ভজ মন রাম চরণ

ভজ মন রাম চরণ

 | ৭ | 

সংকট ঘনায়মান

ক্রমে রাত্রি শেষ হল। বৈতালিকগন প্রভাতী বন্দনা আরম্ভ করলেন মঙ্গলবাদ্য সহযোগে। ব্রাহ্মণগন শুরু করলেন স্তোত্র পাঠ । 

আর্ত দশরথ তা হাহাকার করে নিবারন করতে বললেন। – ‘ এই । কে কোথায় আছ ? বন্ধ ক’র মঙ্গলবাদ্য , স্তব্ধ কর ওই স্তুতিপাঠ।’ 

রজনী শেষ হয়েছে। অভিষেকের নিমিত্ত সকলেই ব্যস্ত হয়েছেন। আজ রামের অভিষেক। 

প্রভাতকালে শুভমুহূর্ত উপস্থিত হলে অভিষেকের উপকরন সম্ভার নিয়ে সশিষ্য বশিষ্ঠদেব রাজপুরীতে প্রবেশ করলেন ।  তিনি সুমন্ত্রকে দেখে বললেন,‘ সুমন্ত্র , অভিষেকের সমস্ত উপকরণ প্রস্তুত।  ওই দেখো পুরবাসী, 

এবং নিমন্ত্রিত সকল রাজন্যবর্গ  সকলেই অভিষেক দর্শনের জন্য উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু মহারাজ কোথায় ?’   

বশিষ্ঠদেব অস্থির হয়ে বসে আছেন। রাজা কোথায়? অধিবাসের সময় বয়ে যায়। মহারাজ নিজে না এলে কিভাবে সম্ভব শুভকর্ম শুরু করা ? সবাই যে আজ  অপেক্ষমাণ।

রাম এসে দাঁড়ান বশিষ্ঠ সন্নিধানে।

বশিষ্ঠদেব বলেন,’বেদস, কোথায় তোমার পিতা মহারাজ ? শুভ সময় যে পার হয়ে যায়। এর পরে যে কুম্ভ লগ্ন শুরু হয়ে যাবে। খুবই অশুভ লগ্ন। ঝামেলা ঝঞ্ঝাটের চূড়ান্ত দুঃসময় ঘিরে আসবে।’

রাম বলেন, ‘গুরুদেব ,হয়ত পিতা কেকয় মহলে আছেন ।’

বশিষ্ঠদেব বলেন,’ আহা, শুভলগ্ন যে বয়ে যাচ্ছে। কেউ তাকে ডেকে না আনলে কি করে চলে? মহামন্ত্রী  সুমন্ত্র, তুমি ছাড়া আর কার যাবার অধিকার আছে রাজার কাছে ? তুমি যদি একবার সংবাদ নাও ! ‘

সুমন্ত্র বলেন,‘ যথার্থ বশিষ্ঠদেব। আমি এক্ষনি যাচ্ছি সংবাদ নিতে।’

বশিষ্ঠ বলেন,‘ রাম তুমি কি প্রস্তুত ! সীতা কোথায় ?  তাঁকে ও যে অধিবাসে বসতে হবে।’ 

রাম বলেন, ‘ আমি ভবনে গিয়ে সীতাকে সত্বর নিয়ে আসছি গুরুদেব।’

বশিষ্ঠদেব বলেন, ‘ হ্যাঁ রাম । শীঘ্র যাও। তুমি রাজবেশ ধারন করে এসো। আমি মঙ্গলাচরন করব।’

রাম বলেন,’ যথার্থ গুরুদেব। আমি মাতা সকাশে হয়ে এখনি আসছি আপনার কাছে !’

রাম এক্ষনে মাতা কৌশল্যার সঙ্গে দেখা করতে প্রাসাদের হরপার্বতীর মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান ।                                    

হরপার্বতীর মন্দিরে তখন পূজা আরতী করতে ব্যস্ত ছিলেন মহারাণী কৌশল্যা। পূজা শেষে তিনি মনে মনে ভাবলেন,‘মহারাজা কেকয় মহলে গেছেন । তিনি সতিনী কৈকেয়ীর সাথে দেখা করে রামের অভিষেকের সংবাদ জ্ঞাপন করে ফিরে এলেন না এখনো। কিন্তু সেখানে তো এত দেরী হওয়ার কোন কথা নয় মহারাজের ? ‘ 

কৌশল্যা হরপার্বতী আরাধনা সেরে পূজাগৃহ থেকে বাহির হতে গিয়ে হঠাৎ হস্তধৃত পূজার থালা কেমন করে একটি স্তম্ভে প্রতিহত হয়ে  সশব্দে শাণ বাঁধানো গৃহতলে ছত্রাখান হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ।

কৌশল্যা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন,’ হে শিবশংকর, এ কি হল? এ কি অনাসৃষ্টি আজ এমন এক শুভদিনে।’

তিনি তো অসাবধানে ছিলেন না। ছি ছি ছি , এ কি অমঙ্গল। এ কি কোন অশুভ সংকেত? আজ রামের অভিষেক। রামকে আশীর্বাদী ফুল মাথায় ছোঁয়াবেন। অথচ সেই পূজার ফুল হঠাৎ এমন করে হাত থেকে পড়ে গেলো কেমন করে ! – মায়ের মন কেঁপে ওঠে। হর হর মহাদেব। আমার রামার বিপদ হর।

ঠিক এ হেন মুহূর্তে রাম এসে উপস্থিত হয় মাতা কৌশল্যার সামনে এবং ছত্রাখান পূজা সামগ্রী দেখে মা’কে ধরে দাঁড়ায়। 

কৌশলা হাহাকার করে বলে ওঠেন,‘ ওরে রামা, দেখ তোকে আমি আশীর্বাদ করব। কিন্তু হাত থেকে সব কেমন ছত্রাখান হয়ে পড়ে গেল।’

রাম বলে,‘ মা, এ অসাবধানে পড়ে গেছে। কি আর করা যাবে ? আহা, দাঁড়াও আমি এক্ষনি  তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি সব।’

তৎক্ষণাৎ গৃহতল হতে সব কিছু সুন্দর ভাবে গুছিয়ে পুজার থালায় রেখে রাম মাতা কৌশল্যার হাতে তুলে দেয়। – ‘ এই নাও মা, এবার আমাকে আশীর্বাদ করো। কিন্তু পিতা কোথায় ?’ 

