ভূতোর সঙ্গে কবাডি

ভূতোর সঙ্গে কবাডি

অণুগল্প

সাহিত্যের বাজারে ভূতেদের এখন খুব কদর।

যেদিকে তাকাই সেদিকেই খালি ভূত, মানে ভূতের গপ্প। ভূতের ওভারডোজ হয়ে গিয়ে, সেদিন স্বপ্নে আস্ত একটা ভৌতিক সিনেমাই দেখে ফেললাম। দেখলাম, আমি ভূতের সঙ্গে কবাডি খেলছি। ভূত আর আমি। ভূশণ্ডির মাঠে, খেলা জমে ক্ষীর। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছি না। অমাবস্যার রাতে সব আলো নিভিয়ে দিয়ে ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে খালি কবাডি, কবাডি আওয়াজ। হ্যাঁ, এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভূশণ্ডির মাঠেও হ্যালোজেন আলো। তাই নেভাতে হল।যাইহোক, আমিও ভূতোকে দেখতে পাচ্ছি না, ভূতোও ভূতোকে দেখতে পাচ্ছে না। শুধু তড়পানি চলছে।

হঠাৎ আমার একটু সন্দেহ হল, ভূতোকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এটা কীরকম হল, ভূতো কী করেই বা ভূতোকে দেখবে!” তা সে বলল, “আসলে আমি নই, তুমি নিজেই ভূতো এবং উলটোটাও…।” জানি না, ওই ভুষোকালি অন্ধকারে, ও আমার মুখ দেখতে পাচ্ছিল কি না! ওদিকে তো নাকি ভূতো, ভূতোকে দেখতে পাচ্ছে না!

সে আমার মনের কথা বুঝে ফেলেই বোধহয় বলল, “অমন ভূতের মতো চেয়ে না থেকে, আঁধারে মিলিয়ে দেখে নিলেই হয়। আঁধার মানে জানো তো? আবার আধার কার্ডের ছবির সঙ্গে মেলাতে যেয়ো না। আজ পর্যন্ত কোনও ভূতো, আধারের ছবির ভৌতিক উচ্চতায় পৌঁছোতে পারেনি। ওটা আধিভৌতিক কেস।” আমার খুব আঁতে আঘাত লাগল, আঁধার মানে কি আমি জানি না! স্কুলে আমি বাংলায় হামেশাই পাশ নম্বর পেতাম। নিজের নামের বানানও কোনওদিন ভুল লিখিনি। রাগের চোটে ভূতোর শণের দড়ি ধরে মেরেছি এক টান, না তারপরে অমনি ঘুমটা ভেঙে যায়নি। ঘুম ভেঙে উঠে যে দু’-এক গাছা দড়ি হাতের মুঠো খুলে আবিষ্কার করব, তেমন কিছুও হয়নি। সেটা গল্পের শেষে হয়, লেখকদের কল্পনার দৌড় ওই হাতের রেখাতেই সমাপ্ত।

এটা তো গল্প নয়, সিনেমা; থুড়ি কবাডি। উত্তেজনা এখন চরমে। ভূতো ভূতোকে, আমি আমাকে, ভূতেরা অন্ধকারে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। শুধু আন্দাজে চুল, না চুল নয়; দড়ি টানাটানি। ক্যামেরাম্যান আছে, ফুটেজ নেই। ইন্টারভিউ আছে, সম্প্রসারণ নেই। শূন্য পদ আছে, চাকরি নেই। বিল্ডিং আছে, স্কুল নেই। আস্ফালন আছে, ফলন নেই। প্রমাণ আছে, চার্জশিট নেই। ভাতা আছে, ছাতা নেই।

খেলা চলছে, কবাডি কবাডি। ঘোরালোসংগীতে ঘোর লেগে যাচ্ছে, তন্ময় হয়ে শুনছি। 

ভূতো নেই, আমিও নেই। শুধু কবাডি কবাডি…।

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

ভজ মন রাম চরণ

ধ্রুপদী সাহিত্য শ্যামলকৃষ্ণ বসু [ অযোধ্যাকান্ড ১ ] ১ অযোধ্যার রাজসভায় মূল লেখাটির বানান, ব্যাকরণ, বাক্যগঠন, যতিচিহ্ন ও সংলাপের বিন্যাস সংশোধন করে নিচে প্রকাশযোগ্য রূপে

Read More »

৫ : কালের প্রহরী

 শুভাশিস ঘোষ একটি বাড়ির চোখ দিয়ে দেখা দুই শতাব্দীর ইতিহাস, মানুষের জীবন ও সময়ের নির্মম পরিবর্তনের কাহিনি পঞ্চম পর্ব আট সেদিন সকাল থেকেই ঘোষালবাড়িতে হইহই

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

ভজ মন রাম চরণ

ধ্রুপদী সাহিত্য শ্যামলকৃষ্ণ বসু [ অযোধ্যাকান্ড ১ ] ১ অযোধ্যার রাজসভায় মূল লেখাটির বানান, ব্যাকরণ, বাক্যগঠন, যতিচিহ্ন ও সংলাপের বিন্যাস সংশোধন করে নিচে প্রকাশযোগ্য রূপে

Read More »

৫ : কালের প্রহরী

 শুভাশিস ঘোষ একটি বাড়ির চোখ দিয়ে দেখা দুই শতাব্দীর ইতিহাস, মানুষের জীবন ও সময়ের নির্মম পরিবর্তনের কাহিনি পঞ্চম পর্ব আট সেদিন সকাল থেকেই ঘোষালবাড়িতে হইহই

Read More »

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »