ভজ মন রাম চরণ

ভজ মন রাম চরণ

সরযূ নদীর তীরে কোশল নামে সে এক বিশাল দেশ। বিশাল আয়তনের মহতী সমৃদ্ধিশালী ধনধান্যবান সতত সুখের আলয় এই অযোধ্যা নগরী। মানবশ্রেষ্ঠ মনু স্বয়ং এই নগরী নির্মাণ করেছিলেন। পবিত্র সপ্তপুরীর এক পুরী এই অযোধ্যা। ঈশ্বরের আবাস বলে গন্য এই অযোধ্যা। নগরীর জলসিঞ্চিত রাজপথে সতত সুগন্ধী পুস্পের শোভা। সৌন্দর্যে বৈভবে তপস্যার মূর্ত সিদ্ধি এই অযোধ্যা নগরী।  – ‘সিদ্ধানাং তপসাধিগতং দিবি‘। [বাল্মিকি] 

অযোধ্যা যেন মর্ত্যের অমরাবতী। কত বন উপবন কত যে আম্রকানন। ঘন বনবীথি ঘেরা অরন্যমেখলা। অদূরে কলকল্লোলে প্রবাহিত হয়ে চলেছে স্বচ্ছধারা সরযূ। শিবধাম কৈলাসে ব্রহ্মার মানস সরোবর হতে নিঃসৃত এই নদী। তাই নাম সরযূ নদী। 

প্রচুর ধনধান্য সম্পন্ন বৃহৎ এই  জনপদ। এই শ্রীসম্পন্ন অতুল প্রভাবান্বিত বৈভবশালী নগরী অনেক উচ্চ অট্টালিকা, সুরম্য হর্ম্য, অনেক নাট্যশালা এবং মন্দির এবং উদ্যানশোভিত এবং সর্বত্র রাজধ্বজ দ্বারা সদা শোভিত। সুরম্য সব হর্ম্য এবং সুন্দর সব পথঘাট বিভিন্নভাবে সজ্জিত। মনোরম জলধারার ফোয়ারায় তার সৌন্দর্য আরো বর্ধন করে রেখেছে। কোশল রাজ্যের বিশাল আয়তন। অযোধ্যা নগরী যেন ইন্দ্রের অমরাবতী বা কুবেরের অলকা পুরীর সমকক্ষ।

পুষ্পিত কানন ঘেরা এই অযোধ্যা দ্বাদশ যোজন দীর্ঘ এবং তিন যোজন বিস্তৃত।  চারিদিকে গহীন জলের দুর্গম পরিখা। শত শতঘ্নী আয়ুধে উন্নত তোরণে সুদৃঢ় কপাটে যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত অযোধ্যা নগরী। বিপুল সৈন্যে সুরক্ষিত অযোধ্যা। শত্রুর পক্ষে অপ্রবেশ্য, যেন  সিংহের গুহা। নগরের দ্বারপথ বিরাট বিরাট তোরণ দ্বারা সুশোভিত। এই নগরীতে সুরম্য সব রাজপথ, প্রশস্ত সব মহাপথ নিত্য জলসিক্ত। চতুর্দিকে পুষ্প শোভিত। সূত মাগধের মঙ্গলগীতি। দুন্দুভি মৃদঙ্গের ধ্বনি। সুশোভন পুরী, উচ্চ প্রাসাদ। প্রভান্বিত ধ্বজা। দেবতার স্বপ্ন নিয়ে আলো বাতাসে পরিপূর্ণ এই অযোধ্যা নগরী।  আর এই অযোধ্যার প্রাণপুরুষ হলেন রাজা দশরথ। 

সূর্যবংশীয় রাজা ছিলেন দিলীপ। দিলীপের পুত্র রঘু,  যিনি  ছিলেন একজন দানবীর।  মহারাজা রঘুর পুত্র অজ। সেই দানবীর রঘুর পুত্র অজ ও তাঁর স্ত্রী ইন্দুমতীর পুত্র হলেন পরম পুন্যাত্মা রাজা দশরথ। হৃদয়বান জিতেন্দ্রিয় রাজর্ষি দশরথ। প্রাচীন যুগের মনুর মতোই দশরথ মানবশ্রেষ্ঠ ধীমান। তিনি ধর্মাত্মা। তিনি আকাশের মতো নিষ্কলঙ্ক।

রাজাকে ঘিরে রাজসভায় উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো বসে আছেন আটজন মন্ত্রী।  মহামন্ত্রী সুমন্ত্র হলেন কোশল রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। তিনি  অর্থশাস্ত্রে সুপন্ডিত। তিনি দশরথের চির অনলস সেবক এবং সখা ও সচিব। তিনি রাজধর্মে অতীব  বিশ্বস্ত 

রাজকর্মে তিনি ধীর, ব্যক্তিত্বে তিনি নিকষিত কনকরেখার মতো। দশরথের অষ্টনিধি মন্ত্রীমণ্ডলীর মতো ছিলেন আরো সাত সাতজন ঋষি । তাহারা হলেন সুযজ্ঞ, জাবালি ,কশ্যপ ,গৌতম , দীর্ঘায়ু, এবং মার্কণ্ডেয় ও কাত্যায়ন। এবং অযোধ্যার রাজার দুই প্রধান পুরোহিত বশিস্ট ও বামদেব। 

রাজা দশরথের রাজ্যে পুরবাসী সকলেই আনন্দিত।  তাঁহারা ধর্মপ্রাণ এবং  শাস্ত্রজ্ঞ  এবং তাঁহারা আপন আপন বিত্তে সকলেই সন্তুষ্ট।  তাঁহারা সকলেই জিতেন্দ্রিয়, নির্লোভ,সত্যাশ্রয়ী। তাঁহারা সকলেই শাস্ত্রবান আয়ুস্মান। সকলেই সুদৃশ্য কুন্ডল ও মুকুট ও মাল্যধারী। তাহাদের পরিচ্ছন্ন বেশ। চন্দনবাসিত তাহাদের অঙ্গ। এখানে নাস্তিক, মিথ্যাবাদী, অল্পশিক্ষিত বা ব্রতহীন কেউ নেই। এখানে নেই কোন নিন্দুক বা কোন পরশ্রীকাতর, অথবা কুৎসিত কি কুরূপ কি বিকলাঙ্গ কেহ। ধনধান্যে, রত্ন ঐশ্বর্যয়ে, সৌন্দর্যে ও পুণ্যে, জ্ঞান শক্তিতে, দান দাক্ষিন্যে অতুলনীয়া এই অযোধ্যা।  যার আকশে মহিমা, বাতাসে শান্তি, জলে মধু। 

রত্নমন্ডিত অযোধ্যার রাজসভা। পাত্রমিত্র অমাত্য পরিবেস্টিত হয়ে রাজা দশরথ সিংহাসনে বসে আছেন । ইক্ষ্বাকু বংশের গৌরব তিনি। মহত্বে তিনি মনুর সমান। তিনি বেদজ্ঞ, শাস্ত্র বিশারদ, মহাতেজা, দীর্ঘদর্শী। তেজে ও ঐশ্বর্যয়ে তিনি ইন্দ্র ও কুবেরের সমান। সত্য ও ধর্মশীলতায় মহর্ষি কল্প। জগতে তাঁহার কোন শত্রু নাই। তিনি ও কারোর সঙ্গে শত্রুতা করেন না। তিনি হৃদয়বান জিতেন্দ্রিয় রাজর্ষি দশরথ। তিনজন গুনবতী স্ত্রীরত্ন তাঁর।  প্রধানা মহিষী কৌশল্যা  এবং দ্বিতীয় রানী কৈকেয়ী রাজার পরম প্রিয়তমা এবং  তৃতীয় রানী সুমিত্রা।  প্রধানা রানী কৌশল্যা দক্ষিন কোশলের রাজকন্যা ছিলেন। কৈকেয়ী হলেন কেকয় রাজ্যের রাজকুমারী। এবং রাণী সুমিত্রা ছিলেন মগধরাজ এর পুত্রী। রাজা দশরথ তাঁর তিন রাণী নিয়ে সুখেই আছেন। তবে রাজা দশরথের একমাত্র চিন্তা তাঁর এ তাবৎ কোন পুত্র না হওয়ার। তাই রাজা দশরথ পুত্র কামনায় অশ্বমেধ যজ্ঞ করাবার চিন্তায় মন্ত্রীগনের সাথে আলাপনরত ছিলেন। সেখানে কত কথা, কত ভাবনা চিন্তা রাজার পুত্র না হওয়ার বিলম্বের কারন নিয়ে।   