কৌশল্যা রামের কপালে আশীর্বাদী ফুল ছোঁয়ান। রামকে আশীর্বাদ করেন। -’ আমার রামভদ্র রাজা হবে। আমার রাম প্রজাপালক হবে। আমার রাম সসাগরা ধরনীর অধিপতি হবে।’

রাম বলেন,‘মা আমাকে বশিষ্ঠদেব ডাকছেন। আমি তাই পিতার সাথে দেখা করতে এসেছি। অধিবাস শুরু করতে বশিষ্ঠদেব ডাকাডাকি করছেন।’

কৌশল্যা বলেন,‘রামভদ্র, তোমার পিতা গেছেন কেকয় মহলে তোমার অভিষেকের সংবাদ দিতে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখনো আসছেন না। জানি না কি করছেন ওখানে। আমার বড় চিন্তা হচ্ছে।’ 

রাম বলে,’মা আমি সভাগৃহের দিকে যাচ্ছি। পূজা শুরু হবে। বশিষ্ঠদেব ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পিতা আসুন। আমি ভবন হতে সীতাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসছি।’

কৌশল্যা বলেন,‘তাই যাও রামা। সীতাকে তুমি সঙ্গে করে নিয়ে এসো। আমি দুতিকে পাঠাচ্ছি কেকয় মহলে রাজাকে খবর দিতে।’

এমত সময়ে কোথা হতে একটি বায়স মাথার ওপরে ডেকে গেলো ‘কা’ ‘কা’ রবে। বড় কর্কশ ডাক। কৌশল্যা কেন যেন আবার কেঁপে উঠলেন মনে মনে। কি জ্বালা। আজ কেন মন হয় বারে বারে উতলা !                                                                   

রাজপুরীতে মহামন্ত্রী সুমন্ত্রর অবারিত দ্বার। সুমন্ত্র গিয়ে পৌঁছলেন কেকয় ভবনে। সুমন্ত্র বিজ্ঞ,অভিজ্ঞ,সর্ববেত্তা। তিনি কেকয়মহলে পা দিয়ে বুঝতে পারলেন কোথাও কোন অঘটন ঘটে গেছে। দাস দাসী প্রহরী প্রতিহারী সকলের দৃষ্টিতে কেমন একরকম অলক্ষন দৃষ্ট হ’ল। পরক্ষনে ক্রোধাগারে পাত্রপাত্রীগনকে দেখে অনুমান করতে বিলম্ব হল না মন্ত্রীবর এর ,  তাঁর অনুমানই সঠিক। 

কক্ষের সন্মুখে গিয়ে সুমন্ত্র মহারাজকে ভূমিশয্যায় দেখে চমকে ওঠেন। 

‘ এ কি, মহারাজ?  আপনি কি অসুস্থ! আপনি কেন এভাবে এই ভূমি শয্যায় শায়িত হয়ে রয়েছেন এমত সময়ে! রাজবৈদ্য প্রভাকরকে কি ডাকব আমি ? ওদিকে অধিবাসের সময় বয়ে যাচ্ছে। তাই আমি আপনার সন্ধানে এখানে এলাম। কত কত রাজা ঋষি মুনিজন নগরবাসীগন সমবেত হয়েছেন। তারা সকলেই উৎসুক হয়ে রয়েছেন আপনার দর্শন হেতু। 

রাজা দশরথ সুমন্ত্রকে দেখে যেন পরম প্রিয় আপনজন সদৃশ কারো দর্শন পেলেন । 

রাজা মাত্র ‘ সুমন্ত্র’ , ‘সুমন্ত্র ‘ উচ্চারন করে বিহ্বলভাবে সুমন্ত্রের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। 

সুমন্ত্র এইবার রাজা দশরথের সন্নিধানে গিয়ে কৃতাঞ্জলি হয়ে বললেন,’ মহারাজ , আপনি আমাকে কি কিছু বলতে চান? হ্যাঁ বলুন, আপনি কি বলবেন? আমি বুঝতে পারছি না আপনি এখনো এখানে বসে আছেন কেন? ওদিকে বশিষ্ঠদেব এবং সকল পুরবাসী ও বিশিষ্ট নিমন্ত্রিত রাজন্যবর্গ এবং পুরজন এবং সকল মুনি ঋষিগন আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছেন।’

রাজা দশরথ কেমন একরকম মুমূর্ষুর মতো  শুষ্ক মুখে দীন নয়নে তাকিয়ে আছেন মহামন্ত্রীর দিকে !

সুমন্ত্র বলেন,’ মহারাজ, আমি অবগত পেলাম আপনি এখানে আছেন। তাই আমি এখানে ছুটে এলাম আপনার সন্ধানে। সারা রাজ্যবাসী আকুল হয়ে রয়েছেন আপনার দর্শনের জন্য। অভিষেকের সময় বয়ে যাচ্ছে। আপনি চলুন, রাজ্যবাসী প্রজাগনকে দর্শন দিন। বশিষ্ঠদেব অধিবাস করতে অপেক্ষমান। সমস্ত আয়োজন প্রস্তুত। পুরবাসী গ্রামবাসী বনিকগন নৃপতিগন প্রভৃতি সকলেই অভিষেক দর্শনের জন্য সমবেত হয়েছেন। সকলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন মহারাজ।’

শোকার্ত দশরথ এক্ষণে আরক্ত নয়নে উত্তর দিলেন,‘ সুমন্ত্র আমি তোমায় কি বলবো ? আমার মর্মস্থল ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে ! সুমন্ত আমি আজ অসহায়।’

সুমন্ত্র ভেবে পান না রাজার এ হেন অবস্থা কেন ? 

সুমন্ত্র বলেন,’মহারাজ কি হয়েছে আমায় যদি বলেন আপনি ? কি কারনে আপনি এমন অসহায় ?

এক্ষণে কৈকেয়ী কিঞ্চিত বিরক্তির স্বরে বলে ওঠেন,‘ মন্ত্রিবর সুমন্ত্র, মহারাজা অদ্য অভিষেকের আনন্দে সমস্ত রাত্রি জেগে পরিশ্রান্ত ও নিদ্রাতুর হয়েছেন। তুমি রামকে ডেকে আনো।’ 

সুমন্ত্র কৈকেয়ীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘রানী কৈকেয়ী, আমি মহারাজের আদেশের অপেক্ষায় আছি। মহারাজ আদেশ করলে আমি নিশ্চয়ই রামকে ডেকে আনব।’

রাজা দশরথ এক রকম অসহায় ভাবে মহামন্ত্রীকে আদেশ করেন,‘ সুমন্ত্র, আমি রামকে দেখতে চাই। তুমি রামকে শীঘ্র এখানে নিয়ে এসো।’

সুমন্ত্র বলেন,‘ নিশ্চয়ই মহারাজ। আপনার আজ্ঞা শিরোধার্য । আমি এক্ষনি রামকে তাঁর ভবন থেকে ডেকে নিয়ে আসছি।’ 

সুমন্ত্র বুঝতে পারেন আজ রামের অভিষেকে কোন রকম সংকট ঘনায়মান। কিন্তু সে কি হতে পারে যতক্ষণ না জানতে পারছেন ততক্ষন তা অনুমান করা অসম্ভব। 

সুমন্ত্র এক্ষনে কেকয়ভবন হতে বেরিয়ে শীঘ্রগতি রথ নিয়ে ধ্বজ পতাকা শোভিত আনন্দ মুখর রাজপথে রথ চালনা করে রামের ভবনে উপস্থিত হলেন। মনে মনে তিনি চিন্তিত। কিন্তু কিছু অনুমান করে উঠতে পারলেন না বিচক্ষণ মন্ত্রীবর। তবে তাঁহার অভিজ্ঞ দৃষ্টিতে মহারাণী কৈকেয়ীর আচরণ যেন বিলক্ষণ কিছু চিন্তা জনক।   অবশ্য এখন এই সব কোন কথাই রামের গোচরে আনা উচিত হবে না। তিনি অভিজ্ঞ রাজমন্ত্রী একজন। রাজা দশরথের রাজসভার অমাত্য মধ্যে একজন বিশ্বস্ত  রাজপুরুষ তিনি।

এক্ষনে তিনি রথারোহণে রামের ভবনে দ্রুত এসে হাজির হলেন।

রামের ভবন ইন্দ্রালয় তুল্য। সেখানে অনেক দর্শন প্রার্থী রাজ্যবাসীগন তাহাঁরা উপহার আদি নিয়ে কৃতাঞ্জলি হয়ে রামের জন্য অপেক্ষারত। 

সুমন্ত্র অন্তঃপুর দ্বারে এসে দাঁড়ালেন। ভবনের বাহির দ্বারে এবং অন্তঃপুরে কুন্ডলধারী যুবাপুরুষগন বর্শা ও  কার্মুক হস্তে প্রহরারত। মহামন্ত্রী সুমন্ত্রকে দেখে তারা  সকলে সসন্মানে উঠে দাঁড়ায় এবং তার আজ্ঞায় রামের কাছে সংবাদ প্রদান করে।

রাম সাদরে অভ্যর্থনা করেন, ‘ আসুন আসুন মহামন্ত্রীবর।’ 

সুমন্ত্র রামের নিকটে কোন রকম সংশয় প্রকাশ করেন না। 

রাম অভিষেক হেতু অনেকানেক অলংকারে ভূষিত হয়ে স্বর্ণময় পালংকে উপবিস্ট রয়েছেন। তাঁর অঙ্গ রক্তবর্ণ চন্দনে অনুলিপ্ত। সীতা ও তার পাশে বসে আছেন চামর হাতে। যেন চিত্রা নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রের মিলন হয়েছে । 

সুমন্ত্র বলেন, ‘রাম,মহারাজ দশরথ আপনাকে কিছু আলোচনার জন্য কেকয় মহলে ডেকেছেন। আপনি চলুন আমার সাথে।’  

রাম বিস্মিতভাবে জিজ্ঞাসা করেন,‘ মহামন্ত্রী সুমন্ত্র,  পিতা এখনো কেকয়মহলে? সেখানে কি কোন গভীর বিষয়ে আলোচনা চলছে !

মহামন্ত্রী সুমন্ত্র বলেন, ‘ আমি বিশদ কিছু অবগত নই রাজকুমার ! তিনি আপনাকে ডেকেছেন , এই মাত্র সংবাদ!’

রাম বললেন,’ বেশ, তবে চলুন মন্ত্রীবর, আমি যাই সেখানে।’ 

অতঃ কেকয়ভবনে যাত্রাকালে রাম এইবার সীতাকে বলেন,‘ প্রিয়ে, পিতা আমাকে কেকয়মহলে যেতে বলেছেন। আমার রাজ্যাভিষেক নিয়ে হয়ত পিতা ভরত জননীর সঙ্গে কিছু আলোচনা করেছেন। হয়ত বিমাতা কোন যুক্তি করে থাকবেন। আমি পিতা মহারাজের সাথে সাক্ষাৎ করে আসছি।’

         শ্রীরাম বলেন কহি শুন  দেবী সীতা। 

        আমি রাজ্য পাইব বিমাতা চিন্তান্বিতা ॥ 

         রাজা সহ কৈকেয়ী কি করেন অনুমান।  

        জানি আসি পিতা কি করেন সম্বিধান ॥ [কৃত্তিবাস]

সীতা কিঞ্চিৎ চিন্তান্বিত ভাবে দ্বারদেশ পর্যন্ত রামের অনুগমন করে বললেন,‘হে নাথ, আমি উদ্গ্রীব হয়ে রয়েছি, মহারাজ আজ তোমাকে দ্বিজগন সম্পাদিত যৌবরাজ্যে এবং পরে রাজসূয় যজ্ঞে অভিষিক্ত করবেন। তুমি ব্রতগ্রহণ করে দীক্ষিত হয়ে পবিত্র অজিন ও কুরঙ্গ শৃঙ্গ ধারন করবে এই আমি দেখব। ইন্দ্র যম বরুণ ও কুবের তোমার পূর্ব দক্ষিন পশ্চিম ও উত্তর দিক রক্ষা করুন।’  

এমন সময় লক্ষণ ও তথায় ‘রাম আপনি কোথা’ বলে এসে হাজির হলেন রামের মহলে। সে যে রামের অনুগামী।

লক্ষণ ও নুতন বস্ত্র পরিধান করে আছেন আজ। 

অযোধ্যায় যে আজ উৎসবের আনন্দ। এ আনন্দে আজ সকলে বিহ্বল।

রাম বলেন,‘ লক্ষন তুমি এসেছ ? বেশ, চল যাই , কেকয় মহলে। শুনলাম পিতা আমাকে সেখানে ডেকেছেন।’

 লক্ষণ অবাক হলে ও এক্ষনে অগ্রজ সহিত নির্বাক অনুসারী। 

রাম লক্ষণ রথে উঠে বসেন সুমন্ত্র সহিত। রথ দ্রুত বেগে ছুটে চলেছে কেকয় মহলের দিকে। দিকে দিকে আনন্দ। কিন্তু রাম বুঝি গভীরভাবে কোন কিছু নিয়ে চিন্তান্বিত।

রাজপথে অগনিত মানুষ রামের অভিষেকের আনন্দে আনন্দময়। কোথাও বেদপাঠ, কোথাও দেবশরন, কোথাও পূজা অঞ্জলি, কোথা ও হোমযজ্ঞ মন্ত্রোচ্চারন, কোথা ও ভাটগনের স্বরচিত বন্দনা, কোথা ও নর্তক নর্তকীদের নৃত্য উন্মাদনা, কোথা ও গায়ক গায়িকাদের গীতবন্দনা সারা নগরীতে আজ এক প্রানের হিল্লোল তুলে রেখেছে। অযোধ্যা আজ আনন্দনগরী। এখানে কোন বিষাদ না। বিরোধ না। বিপরীত কোন ভাবনা না। আজ রাম রাজা হবেন। আজ তাই আনন্দ আর শুধু আনন্দ। 

রাম লক্ষন দুই ভাই সুমন্ত্র সমভিব্যহারে রথে দ্রুতবেগে রাজপথ অতিক্রম করে রাজভবনে কেকয় মহলে উপস্থিত হলেন। 

সুমন্ত্র বললেন,‘রাম আপনি নিজে গিয়ে রাজা দশরথের সাথে সাক্ষাত করে আসুন। হয়ত সেখানে আমাদের  যাওয়া উচিত হবে না। আমি বরং সভাগৃহে গমন করি  সভায় আগত নৃপগনের অভ্যর্থনা আদি দেখতে।’

রাম সুমন্ত্রের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু অনুমান করেন। তারপর বললেন,‘যথার্থ বলেছেন। বেশ আমিই যাচ্ছি পিতার সাথে দেখা করতে। আপনি যান সভা কক্ষে।’ 

সুমন্ত্র রথ নিয়ে চলে যান সভাগৃহের দিকে।

রাম কিছু ভাবছেন। মন কোন একরকম চিন্তায় আবিষ্ট হয়ে আসছে।

লক্ষণ ও বলে ওঠেন, ’ রাম আমি ভবনের দ্বারে আছি। আপনি একাই যান পিতার নিকটে ।

রাম অনুমোদন করলেন। 

লক্ষণ বাহির দ্বারে দাঁড়িয়ে রইলেন।

| ৮ |

পিতৃসত্য

       এক প্রকোষ্ঠের বহিঃ রহেন লক্ষণ। 

       ভিতর নিবাসে রাম করেন গমন ॥

      দশরথ রাজা ভূমে লোটে অভিমানে।

      কৈকেয়ী রাজার কাছে আছে সেইখানে।। [কৃত্তিবাস]

রাম এইবার কেকয়মহলে প্রহরীর প্রদর্শিত পথে গোসাঘরের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালেন। স্বল্পালোকিত কক্ষে মাতা কৈকেয়ীর কাছ হতে কিঞ্চিৎ তফাতে ভূমি শয়ানে পড়ে আছেন বোরুদ্যমানা পিতা দশরথ। 

কি অদ্ভুত অসহায় তাঁর অবস্থান! যেন পরস্পরে কোন মতান্তরে পরস্পরের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে একে অপরের নিকট হতে বিপরীত রকম বিষাদিত বদনে বসে আছেন অভাবিত রকমে। মাতা কৈকেয়ী পিতা মহারাজের দিকে তাকিয়ে আছেন কেমন একপ্রকার খর দৃষ্টিতে। 

পিতাকে এমন অদ্ভুত সময়ে এমন অস্থানে এমত বিধ্বস্ত মূর্তিতে দেখে যারপরনাই অবাক হয়ে গেলেন পুত্র রাম এবং মনে মনে ভাবলেন, একি বিচিত্র ! পিতা মহারাজ এখন এইখানে এই গোসাঘরে ?  কৈকেয়ী মাতাই বা এখানে কেন এমন বিক্ষুব্ধ মূর্তিতে ? নিশ্চয়ই কোন অহেতুক বাদবিসংবাদ। নচেৎ কেকয় মহলের এই গোসাঘরে আজ এই শুভদিনে মহারাজা পদার্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন ?’

রাম এক্ষনে বোরুদ্যমানা পিতার সামনে  করজোড়ে গিয়ে দাঁড়ান এবং নম্রস্বরে রাজা দশরথকে ডাকেন,‘ পিতা, আপনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন? আমি আপনার সন্দর্শনে  উপস্থিত  হয়েছি।’

দশরথ এক্ষনে রামকে দেখে আকুল আবেগে অশ্রুপূর্ণ নয়নে অবোধ অসহায়ের মতো শুধু ‘ রাম ‘ আর ‘রাম’  উচ্চারন করে  উঠলেন, কিন্তু আর কিছু বলতে পারলেন না।

রাজা দশরথের উজ্বল আনন বিশুষ্ক এবং বিষণ্ণ। তাঁর চোখে জল।

রাম উদ্গ্রীব হয়ে বলে ওঠেন, ’এ কি, পিতা মহারাজ, আপনি কি অসুস্থ? মাতা কেকয়ী, আপনি বলুন না পিতার কি হয়েছে ? কেন পিতাকে এমন অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি আমি ?’’ 

            শ্রীরাম বলেন মাতা কহত কারণ।

           কেন পিতা  বিষাদিত ভূমিতে শয়ন।

           কোপ যদি করেন হাসেন আমা দেখে।

            আজি কেন জিজ্ঞাসিলে কথা নাহি মুখে। 

           কোন দোষ করিলাম পিতার চরণে। 

           উত্তর না দেন পিতা কিসের কারণে ॥ 

           কোন জন কিম্বা করিয়াছে অপরাধ। 

           ভূমে লোটাইয়া তেঁই করেন বিষাদ ॥  [কৃত্তিবাস]

কৈকেয়ী বলেন, ‘ রাম, তোমার পিতার কিছু মাত্র কোন অকুশল হয়েছে বলে মনে করছ ? না না ! আসলে তিনি আজ আবেগ জর্জরিত।‘

রাম দেখলেন পিতা মহারাজ তাঁর দিকে ব্যাকুল ভাবে তাকিয়ে আছেন। তিনি কিছু বলতে উদ্গ্রীব। কিন্তু   কিছুতেই বলতে পারছেন না।’ 

রাম আশ্বাস সহকারে বলে ওঠেন, ‘ পিতা মহারাজ, আপনি আমাকে বলুন, আপনার কি হয়েছে ? আপনাকে এমন বিহ্বল দেখছি কেন ? আপনি কি আমাকে কিছু বলতে চাইছেন ? আপনি এমন বিব্রত  বিষণ্ণ এমন ব্যাকুল হৃদয় হয়ে বসে আছেন কেন? মাতা কেকয়ী, কেন না আমাকে আপনি বলুন, কি হয়েছে আমার পুজ্যপাদ পিতার ? তিনি কি সত্যই পীড়িত বা কোথা ও কোন অমঙ্গল ?’

কৈকেয়ী এবার নির্লজ্জের মতন বলে ওঠেন, ‘না রাম,  তোমার পিতা মহারাজ কোনরকম পীড়িত হননি বা কারো কোন অমঙ্গল ও হয়নি। তবে তিনি এক বিশেষ চিন্তায় অস্থির এবং বিব্রত হয়ে রয়েছেন।’

রাম বলেন, ‘ কিন্তু , সে কি এমন চিন্তা যার জন্য পিতা এমন অস্থির চিত্ত হয়ে রয়েছেন আজ ? আমি কি অজ্ঞান বশে পিতার নিকট কোন অপরাধ করে ফেলেছি? অথবা ভ্রাতা ভরতের কোন দুঃসংবাদ? আপনি আমাকে শীঘ্র বলুন ,  পিতার এহেন মানসিক অবসাদের কারন কি ?’

