১০ : জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

১০ : জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

বিশ্বসাহিত্যের ধারা - রঞ্জন চক্রবর্ত্তী

১ : বাস্তববাদ ও সাহিত্য : সংশয় ও পথের দিশা

২ : প্রকৃতিবাদ এবং সাহিত্য : ভিন্নতর পথের সন্ধান

৩ : সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ এবং সাহিত্য

৪ : সাহিত্যচিন্তায় বৈচিত্র্য : ডাডাবাদ থেকে অধিবাস্তববাদ

৫ : অস্তিত্ববাদ এবং সাহিত্যদর্শনে অভিনবত্ব

৬ : অ্যাবসার্ডবাদ

৭ : জাদুবাস্তবতা এবং সাহিত্যচিন্তায় অভিনবত্ব

৮ : সাহিত্যে উত্তর-আধুনিকতা

৯ : আধুনিকোত্তর সাহিত্যচিন্তা

১০ :  জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

১০ : জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

স্ট্রিট লিটারেচার আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথমেই বলতে হয়, জনপ্রিয় সাহিত্যের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তা লেখক ও পাঠকের মধ্যে প্রয়োজনীয় সোসাল স্পেস বিনিময় করতে পারে, যা মেইনস্ট্রিম সাহিত্যের পক্ষে সম্ভব নয়। আসলে পপুলার লিটারেচারের চরিত্রটাই এমন নমনীয় যে তা সহজে বিস্তার লাভ করে, সুলভে পাঠকের হাতে পৌঁছে যায় এবং তার মনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। রুশ ফিউচারিস্ট কবি ও নাট্যকার ভ্লাদিমির ক্লেভনিকভ শিল্প-সাহিত্যকে বলেছিলেন ‘বাচনিক বাজার’, যে বাজারকে দখল করার জন্য লেখকেরা ‘অদৃশ্য যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ছেন। জার্মান লেখক গ্যেটে খানিকটা তত্ত্বগতভাবে সাহিত্যকে ‘বৌদ্ধিক পণ্যের বিশ্ববাজার’ বলেছিলেন। ফরাসি কবি পল ভ্যালেরি একেবারে সরাসরি বলেছিলেন, ‘সংস্কৃতি হচ্ছে পুঁজি, আর সাহিত্য হচ্ছে এই সংস্কৃতিরই উজ্জ্বলতম শস্য’। এ কথার অর্থ শিল্প-সাহিত্যেরও বাজার থাকে, আর সেই বাজার রয়েছে বইপাড়ায়।

পথ-সাহিত্য কথাটির প্রয়োগের মধ্যে অভিজাত সমালোচক মহলের উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গী প্রচ্ছন্ন আছে। অভিজাত সাহিত্য ও পথ-সাহিত্যের মধ্যে মিল বলতে কেবল এটুকুই যে উভয় প্রকার সাহিত্যই হরফ-নির্ভর, বাকি সবটাই অমিল। অভিজাত সাহিত্য গ্রন্থাকারে শহর ও গ্রামের বইয়ের দোকানে বিক্রি হয়। কিন্তু পথসাহিত্য সচরাচর পুস্তক বিপণীতে বিক্রি হয় না, রাস্তায় বা জমায়েতে এগুলি বিলি করা হয় অথবা ফেরিওয়ালার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। লোক-সাহিত্যের সঙ্গে পথ-সাহিত্যের প্রকৃতিগত পার্থক্য অনেকটাই। লোক-সাহিত্য মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতি নির্ভর, কিন্তু পথ-সাহিত্যের উদ্ভব হয়েছে নাগরিক বা আধা-নাগরিক সংস্কৃতি থেকে। পথ-সাহিত্য মূলগতভাবে হরফ-নির্ভর হওয়ায় সেখানে নিরক্ষরদের সহজ প্রবেশাধিকার নেই, কিন্তু লোক-সাহিত্য অনেক ক্ষেত্রেই আসর-নির্ভর হওয়ায় তার আঙিনায় নিরক্ষররাও স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারেন। পথ-সাহিত্য শুধু হরফ-নির্ভরই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুদ্রণ নির্ভর, কারণ তা সচরাচর নগরাঞ্চলের আওতায় রচিত। অবশ্য মুদ্রিত পথ-সাহিত্য প্রচারের ক্ষেত্রে অনেকটা জন-সাহিত্যের মতনই। মজলিশে বা জমায়েতে পঠনীয় রচনা হিসেবে পথ-সাহিত্যের একটি বিশেষ মূল্য থাকলেও ব্যক্তিগত অবকাশেও তা পড়া যেতে পারে।  জন-সাহিত্যের সঙ্গে এখানেই তার একটা বড় পার্থক্য।

ঊনবিংশ শতকে বঙ্গদেশে নগরায়নের পর শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যেমন মানুষের পাঠের আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়, তেমনই ছাপাখানার বিস্তার ঘটে ও ছোট-বড় নানা ধরনের মুদ্রিত বই বাজারে চলে আসে। এরই একাংশ কালক্রমে বটতলার বই নামে বিখ্যাত হয়। যে ব্যক্তি সাহিত্য সৃষ্টির নেশায় বুঁদ হয়ে আছেন, কিন্তু যাঁর লেখা কোনও প্রধান সাময়িকীতে স্থান পায়নি বা যাঁর বই প্রকাশ করার জন্য কোনও প্রকাশক উৎসাহ দেখাননি, তাঁর মনোর কোণে লেখক হওয়ার ইচ্ছা তো থাকতেই পারে! কিন্তু তিনি নিজের বই প্রকাশ করবেন কীভাবে? এর উত্তরে এক সময় বলা হতো — ‘তাহলে বটতলায় যাও না।’ কিন্তু এই বটতলাটা কোন দিকে? বটতলা হল কলকাতা তথা বাংলার মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের পুরনো জায়গা। শোভাবাজার-চিৎপুর এলাকার একটি বিশাল বটগাছকে কেন্দ্র করে এই নামের উৎপত্তি হয়। ঊনিশ শতকে বাংলার মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প এখানেই শুরু হয়েছিল। এই বটগাছ এবং তার পাশের এলাকায় যে মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প গড়ে উঠেছিল, তা প্রধানত অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত সাধারণ পাঠকের চাহিদা মেটাত। তাদের পাঠকরুচি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বই, যেমন পুঁথি, পাঁচালি, পঞ্জিকা, পুরাণ, লোককাহিনি ইত্যাদি এখান থেকে প্রকাশিত হত। সে সব বই হীন অর্থে ‘বটতলার পুঁথি’ নামে খ্যাত ছিল।

ঊনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলার প্রকাশনা শিল্পে বটতলার বইয়ের নিজস্ব একটা স্থান ছিল। এর প্রমাণ পাওয়া যায় সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের একটি উক্তিতে। তিনি ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) উপন্যাসে বটতলার দেবীর কাছে নিজের লেখনীশক্তির বৃদ্ধি কামনা করেছেন, যাতে লেখার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ লাভ করতে পারেন। এই উক্তির পিছনে ব্যঙ্গ প্রচ্ছন্ন থাকলেও এতে তৎকালীন বটতলা সাহিত্যের ব্যাপক বিস্তার ও সাধারণ পাঠমহলে তার প্রভাবের চিত্রটিই ফুটে উঠেছে। রামকৃষ্ণ সেন প্রণীত ‘বৃদ্ধা-বেশ্যা তপস্বিনী’, মহেশচন্দ্র দাস দে প্রণীত ‘পড়-বাবা আত্মারাম’, লোকনাথ নন্দী প্রণীত ‘ভাঙ্গা গাঁয়ের মোড়ল’, নন্দলাল দত্ত প্রণীত ‘লুকয়ে পিরীত কি লাঞ্ছনা’, শ্যামাচরণ শান্যাল-এর ‘হদ্দ মজা রবিবার’, মুন্সী আজিমুদ্দীন-এর ‘কি মজার কলের গাড়ি’, মুন্সী নামদার-এর ‘কলির বউ ঘর ভাঙ্গানী’ প্রভৃতির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

মোটামুটিভাবে ঊনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলার অধিকাংশ পুস্তক ও প্রচারপত্র বটতলা থেকেই প্রকাশিত হত। এসব হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের শুরুর দিকের গল্প। কিন্তু ১৮৫০-এর দশক থেকে বটতলা মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে তার পূর্ব ঐতিহ্য হারাতে থাকে। এর পর যত দিন গেছে, সময় যত পাল্টেছে, ততই প্রকাশনা শিল্পের উন্নতি হয়েছে। এর পাশাপাশি বটতলার বই সম্পর্কে মেইনস্ট্রিম লিটারেচারের পাঠকদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইচ্ছাকৃত উদাসীনতার মনোভাবও উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। সত্যি বলতে কী, বটতলার বইয়ের কৌলিন্য কোনওকালেই ছিল না, বরং তা সূচনালগ্ন থেকেই শ্রেণীগত বৈষম্যজনিত অসম্মান পেয়ে এসেছে। কালক্রমে বাংলার রুচিসম্পন্ন লেখক ও প্রকাশকরা বটতলার বইকে একটি উপহাসের বিষয়ে পরিণত করেন। সেটা যতটা উন্নাসিকতার কারণে, ততটাই বোধহয় অজ্ঞতাপ্রসূত।

ইউরোপে অবশ্য স্ট্রিট লিটারেচার মুভমেন্ট শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। ষোড়শ শতকে পণ্ডিতমন্য ব্যক্তিগণ এবং যাজকদের জন্য ল্যাটিন ভাষায় লিখিত গম্ভীর মেজাজের বইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর পাঠককুলের জন্যও মুদ্রিত পাঠ্যবস্তুর চল শুরু হয়। সে সময় লেখক, পুস্তক-বিক্রেতা ও ফেরিওয়ালারা সাধারণত রাস্তায়, মেলায় বা বিভিন্ন জনসমাবেশে ঘুরে ঘুরে বইপত্র বা বিভিন্ন ধরনের মুদ্রিত প্রকাশনা অল্প দামে বিক্রি করতেন। এগুলি ছিল মূলত সেই সব নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য, যাঁরা অর্থের অভাবে বই কিনতে পারতেন না। দামে সস্তা এবং বহরে ছোট হওয়ার জন্য এই শ্রেণীর অল্পশিক্ষিত অতি-সাধারণ পাঠকরা তা কিনে পড়তে পারতেন। নানা সামাজিক বিষয় সম্পর্কে অচেনা লেখকরা পথ-পুস্তিকার ওই ক’টা পাতার মধ্যেই তাঁদের কেরামতি দেখাতেন। এর মাধ্যমে সেই লেখকরা যেমন নিজেদের ব্যক্তি পরিচয়কে সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেবার সুযোগ পেতেন, তেমনই সাধারণ মানুষরাও পাঠাধিকারের নতুন স্পেস খুঁজে পেতেন। তাঁদের পাঠের আকাঙ্খা থেকে বৃহত্তর জনমানসের আকাঙ্খার একটা ধারণা পাওয়া যায়। পাঠকদের সপ্তদশ থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত পর্যন্ত পথসাহিত্যই ছিল সব বয়সের সাধারণ মানুষের মুখ্য পাঠ্যবস্তু, তাদের পড়ার চাহিদা মেটানোর প্রধান মাধ্যম। কিন্তু সচরাচর পড়ার পর এগুলি কেউ যত্ন করে সংগ্রহে রাখত না বা অধিকাংশ গ্রন্থাগারেই এগুলির স্থান হত না। ফলে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে অনেক জনপ্রিয় সাহিত্যই বিলুপ্ত হয়েছে।

স্ট্রিট লিটারেচারের বিষয়টি আলোচনা করতে গিয়ে রবার্ট কলিনসন একে ‘জনপ্রিয় সংবাদপত্রের অগ্রদূত’ বলে বর্ণনা করেছেন। লেসলি শেফার্ড-এর ‘দ্য হিস্ট্রি অব স্ট্রিট লিটারেচার’ বইতে বিভিন্ন ধরনের পথসাহিত্য প্রকাশনার একটি পরিসর চিহ্নিত করা হয়েছে। স্ট্রিট লিটারেচার গোত্রের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের মুদ্রিত ফর্ম্যাট এবং প্রকাশনার ধরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃহৎ জনসম্প্রদায়কে আকর্ষণ করেছে। যে উপশিরোনামগুলি দ্বারা এই গোত্রটি নির্দেশিত হয়েছে তার কয়েকটি হল ‘ব্রডসাইড ব্যালাড’, ‘চ্যাপবুক’, ‘স্লিপ গান’, ‘প্রোক্লেমেশন’, ‘নিউজ-শিট’, ‘প্যামফলেট’, ‘ক্যাচপেনি’ ইত্যাদি। কালক্রমে স্ট্রিট লিটারেচার তাদের সমষ্টিগত পরিচয়ের অঙ্গ হয়ে ওঠে এবং পাঠকসম্প্রদায়ের এক বিরাট অংশ লেখকের চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখতে শুরু করেন। তাঁদের পড়ার আগ্রহ পথসাহিত্যকে দু’মলাটের সীমাবদ্ধ পরিসরের বাইরে নিয়ে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে তোলে। তবে বিষয়বস্তুর দিক থেকে পথসাহিত্য অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল এবং প্রায়শই মোটাদাগের। এর কারণ, এই গোত্রের সাহিত্যের রসিক সমাজ যে পর্যায়ের পাঠকদের নিয়ে গঠিত, তাদের সাহিত্যরুচিও খুব একটা পরিশিলীত নয়। পাঠকসমাজের মনের উত্তাপটুকুই এই ধারার সাহিত্যের সম্বল, পাঠকের মনে ও মননে স্থায়ী রেখাপাত করার ক্ষমতা তার নেই। আর এর পাঠকরাও লেখকদের থেকে তেমন কিছু প্রত্যাশা করেন না। তাই অল্পশিক্ষিত লেখকের কলম থেকে বেরোনো ম্হুলরুচির রচনাও এদের কাছে পরম উপাদেয়।

ব্রডসাইড একটি কাগজের একপাশে ছাপা হত, যাতে কাগজটি ভাঁজ করা যায় বা জনসাধারণের সুবিধার জন্য দেওয়ালের গায়ে আটকানো যায়। অনেক সময় এগুলি চেঁচিয়ে পড়া হত, যাতে অনেকে তা শুনতে পায়। ব্রডসাইডে মুদ্রিত পাঠ্যবস্তু সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য উডকাটও ছাপা হত, তবে সেই ছবি সব সময় লেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হত না। ব্রডসাইডে সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ের খবর যেমন থাকত, তেমনই ব্যালাডও থাকত। এই সব ব্যালাড হকাররা প্রায়শই হাটে-বাজারে বা মেলায় গাইত। এগুলির উপজীব্য ছিল নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয় এবং অবশ্যই সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্রডসাইড ছাপা হত স্থানীয় প্রচলিত উপভাষায় এবং জনসমাবেশে তা পড়ার সময় পাঠকের চারপাশে শ্রোতার ভিড় জমে গিয়ে ব্যাপারটা যেন অনেকটা পথনাটিকার মতো দেখাত।

লোকমুখে প্রচারিত মধ্যযুগের নানা গল্প ‘চ্যাপবুক’-এর মাধ্যমে ছাপার অক্ষরে মানুষের সামনে এসেছিল এবং বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। চ্যাপবুক বলতে বোঝাতো একটি বড় আকারের মুদ্রিত কাগজ, যা ভাঁজ করলে অনেকটা পুস্তিকার মতো দেখাত। এর পরিসর হত সাধারণত চার থেকে চব্বিশ পাতার মধ্যে। এগুলিতে বিনোদনমূলক লেখার পাশাপাশি দীর্ঘ ব্যালাড যেমন থাকত, তেমনই থাকত জনগণের জন্য নানা নির্দেশাত্মক রচনা। যেমন ১৭১৮ সালে ওয়েলস-এর একটি চ্যাপবুক-এ (সে দেশের কোনও ছাপাখানা দ্বারা মুদ্রিত প্রথম টেক্সট) অ্যালবান টমাস নামক এক ব্যক্তির লেখা তামাক সেবনের খারাপ দিকগুলি নিয়ে একটি ব্যালাড গোত্রের রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। এই ধরনের ব্যালাডধর্মী রচনাগুলি অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতকের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্ট্রিট লিটারেচার বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল ফ্রান্সে। সে আমলের উঠতি কবি-লেখকরা প্যারিসের রাস্তায় বসে সাদা কাগজে লিখতেন। তার পর সেটাই হাতে লিখে বা কার্বন-কপি করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথচলতি মানুষকে বিক্রি করতেন। প্যারিসের ক্যাফেগুলোতে শিল্পী-সাহিত্যিকরা ভিড় জমাতেন, পাশের কয়েকটা গলিতে ছবি এঁকে চলতেন চিত্রশিল্পীরা। মঁ মার্ত্রের কথা উঠলে যাঁরা শিল্পবোদ্ধা তাঁদের মনে পড়বেই ছবির জগতের বিস্ময় তুলো লোত্রেক-এর কথা। আবার লোত্রেককে মনে পড়া মানেই ইতালির মিলান শহরের রেস্তোরাঁয় ও গলিতে যে কবি কবিতা লিখে বিক্রি করতেন, সেই লিওপার্দিকে অবধারিতভাবে স্মরণ করা! কবি গিয়াকোমো লিওপার্দি (১৭৯৮-১৮৩৭) ছিলেন আদ্যন্ত রোমান্টিকতাবাদী। তাঁর কবিতাগুলো অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয় ‘কমপ্লিট পোয়েমস বাই গিয়াকোমো লিওপার্দি’। এই কবির বেশিরভাগ কবিতায় গভীর জীবনবোধ প্রকাশিত হয়েছে, সেই সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়েও তিনি লিখেছেন। এই কবি মিলান শহরের গলিতে সাদা কাগজে কবিতা লিখতেন এবং পথচলতি মানুষকে তা বিক্রি করতেন। পরে প্রথম বই ‘দ্য বুক অব ডার্কনেস’ প্রকাশিত হলে তা-ও রাস্তাতেই ফেরি করে বিক্রি করেছেন। সাহিত্যমহলে তিনি তখনও প্রায় অস্পৃশ্য বলা চলে।

কবি লিওপার্দির জন্ম ১৭৯৮ সালের ২৯ জুন, ইতালির মাখশে অঞ্চলের রেকানাতির এক অভিজাত পরিবারে। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তাঁর লেখাপড়া শুরু হয় যাজকদের কাছে, তবে বেশিরভাগ সময়ই কাটত সাহিত্যপ্রেমী বাবার পাঠাগারে। বাবার তত্ত্বাবধানে অল্প সময়ের মধ্যেই ধ্রুপদি সংস্কৃতি ও দর্শনে তাঁর ভালো দখল চলে আসে। ধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যে তাঁর জানার পরিধি ছিল বিস্তৃত। লাতিন, গ্রিক ও হিব্রু ভাষায় অনর্গল বলতে ও লিখতে পারতেন। এসবই পরে তাঁর লেখালেখিকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু সময়ের চাইতে এগিয়ে থাকা লিওপার্দি যেন ঊষর মরুভূমির সেই নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী, যিনি হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করেন জগতের সবচেয়ে একা ও সঙ্গীহীন মানুষ হিসেবে। তেইশ বছর বয়সে শৈশবের শহর ছেড়ে চলে আসেন মিলানে। সেখানকার ভেনিচে রেস্তোরাঁয় যখন শহরের অভিজাতরা আড্ডা দিতে যেতেন, সে সময় নেশাতুর ঢুলুঢুলু চোখে লিওপার্দি প্রায় ভিক্ষুকের মতন একটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে বলতেন, ‘একটা নতুন কবিতা, দয়া করে কিনে নিন। আমাকেও আপনার আনন্দের ভাগীদার করুন।’ ১৮৩৭ সালের ১৪ জুন এই পথের কবি মারা যান।

পথসাহিত্য আলোচনা করতে গিয়ে এমিলি ব্রন্টির মুখটা চোখের সামনে ভাসছে, তবে একটু পরাবাস্তবভাবে। পাঠক, দৃশ্যটা কল্পনা করুন তো! লন্ডনের রাস্তায় এক তরুণী তাঁর বই ‘উদারিং হাইটস’ বিক্রি করার জন্য ট্র্যাফিক মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। গাড়িগুলো থামলেই যেন সেই তরুণী একটা বই এগিয়ে দিয়ে বলছেন ‘এটা আমার লেখা নভেল। নেবেন?’ এই বলার মধ্যে রয়েছে একটু জড়তা। কিন্তু কী করবেন? বই বের করেছেন, এই বই বিক্রি করেই তো চলতে হবে যে! অনেকটা যেন বাংলাদেশের রমা চৌধুরীর মতো! চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী নিজে বই লিখে ও ছাপিয়ে পথে হেঁটে হেঁটে ‘বই নেবেন বই’ বলে বিক্রি করতেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর কাছে এই বীরাঙ্গনা সম্ভ্রম হারান এবং সর্বস্বান্ত হন। পাকিস্তানী খানসেনারা চেয়েছিল গোটা পরিবারটিকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে, ঘরের যাবতীয় মূল্যবান জিনিসপত্র আর তাঁর লেখা সাহিত্যকর্মগুলো চোখের সামনেই পুড়েছিল। নিকটজন আর সমাজের কাছে লাঞ্ছনার শিকার রমা দেবী তিন সন্তান আর মা-কে নিয়ে পথে পথে ঘুরেছেন, কারও কাছ থেকেই সহযোগিতা বা সহমর্মিতা পাননি। সব কিছু হারানো এই নারী ‘একাত্তরের জননী’-সহ ১৮টি বই লিখেছেন। প্রথমে লিখতেন একটি পাক্ষিক পত্রিকায়, সাম্মানিকের বদলে পেতেন প্রত্রিকার ৫০টি কপি। পরে নিজের লেখা বই স্ব-উদ্যোগে প্রকাশ করেছেন।  জীবিকার প্রয়োজনে সেই সব বই চট্টগ্রামের পথে পথে পায়ে হেঁটে ফেরি করেছেন। বই বিক্রি করতে পারলে দিনান্তে আহার জুটত, না হলে অভুক্ত থাকতে হত। সই লেখিকাকে আমরা কি মনে রেখেছি?

স্ট্রিট লিটারেচারকে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের অগ্রদূত বলা যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটিই ছিল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মুখ্য পাঠ্যবস্তু, তাদের নিজস্ব রুচি অনুযায়ী পড়ার চাহিদা মেটানোর প্রধান অবলম্বন। ব্রডসাইড, চ্যাপবুক, সংস্টার, এনগ্রেভিং ইত্যাদি পাঠকসাধারণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এগুলি দামে সস্তা হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষরাও কিনে পড়তে পারত। বিষয়বস্তুর দিক থেকে পথ-সাহিত্য খুব ফ্লেক্সিবল, এমন কোনও বিষয় নেই যা নিয়ে এই জাতীয় সাহিত্য রচিত হয়নি। পুরনো পরিবারিক নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে প্রচুর পথ-পুস্তিকা লেখা হয়েছে, রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে এগুলির লেখকরা স্ত্রী-শিক্ষা, নারী স্বাধীনতা ইত্যাদির বিকুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন হুজুগ নিয়েও অনেক পথ-পুস্তিকা লেখা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িয়ে থেকেছে কিছু দৃষ্টি আকর্ষক ঘটনা। বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু পথ-পুস্তিকা রচিত হয়েছে, তার মধ্যে কখনও কখনও যৌনগন্ধী রচনাও স্থান পেয়েছে। পথ-সাহিত্যের এই ধারার লেখক ও পাঠক কারুর ভেতরেই যৌনবিষয়ে বিশেষ শুচিবায়ুগ্রস্ততা ছিল বলে মনে হয় না।

অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়েই পথ-সাহিত্যের ধারাবাহিক ও নিরবিচ্ছিন্ন পথ পরিক্রমা। শুধু মুদ্রিত পথ-পুস্তিকাই নয়, হ্যান্ডবিল আকারে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন জমায়েতে বা সভা-সমিতিতে বিতরিত পাঠ্যবস্তু, পোস্টারে হাতে লেখা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের কথা, এমনকী বাড়ির দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন রাজনৈতিক পদ্য বা স্লোগান সবই পথ-সাহিত্যর অন্তর্ভুক্ত। পথ-পুস্তিকায় গদ্য-পদ্য—কাহিনি-নাটক কিছুই বাদ পড়েনি। এই সব পুস্তিকায় লেখকের অজ্ঞতাপ্রসূত বিভিন্ন ভুল বা মাঝে মাঝে শব্দের অপপ্রয়োগ লক্ষ্য করার মতো। কিন্তু এটা মানতেই হবে যে পরিশিলীত মননের অধিকারী বিদগ্ধ পাঠক-সমালোচকদের কাছে অপাংক্তেয় ঠেকলেও সমাজের এক বৃহত্তর অংশকে এগুলি তৃপ্তি দিয়েছে। তাঁরা তো আর অভিজাত সাহিত্যের দীক্ষিত পাঠক নন, এই ধরনের সাহিত্য তাঁদের মনে রেখাপাত করতে পারেনি। পথ-সাহিত্যই এই সব পাঠককে আনন্দ দেবার দায়িত্ব পালন করে এসেছে। তাই এই জাতীয় জনপ্রিয় সহিত্যের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করলে সমাজের বৃহত্তর অংশকেই অস্বীকার করা হবে।

ইউরোপে আধুনিক যুগের সূচনাপর্ব পর্যন্ত স্ট্রিট লিটারেচার সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনের অভ্যন্তরে সন্ধানী দৃষ্টিপাত করেছে। শহরের রাজপথ থেকে গলিপথ, গ্রামের মেলা থেকে বাজার, খেলার মাঠ থেকে জনসভা — সর্বত্রই এগুলি সুলভে পাওয়া যেত। শিক্ষিত সমাজ যতই পথসাহিত্যকে নীচু নজরে দেখুক, অল্পশিক্ষিত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের কাছে এগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। দীর্ঘদিন যাবৎ পপুলার কালচার সম্পর্কে তথাকথিত উচ্চবর্গীয় মানুষদের একটা ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা ছিল, তার সঙ্গে কিছুটা চেষ্টাকৃত অবজ্ঞার ভাবও মিশে ছিল। অনেকটা সেই কারণেই জনপ্রিয় সাহিত্য নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি, এই সব বই বা পত্র-পত্রিকা সংরক্ষণের ব্যাপারটাও কেউ গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। কিন্তু আজকের দিনে দুনিয়ার তাবড় তাত্ত্বিকরা কোনও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে জানার জন্য পপুলার কালচার তত্ত্বের উপযোগীতা স্বীকার করেন। সেই নিরিখে একটা লোকসমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে আনার জন্য স্ট্রিট লিটারেচারের মতো জনপ্রিয় সাহিত্যকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে, কারণ লেখক-পাঠকের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। জনসমাজের একটি বড় অংশ যে বছরের পর বছর ধরে পথসাহিত্য থেকেই আনন্দ ও উত্তেজনার খোরাক পেয়েছে, সে কথা তো অস্বীকার করা যায় না! আমাদের মনে রাখতে হবে যে উচ্চশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত, কোনও শ্রেণীর পাঠকের পাঠরুচিই অবহেলার বিষয় নয়; কেননা পৃথিবীর নগণ্যতম মানুষটিও সামগ্রিক মানবধারার ভাবজগৎ, চিন্তাজগৎ ও কর্মজগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তার মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রিট লিটারেচারের বিভিন্ন প্রকারগুলি সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেত এবং দীর্ঘদিন তা নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছিল। এর অন্যতম কারণ পাঠকসাধারণের চিরকালের নানা জিনিস সম্পর্কে অতি উৎসাহ। সে বিবিধ বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছে পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডায় কিংবা বাজারে, সভা-সমিতিতে কিংবা ঘর-গৃহস্থালীতে, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের সম্পর্কে, সমাজের ভালো-মন্দ বা কেচ্ছা-কাহিনি সম্পর্কে। বিভিন্ন রকমের স্ট্রিট লিটারেচার তার এই জানার আগ্রহ অনেকটাই মেটাতে পেরেছিল। এই ধরনের রচনা থেকে নানান সামাজিক লক্ষণ ও সাধারণ মানুষের মানসিকতার হদিশ মেলে — মানুষ কী পড়তে পছন্দ করত, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে কী ধরনের যুক্তি দিত, কোন কোন বিষয়ে আগ্রহী ছিল তার একটা ছবি পাওয়া যায়। সে দিক থেকে বিচার করলে মনে হয় পথসাহিত্য বা পথপুস্তিকার সাহিত্যমূল্য যা-ই হোক না কেন, এগুলোর মধ্যে হয়তে সাহিত্য রচনার সমাজগত ইতিহাস লুকিয়ে থাকতে পারে।

