দেবলীনা চক্রবর্তী
১
বসন্তের বিকেলগুলো যে ঝরাফুলের মালা গাঁথতে শুরু করে সে মালা গাঁথা শেষ হয় রাত হতে হতে।
তারপর মালা থেকে এক একটা ফুল ঝরে পড়ে এক একটা গল্প হয়ে আর সেই গল্প শুনতে শুনতে রাতের আকাশ ক্রমশ ফর্সা হয়ে ওঠে। এমন সোনা আলোর ফুসমন্তরে গা এলিয়ে ভোরাই সুর পালকে বেঁধে পাখিগুলো উড়ে যায় একঝাঁক উজ্জ্বল স্পর্শ মেখে, ভীষণ মেঘেও তারা অবাধে রামধনু আঁকে।
আর বাকি নীড় ভাঙ্গা পাখিগুলো বুকে দগদগে ঘা নিয়ে বেঁচে থাকার গান গেয়ে ওঠে আর উড়ে যায় নতুন সন্ধানে।
প্রতিদিন ঘুম ভেঙে দেখি কিছু ঝরা ফুল পড়ে থাকে পায়ের কাছে , ওরা টুকরো গল্প শোনাতে এসে হতাশায় ছিঁড়ে যায়, যে মর্মর গল্প শোনা শুধু বাকি’ই রয়ে যায়।
২
এই ভৌগোলিকে ভ্রষ্ট ও ভবঘুরে সন্ধ্যারতির পর শরীরের সমস্ত মউচাক ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে }
এগিয়ে যাই এই সৌরজগতের অজস্র প্রেম অপ্রেম, পাপড়ি খুলবার পাপড়ি ছিঁড়বার ঘোরতর ষড়যন্ত্র , জল থইথই হেঁয়ালিকে পাশ কাটিয়ে। দেখি একটার পর একটা লেখা ফুটে উঠেছে, বিশ্বস্ত শব্দের মৌতাতে পূর্ণতা পাচ্ছে অন্ধকার নাড়িগৃহে সেই কালগহ্বরে , যেখানে শব্দ ভ্রূণ, শাশ্বত যোনির ভেতর এতোদিন ঘুমিয়ে ছিলো। সেই সব ব্যথাতুর লেখা সেই সব মেঘাতুর লেখা, যোনি থেকে নাভি, নাভি থেকে হৃদি- আরও আরও ওপরে উঠে যায় … ক্ষুধাতুর প্রজননে।
৩
এভাবেই সপ্ত সুরে বাঁধা আরোহ – অবরোহ জীবন পার হতে হতে , ছেঁড়া ফুল ও পাতার স্তূপ জমা হতে থাকে। আর এই স্তূপ পেরিয়ে চেয়েছি ওই বোধিবৃক্ষে পৌঁছে যেতে; অখ্যাত রেলস্টেশনের পাশে একা বসে বসে অদৃশ্য একটা ময়ূরপঙ্ক্ষী স্থাপন করতে; কিন্তু সেইমতো কিছুই হয় না- হৃদয় কাচবার মতো, কেচে পরিষ্কার করবার মতো পাই না কোন স্কচ বাইট।
এইভাবে তাকে যত্ন করলে হয়ত মাসের শেষে সেও ভরিয়ে দিত – সুখ দিয়ে , ভালোবেসে , লং ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে একটা গমরঙা সূর্যোদয় দেখাতে।
তারপর আজকের মত একদিন বলে উঠি শুভ নববর্ষ।