কৈকেয়ী এক্ষনে উত্তর দিলেন, ’ রাম তোমার পিতা কোন রকম কুপিত হননি। এখানে বিপদ ও কিছু হয়নি । তুমি রাজার প্রিয়। তাই তোমার পিতা মহারাজ তোমাকে নিজ মুখে কোন অপ্রিয় কথা বলতে পারছেন না। রাম

ইনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তোমাকে অবশ্য পালন করতে হবে। রাজা আমাকে আদর করে বর দিয়ে এখন অনুতাপ করছেন। সত্যই ধর্মের মূল। অতএব রাজা যেন তোমার প্ররোচনায় কুপিত হয়ে সত্য ত্যাগ না করেন।’  

রাম জিজ্ঞাসেন, ‘ মাতা কৈকেয়ী, আমি বুঝে উঠতে পারছি না, কি এমন অপ্রিয়বাক্য পিতা আমাকে বলতে চান কিন্তু বলে উঠতে পারছেন না ? কোন সত্য আমাকে পালন করতে হবে ? আপনি নিজেই না হয় সে কথা আমাকে বলুন।’ 

কৈকেয়ী এবার নির্লজ্জের মত বলে ওঠেন, ‘ রাম, সে কথা আমি নিজেই তোমাকে বলতে পারি। তবে তিনি যা বলবেন তা শুভ হোক বা অশুভ হোক যদি তুমি স্বীকার করতে সম্মত থাকো তাহলে তোমাকে সব কথা বলতে পারি। রাজার সত্যরক্ষার দায়িত্ব তোমার ওপরে।’

রাম বলে,‘ মাতা কৈকেয়ী, আপনি নিশ্চয়ই বলুন। আমি পিতৃসত্য রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। জানবেন রাম দ্বিচারণ করে না।’ 

       কি আঁজ্ঞা পিতার আমি করিব পালন। 

        সেই কথা-মাতা মোরে কহ বিবরণ ॥ [কৃত্তিবাস]

রামের কথা শুনে কৈকেয়ী আশ্বস্ত হলেন। এবার তিনি বলে ওঠেন,‘বেশ , তাহলে শোনো, রাজা একবার যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর সেবাশুশ্রূষা করেছিলাম। তিনি তখন আমাকে আদর করে দুটি বর দিতে চেয়েছিলেন। আমি এখন সেই দুইটি বর রাজার কাছে প্রার্থনা করেছি। এক বরে ভরতের এই সিংহাসনে অভিষেক। আরেক বরে তোমার দন্ডকারণ্যে গমন। তোমাকে চীর ও অজিন ধারণ করে চতুর্দশ বছরের জন্য বনগমন করতে হবে।’

‘অহোঃ , এ আপনি কি বলছেন মাতা কৈকেয়ী ? ‘ – রাম যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। রাম বলে ওঠেন, ‘ এমন কথা কি পিতা উচ্চারণ করতে পারেন ? এ তো বোধহয় সত্য নয়। তথাপি যদি পিতা এই কথা ব্যক্ত করে থাকেন তবে তা অবশ্য পালনীয়। কিন্তু পিতা নিজের মুখে না বললে তা কি কভু বিশ্বাসনীয়  হয় ?’ 

         শুনিয়া কহেন রাম সহাস্যে বদনে।

        তোমার আজ্ঞায় মাতা এই যাই বনে ॥

        করিয়াছ কোন কামে পিতারে মুরচ্ছিত ।

        লঙ্ঘিতে তোমার আজ্ঞা নহেত উচিত। 

        আছুক পিতার কার্য  তুমি আজ্ঞা কর।

        তব আজ্ঞা সকল হইতে মহত্তর ॥

       তব প্রীতি হবে রবে পিতার বচন। 

      চতুর্দশ বৎসর আমি থাকিব গিয়া বন ॥ [কৃত্তিবাস]

কৈকেয়ী বলে ওঠেন, ‘ রাম, আমি কি তোমায় অহেতুক কিছু বলতে পারি ? এ তোমার পিতা মহারাজের আদেশ পুত্র !’    

রাম বললেন, ‘ মাতা কৈকেয়ী , আমি কি পিতার নিজমুখে এই কথা শুনতে পারি ?

কৈকেয়ী বলেন,‘ রাজা আমাকে বর দিয়েছেন। তাই তিনি দুঃখে এবং লজ্জায় তোমার দিকে তাকাতে পারছেন না রাম। এখন তুমি তাঁর সত্যরক্ষা করে তাঁকে লজ্জা হতে পরিত্রাণ করো।’

রাম ভূমি থেকে উঠে দাঁড়ান। বিচক্ষন রাম বুঝতে পারেন পিতার মুখের এই উক্তি এ নিশ্চিত অনার্য চরিত্র মাতা কৈকেয়ীর ইচ্ছাকৃতভাবে মহারাজের সঙ্গে এক ভীষণ শঠতা এবং তীব্র শত্রুতার ফলঃ শ্রুতি। আর তা হতেই আজ নিশ্চিত এই বিচিত্র সংকটের উদ্ভব। আগামীকাল যেখানে অভিষেক হবার কথা সেখানে আজ এ হেন জটিলতা তা নিশ্চয়ই কোনরকম পূর্বপরিকল্পিত। রাজসিংহাসনের দাবিদার হলে এর সমুচিত বিধান যে কোন বীরের কর্তব্য। কিন্তু যখন স্বয়ং পিতা কোনরকম অসহায়তায় এমন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং এই ষড়যন্ত্র যখন রাজপরিবারের মধ্যে এক তুমুল সংঘর্ষের পরিণাম বিধায়ক, তখন একজন বিবেচক মানুষের পক্ষে সসম্মানে সরে দাঁড়ানোই বিশেষ বুদ্ধিমানের কাজ। অর্থের জন্য মানুষ যে কোন অনর্থ ঘটাতে পারে। আর জগত সংসারে  কিয়ৎ অনার্য নারীর অবদান এক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।’

রাজা দশরথ নত মস্তকে বসে আছেন। আজ তাঁর বলার  যেন কিছু নেই।

কৈকেয়ীর নিষ্ঠুর বাক্য শুনে রাম অব্যবহিত চিত্তে বলে ওঠেন,‘ বেশ যেমন পিতার ইচ্ছা। আমি পিতার প্রতিজ্ঞা পালনের জন্য সত্যবদ্ধ হলাম। আমি জটা চীর ধারন করে বনে যাব। তবে আমি কেবল জানতে চাই পিতা নিজে কেন আমাকে সে কথা বললেন না! পিতা আগের মত কেন আমার সাথে কথা বলছেন না? আমার ভ্রাতা ভরতের অভিষেকের কথা তিনি নিজে কেন আমাকে বলবেন না ?