ভিক্টোরীয় যুগের শেষের দিক থেকে বাজারে সংবাদপত্র ও বিভিন্ন ধরনের পত্র-পত্রিকার প্রচলনের ফলে ক্রমশ পথসাহিত্যের জনপ্রিয়তায় ভাঁটার টান আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বই, পত্রিকা বা সংবাদপত্র আরও কম ব্যয়ে ছাপা সম্ভব হয়, ফলে এগুলি ধীরে ধীরে বাজার দখল করে নেয়। তাই বলে পথসাহিত্যের স্রোতধারাটি কিন্তু শুকিয়ে যায়নি। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে পথ-সাহিত্য ব্যপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, পাঠকসমাজের এক বিশেষ শ্রেণীর কাছে তার সমাদর ছিল চোখে পড়ার মতো। একবিংশ শতাব্দীতে পাঠকসমাজের সেই শ্রেণীর কলেবর হয়তো কিছুটা সঙ্কুচিত হয়েছে, কিন্তু তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব মোটেই বিলুপ্ত হয়নি। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজও পথসাহিত্যের ধারাটি প্রবাহিত হয়ে চলেছে, ভবিষ্যতে তা মরুপথে হারিয়ে যাবে এমন সম্ভাবনা নেই।

সহায়ক গ্রন্থাবলী :

১. দ্য হিস্ট্রি অব স্ট্রিট লিটারেচার — লেসলি শেফার্ড, সিংগিং ট্রি প্রেস, ডেট্রয়েট, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৩।

২. দ্য স্টোরি অব স্ট্রিট লিটারেচার : ফোররানার অব দ্য পপুলার প্রেস — রবার্ট লিউইস কলিনসন, ডেন্ট, লন্ডন, প্রথম সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৭৫।

৩. দ্য লাইব্রেরি কোয়ার্টারলিতে প্রকাশিত দ্য হিস্ট্রি অব স্ট্রিট লিটারেচার-এর রিভিউ (খণ্ড ৪৪, সংখ্যা ৩), ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস, জুলাই ১৯৭৪।

৪, স্ট্রিট লিটারেচার অব দ্য লং নাইনটিনথ্ সেঞ্চুরি — সম্পাদক ডেভিড অ্যাটকিনসন এবং স্টিভ রুড, কেমব্রিজ স্কলারলি পাবলিশিং, লেডি স্টিফেনসন লাইব্রেরি, ইউ কে, ২০১৭।

৫. বটতলার বই – অদ্রীশ বিশ্বাস সম্পাদিত, গাঙচিল, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০০০।

৬. বাংলা পথসাহিত্য : পথপুস্তিকা – ড. জয়ন্ত গোস্বামী, কমল পাবলিকেশনস, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ আশ্বিন ১৩৮৯।

বিশ্বসাহিত্যের ধারা - রঞ্জন চক্রবর্ত্তী

১০ :  জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

২ : আলোর পথযাত্রী

This entry is part 11 of 11 in the series বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর

Read More »

১০ : জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

This entry is part 11 of 11 in the series বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী ১ : বাস্তববাদ ও সাহিত্য

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

২ : আলোর পথযাত্রী

This entry is part 11 of 11 in the series বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর

Read More »

১০ : জনপ্রিয় সাহিত্যের ধারায় স্ট্রিট লিটারেচার

This entry is part 11 of 11 in the series বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী বিশ্বসাহিত্যের ধারা – রঞ্জন চক্রবর্ত্তী ১ : বাস্তববাদ ও সাহিত্য

Read More »