। শূন্য পদ আছে, চাকরি নেই। বিল্ডিং আছে, স্কুল নেই। আস্ফালন আছে, ফলন নেই। প্রমাণ আছে, চার্জশিট নেই। ভাতা আছে, ছাতা নেই।
খেলা চলছে, কবাডি কবাডি। ঘোরালোসংগীতে ঘোর লেগে যাচ্ছে, তন্ময় হয়ে শুনছি।
ভূতো নেই, আমিও নেই। শুধু কবাডি কবাডি…।