রাজা মুমূর্ষুর ন্যায় অশ্রুপাত করতে থাকেন এবং এক্ষনে ‘ অহো ধিক ‘, বলে কঠিন ভূমিতে মুষ্টিবদ্ধ বাহু দ্বারা আঘাত করতে থাকেন।

কৈকেয়ী বলেন,’রাম, তিনি নিজে মুখে এই কথা বলতে পারেন না। আমি তাঁর হয়ে তোমাকে  রাজ আজ্ঞা জ্ঞাপন করলাম।’

রাম বলেন, ‘বেশ তাই হবে। ভরত আমার ভাই। শুধুমাত্র রাজ আজ্ঞায় কেন, আপনার আদেশেও আমি সানন্দে আমার ধন-প্রাণ ঐশ্বর্য রাজত্ব এমনকি আমার প্রিয়তমা সীতাকেও পর্যন্ত  বিসর্জন দিতে পারি।  কিন্তু শুধু আমার দুঃখ পিতা নিজে কেন আমাকে একথা বললেন না। আপনি পিতাকে সান্ত্বনা দিন। তিনি যেন অমন ভাবে মুখ নিচু করে অশ্রুপাত না করেন। ভরতকে তাঁর মাতুলালয় হতে আনবার জন্য এখনই দুত পাঠানো হোক। আমি ও সত্বর দণ্ডকারন্যে গমনোদ্যোগ করতে  যাচ্ছি। ‘

কৈকেয়ী বললেন,’ হ্যাঁ,তাই করো রাম। নেহাত লজ্জিত হয়েই রাজা তোমাকে কিছু বলতে পারছেন না। তোমার আর বিলম্ব করা উচিত নয়। মহারাজের মনের কষ্ট দূর করতে আজই তুমি বনগমন কর। তুমি না গেলে রাজা আজ কোন অন্ন গ্রহণ ইত্যাদি কিছুই করবেন না।’

কৈকেয়ীর এই কথা শুনে দশরথ আর্তনাদ করে ওঠেন, ‘ ও হো হো হো। কি কষ্ট। ধিক আমাকে ধিক।’ 

দশরথ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। রাম অসহায়ের মত থাকিয়ে থাকেন । তিনি সব বিষয় অনুধাবন করতে পারছেন কিন্তু  এক্ষণে এর প্রতিকার অতি অসম্ভব।

কৈকেয়ী বললেন,‘ রাম, তুমি যতক্ষণ এখানে থাকবে ততক্ষণেই রাজা কষ্ট পাবেন। তুমি বনে না যাওয়া পর্যন্ত উনি স্নান বা ভোজন করতে পারবেন না। ‘

রাম এবার বললেন,‘ বেশ আমি আমার বনগমনের আদেশ মাথা পেতে নিলেম। আমি রাজ্য চাই না। অনর্থক আমি ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ চাই না। দেবী আমি অর্থ লোভী নই। রাজ্য লোভীও নয়। আমি ধর্মকে আশ্রয় করে বাঁচতে চাই। পিতার সেবা বা তাঁর বাক্যপালন অপেক্ষা মহত্তর ধর্ম আর নেই। ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ কেবলমাত্র সংসারের দুঃখের পরিনাম ডেকে আনে। ভরত সিংহাসনে আসীণ হোক। আমি জননী কৌশল্যাকে এবং আমার স্ত্রী  সীতাকে আমার দায়বদ্ধতার কথা জ্ঞাপন করে আজই অরণ্য যাত্রা করবো।’

রাম এবার পিতাকে প্রনাম করে দ্রুতপদে কক্ষ থেকে নিস্ক্রান্ত হলেন। 

দশরথ অনাথা বালকের মতো কেঁদে ফেললেন এবং ‘ হায় রাম ‘ বলে তিনি আবার জ্ঞান হারালেন।

কিন্তু কৈকেয়ী সেই একই রকম বিরূপতায় তেমনই তীব্র বিরস বদনে রাজার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন আর ভাবতে লাগলেন রাজা তাকে কতটা প্রবঞ্চনা করতে চেয়েছিলেন। রাজার অশ্রুজলে তিনি কোন ভাবেই ব্যথিত বা দয়াদ্র হলেন না।

           ঘটায়ে অঘটন রানী কুঁজীর বচনে ,

            অধর্ম অযশ তাই নাহি করে মনে ।।

            ঘোর ব্রহ্ম শাপ আছে কৈকেয়ীর তরে ,

            সেই দোষে কৈকেয়ী প্রমাদ এত করে ।। [কৃত্তিবাস]

কৈকেয়ী তাঁর বালিকা কালে একজন ব্রহ্মর্ষি ব্রাহ্মনকে ব্যঙ্গ করেছিলেন। সেই ব্রাহ্মন কৈকেয়ীর ব্যবহারে কুপিত হয়ে তখন তাঁকে কঠিন শাপ দিলেন, ‘নির্দয়া নারী, কুটিলা,সর্বলোকে তোর ঘটুক অপযশ।’  

       খিলে ব্যঙ্গ করিস কহিস কর্কশ ,

      সর্ব লোকে গায়  যেন তোর অপযশ ।।

       ব্রহ্ম শাপ কৈকেয়ীর না হয় খণ্ডন ।

      সেই হেতু ঘটিল তাই এ হেন ঘটন ।। [কৃত্তিবাস ]

কৈকেয়ী ভাবেন মাত্র সতিনীর আজ্ঞাপাশে তিনি থাকবেন না। তাই ভরতকে অযোধ্যার রাজা করে রামকে বনবাসে পাঠাতে তিনি আজ চরম নির্দয়া হয়েছেন। 

  । ৯ ।

                                                                                 লক্ষণ লক্ষণ

লক্ষণ রামকে কেকয় মহলের কক্ষ হতে দ্রুত নিস্ক্রান্ত হতে দেখে সচকিত হয়ে ওঠে। কৌতুহলি হয়ে ভাবতে থাকে পিতা দশরথ আজ অগ্রজ রামকে কি কথা বলতে ডেকেছিলেন এবং সে কথা তিনি রামকে রাজসভায় না ডেকে এই কেকয় ভবনে কেন ডেকে আনলেন?  

লক্ষণ দেখলেন এক্ষণে আহত সিংহের ন্যায় রাম কেকয়ভবন হতে বেগে প্রস্থান  করলেন এবং কোশল মহলের দিকে অগ্রসর হতে থাকলেন।

আর লক্ষণ তাঁর অনুসরণ করলেন। লক্ষণ ছিলেন বাহির দ্বারে। কোন কিছুই তার গোচর হয়ে ওঠে নি। তাই কৌতুহলী ভাবে জিজ্ঞাসা করে,’ রাম, কি সংবাদ ? পিতা আপনাকে কি সংবাদ জ্ঞাপন করলেন ?

কেকয় ভবনের বাইরে বেরিয়ে রাম কিঞ্চিত স্থিতধী হয়ে লক্ষণকে বললেন,’ভাই লক্ষণ, পিতা আমাকে বন গমনের আদেশ করেছেন। চোদ্দো বছরের জন্য আমাকে বনবাসে থাকতে হবে এবং ভরত সিংহাসনে আসীণ হবে।’

         আছি আমি রাজা হব সকলের আগে ? 

         শুনিয়া বিমাতা সেই দুই বর মাগে । 

        এক বরে ভরতে করিতে দণ্ডধর। 

        আর বরে আমি যাই বনের ভিতর ॥ [কৃত্তিবাস ]

লক্ষণ অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে , ‘অর্থাৎ ?’ 

রাম বলেন, ‘ আমাকে এর অর্থ জিজ্ঞাসা ক’রো না! ‘ – রাম অপ্রতিহত গতিতে অগ্রসর হতে থাকেন।

লক্ষণ এইবার রামের গতিরোধ করে বলে ওঠে,‘ কিন্তু, তা কি করে সম্ভব ? না, এ হতে পারেনা। পিতা মহারাজের বুদ্ধিনাশ হয়েছে। তিনি এই কাজ করতে পারেন না। নিশ্চয়ই তিনি কাহারো কূট প্ররোচনায় আপনাকে এ কথা বলেছেন।’  -লক্ষণের ইঙ্গিত স্পষ্ট। 

রাম ও সে কথা বুঝতে পারছেন। তাই এবার লক্ষণকে বললেন, ‘ কিন্তু , লক্ষণ, এমত বিষয় নিয়ে কোন রকম বাদ বিসংবাদ কি ভাবে সম্ভব? কার সাথে তুমি বাদানুবাদ করবে বলো ? পিতার সাথে বাদানুবাদ ? না, না, লক্ষণ , তাহা এক প্রকার অসম্ভব।’ 

লক্ষণ বলেন, ‘কিন্তু, রাম, তিনি তাঁর ধার্মিক পুত্রকে ত্যাগ করতে পারেন না। আপনি দাঁড়ান। আমি কেকয়মহলে গিয়ে এর মীমাংসা করে আসছি। রাজা স্ত্রৈনের মতো ব্যবহার করছেন। বৃদ্ধ বয়সে রাজার বুদ্ধি বিকল হয়ে গেছে।’     

         বার্দ্ধক্যে দুর্ব্ব দ্ধি রাজা নিতান্ত পাগল। 

           করিয়াছে বাধ্য তাঁরে বিমাতা কেবল ॥ [কৃত্তিবাস]
রাম দ্রুতপদে চলতে চলতে বলে ওঠেন,‘ ভাই লক্ষণ, আমি পিতার সমালোচনা করতে পারি না।’
লক্ষন বলে ওঠে, ‘ সমালোচনা নয় রাম। আমি চাই এই সিদ্ধান্তের মীমাংসা !’
রাম বলেন,‘এর মীমাংসা কি ভাবে সম্ভব ? পিতা তাঁর বর দানের প্রতিজ্ঞায় দায়বদ্ধ হয়ে আছেন।’

       শ্রীরাম বলেন  লক্ষণ দৈবের ঘটন। 

        বিমাতার দোষ নাই বিধির লিখন ॥ 

         পিতৃসেবা বিমাতা করিল বারেবার। 

         দুই বর দিতে ছিল পিতার স্বীকার ॥ [কৃত্তিবাস ]

লক্ষণ রাগত স্বরে বলে ওঠে,‘ অহোঃ, তবে সেই বরদান তাহলে তিনি আগে করেননি কেন ? কেন আজ তোমার রাজ্যাভিষেকের কালে এই সমস্যা উদ্ভুত হল ? কে এর জন্য দায়ী ? রাজা তো নিজে ও বলতে পারতেন  মাতা কৈকেয়ীর ‘প্রার্থিত বর’, তিনি যখন মর্জি তখন দেবেন। কারো কথায় তিনি এই উদারতা দেখাতে না ও পারতেন ?’ – এ হেন প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। 

রাম মাত্র বলেন, ‘ লক্ষণ এ হ’ল পিতার আদেশ। তিনি আমাকে ত্যাগ  করেছেন। আমাকে রাজ্য ত্যাগ করে বনবাসী হতে হবে , এই বিধান।’         

লক্ষণ ভীষণ ক্রোধে ফেটে পড়ে ,’ না , না রাঘব, রাজ্যত্যাগ করে আপনি বনে গমন করবেন এ হতে পারে না। এ অন্যায় আমি সহ্য করব না। কিছু মাত্র ধর্মজ্ঞান থাকলে কেউ এমন দেবতুল্য পুত্রকে ত্যাগ করতে পারেন না। যত যত সূর্যবংশে রাজা জন্মেছিল, বল দেখি স্ত্রীর বাক্যে কে হেন করিল ?  অযশ রাখিল রাজা নারীর বচনে। 

স্ত্রীবাধ্য পিতার বাক্যে কেন যাবে বনে? না রাম ,একজন কুটিলা স্ত্রীলোকের কথায় আপনি রাজ্যত্যাগ করবেন না। অনার্য কৈকেয়ীর অনুবর্তী হয়ে পিতা যদি এমন শত্রুতা করেন তাহলে আমি তাকে বন্দী করব।  স্ত্রীর বাক্যে যিনি পুত্রে পাঠান কাননে।  এমন পিতার কথা না শুনিহ’ কাণে !

রাম বলেন, ‘ লক্ষণ , আমাকে পিতৃসত্য রক্ষা করতে হবে আর তাহা রাজবংশের কলঙ্ক রক্ষা হেতু।’

      লক্ষ্মণ বলেন সত্য তব কথা বুঝি। 

     স্ত্রীবশ পিতার বাক্যে কেন রাজ্য ত্যজি ॥ 

           যাবৎ এ সব কথা না হয় প্রচার। 

           তাবৎ শ্রীরাম আপনি লহ রাজ্যভার ॥   [কৃত্তিবাস ]

রাম অনুজ লক্ষনের কথা শুনে চমকে ওঠেন। লক্ষন এক্ষনে অশান্ত ‘রণং দেহী’ মূর্তি ধরে উঠছে। লক্ষণ হুংকার দিয়ে বলে ওঠে, ‘আজ শান্ত অযোধ্যায় বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠুক। বুদ্ধিভ্রষ্ট বিকল পিতাকে আমি নিজে হাতে কারাগারে বন্দি করব এবং অনার্যা নারী কৈকেয়ীকে আমি সর্বসমক্ষে হত্যা করব।’

রাম তীব্রভাবে বলে ওঠেন, ‘ লক্ষণ,লক্ষণ। শান্ত হও ভাই, শান্ত হও। এ নহে উত্তেজনার সময় ভাই লক্ষণ। স্থির হয়ে আমাকে একটুক ভাবতে দাও। এই উগ্র অনার্যবুদ্ধি ত্যাগ করো ভাই। আমি কোন হিংসা দেখতে চাই না।’ 

লক্ষন তাঁর হস্তধৃত কার্মুক ও ধনুক সংবরন করে একদৃষ্টে অগ্রজ রামের সংযত ও শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,

                     জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজ্য পায় ইহা সবে ঘোষে। 

                     হেন পুত্র বনে রাজা, পাঠান কি দোষে

                            আগে রাজ্য দিয়া পরে পাঠানু কাননে। 

                              হেন অপযশ পিতা রাখেন ভুবনে ॥ [কৃত্তিবাস]

রাম বলেন, ‘ লক্ষণ, পিতা আজ বিবশ। তাঁকে আর কি বলতে পারি ভাই লক্ষণ। এ নিতান্ত দৈব বলেই জেনো ভাই । আমি তাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বনচারী হতে।‘ 

‘হে অগ্রজ রাম, আমরা রাজবংশের সন্তান। আমরা বনচারী হতে পারিনা। আমরা ক্ষত্রিয়। আমাদের কর্ম একমাত্র রাজকার্য্য এবং যুদ্ধবিগ্রহ। আপনি  কি হেতু বনবাসী জীবনে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হবেন ?’

লক্ষণ যেন কিছুতেই শান্ত হতে চান না। সিংহের মতো গর্জন করে ক্ষিপ্ত গজরাজের মতো হস্ত আস্ফালন করে লক্ষণ বলতে থাকে,‘নিজস্বার্থ এবং লোভে শঠতা ও ষড়যন্ত্র করে যারা এই লোক নিন্দিত কাজ করতে চলেছে আমি তাদের সহ্য করব না। আমার মনে হয় এ নিশ্চই ভরতের কোন ভীষণ ষড়যন্ত্র। আজ্ঞা কর রাম ,আমি ভরতেরে করি নির্মূল।’

          শ্রী রাম বলেন তাঁর  নাহিক অপরাধ
          ভরত না জানে কিছু এতেক প্রমাদ।
          অকারনে ভরতেরে কেন কর রোষ
        বিধির নির্বন্ধ ইহা তাহার কি বা দোষ।।  [ কৃত্তিবাস ]

লক্ষন রামের কথা বুঝতে চায় না। সে রোষগ্রস্থ হয়ে বলতে থাকে,‘রাঘব,আমাকে ক্ষমা করুন। সংসারে ধর্মের ছলনা ও ভন্ডামি আমি অনেক দেখেছি। বিমাতা কৈকেয়ীর এই বরদানের বিষয় তো শুনেছি সে অনেকদিন আগের কথা। তাহলে সেই বরদান এতকাল দেওয়া হয়নি কেন? এতদিন পরে আজ সেই প্রশ্ন উঠছে কেন? আমি বলছি এ কপট ষড়যন্ত্র। এই অন্যায় এবং গর্হিত কাজকে আপনি ধর্ম বলছেন ? তাহলে সেই ধর্মকে আমি ঘৃণা করি।’

রাম বলেন,‘ লক্ষন ধর্ম বড় কঠিন। লক্ষণ ,ধর্ম যদি না ও বলি তবে একে দৈবি বলতে পারি। একে তবে ভবিতব্য ও বলতে পারি।’ 

লক্ষন বলেন, ‘রাম, এই পরিস্থিতিকে আপনি দৈবি বলুন কি ভবিতব্য, তবে সেই দৈবকে ও আমি অগ্রাহ্য করি। যারা দুর্বল মোহগ্রস্ত তারাই কেবল দৈবের দোহাই দেয়। কিন্তু যারা পুরুষকার আশ্রয় করে, যারা আপনার বনবাসকে দৈবের বিধান বলে ভাবছে তারা আজ দেখুক দৈব বড় না পুরুষকার বড়। রাঘব আমার এই দুটি বাহু শুধু শোভা বর্ধনের জন্য নয়। পৃষ্ঠের এই ধনুক মাত্র কোন অলংকার নয়। এই খড়গ বা এই  যে তূন, এ  তো বৃথা বহন করবার জন্য নয়। রাঘব আজ আমার পৌরুষ প্রদর্শনের দিন।’

রাম তখন শান্ত গম্ভীর কন্ঠে বললেন,‘ ভাই লক্ষণ পৌরুষ সবল এর প্রতি সম্ভব। দুর্বলের প্রতি নয়। তুমি জানবে পিতার আদেশ পালন করাই আমার দৃঢ় সংকল্প। এই আমার সত্যপথ।’ 

লক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন অগ্রজ রামের দিকে। এই একটি কথায় লক্ষণের অশান্ত বিক্ষোভকে রাম শান্ত করে দিলেন। রাম এক্ষনে লক্ষনের বাহুতে দক্ষিনহস্ত রেখে স্নেহাদ্রস্বরে বলে ওঠেন,‘ ভাই লক্ষন , পিতার আদেশ আমাকে পালন করতে হবে। এই আদেশ আমি অমান্য করতে পারিনা।’

লক্ষন এক্ষনে ভীষণ হতাশায় কেঁদে ফেললেন। – ‘হায়, পিতা, এ আপনার কি আদেশ। হায় বিমাতা পুত্রের ওপরে এ আপনার কি অদ্ভুত বৈরীতা !‘

রাম আবার বলে ওঠেন,‘ লক্ষন, শোনো ভাই লক্ষন, আমার কথা রাখো।  শান্ত হও সৌমিত্রি। স্থিতধী হও ভাই । বন গমনের আগে আমি তবে মাতা কৌশল্যার সঙ্গে সাক্ষাত করে আসি।’ –  রাম এক্ষণে কোশলমহলের দিকে অগ্রসর হলে নিরুপায় লক্ষন তাঁর নীরব অনুসারী হলেন যদিচ তাঁর উত্তেজনা কিছু মাত্র প্রশমিত হতে পারছে না। 

(চলবে)

Author

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

১৮ : ঊর্ণনাভ

ধারাবাহিক উপন্যাস  শ্যামলী রক্ষিত  অষ্টাদশ অধ্যায়  বাবা যেদিন অফিস থেকে ফিরে এসে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল, সেদিনই আমার সারা মন বলেছিল, না, না, তা হয়

Read More »

ভজ মন রাম চরণ

ধ্রুপদী সাহিত্য শ্যামলকৃষ্ণ বসু [ অযোধ্যাকান্ড ১ ]  | ৭ |  সংকট ঘনায়মান ক্রমে রাত্রি শেষ হল। বৈতালিকগন প্রভাতী বন্দনা আরম্ভ করলেন মঙ্গলবাদ্য সহযোগে। ব্রাহ্মণগন শুরু

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

১৮ : ঊর্ণনাভ

ধারাবাহিক উপন্যাস  শ্যামলী রক্ষিত  অষ্টাদশ অধ্যায়  বাবা যেদিন অফিস থেকে ফিরে এসে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল, সেদিনই আমার সারা মন বলেছিল, না, না, তা হয়

Read More »

ভজ মন রাম চরণ

ধ্রুপদী সাহিত্য শ্যামলকৃষ্ণ বসু [ অযোধ্যাকান্ড ১ ]  | ৭ |  সংকট ঘনায়মান ক্রমে রাত্রি শেষ হল। বৈতালিকগন প্রভাতী বন্দনা আরম্ভ করলেন মঙ্গলবাদ্য সহযোগে। ব্রাহ্মণগন শুরু

Read More »

কালের প্রহরী

শুভাশিস ঘোষ  সপ্তম পর্ব বারো দু’মাস হতে চলল, বাপের ঘর ছেড়ে নিশ্চিন্তপুরে শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে কাজলি। প্রহ্লাদেরও চোখের কোণে কালি। কঙ্কালসার চেহারায় সারাদিন তার চুপচাপ

Read More »