রাজার বয়স নয় হাজার বৎসর। সুখের মাঝে ও  অপত্যহীনতার কথা রাজার মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ তৈরী করে রেখেছে বৈ কি। পুত্র না হলে এই অযোধ্যা হেন বিশাল সাম্রাজ্য কে রক্ষা করবে?  ভবিষ্যতে কে হবেন রাজার ধ্বজাধারী? কিন্তু সবই ঈশ্বরের অনুগ্রহ। 

মানুষের জীবনযাত্রায় একটা আশা একটা আকাঙ্ক্ষা, একটা আনন্দ একটা উত্তেজনা না থাকলে জীবন যে  প্রতিপদে  অতি ক্লান্তিকর এবং অত্যন্ত অবসন্ন হয়ে পড়ে। তবে রাজ্যের প্রিয় প্রজাদের চিন্তায় তিনি ব্যক্তিগত ভাবনার অবসর থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছিলেন। 

রাজ্যে অনাবৃস্টি হয়ে রাজ্যবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। মহামত্রী সুমন্ত্র সে ব্যাপারে বারংবার রাজাকে স্মরণ করিয়েছিলেন বৈ কি। মহারাজ  কি ভীষণ অনাবৃষ্টি  আপনার রাজ্যে !  প্রজাগন অতিষ্ঠ হয়ে রয়েছেন  অনাবৃষ্টিতে ।

কিন্তু বৃষ্টি তো মানুষের হাতে না। সে যে প্রাকৃতিক কারন। গত চৌদ্দ বৎসর যাবত রাজ্যে ভীষণ অনাবৃস্টি চলছে। জনজীবন অস্তব্যস্ত প্রায়।  রাজা ভাবেন বৃষ্টি হবে এবং বৃষ্টি হবে।

একদিন দেবর্ষি নারদ রাজা দশরথের ভবনে এসে আবির্ভূত হলেন। মহারাজা দশরথ আনন্দিত হয়ে আপ্যায়ন করেন দেবর্ষি নারদকে, ‘ আসুন আসুন মহামুনী। আপনার দর্শন পেয়ে বড়ই আমি আনন্দিত হলাম।’

দেবর্ষি নারদ রাজা দশরথকে বললেন, ‘ রাজা দশরথ, আজ আমি আপনার কাছে এসে সাক্ষাৎ করলাম আপনাকে একটি কথা স্মরন করিয়ে দিতে। রাজন, আপনার রাজ্যের প্রজারা অনাবৃস্টিতে কষ্ট পাচ্ছেন। রাজকার্য পরিহার করে আপনি পুত্র চিন্তায় ব্যাপৃত হয়ে আছেন। আপনার পুত্রগন কি এমন অজন্মা দেশে এসে জন্মাবেন বলে আশা করেন?   দারুণ অনাবৃস্টি তে  আপনার রাজ্য ভীষণভাবে আক্রান্ত  সেই কথা কি আপনি  বিস্মৃত হয়ে আছেন ?  আজ তাই এই পথে গমনকালে আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ মানসে নেমে এলাম এই দারুণ অনাবৃস্টির সংবাদ জানাতে। এ যে আপনার স্বচ্ছ রাজধর্মের চরম গাফিলতি  চরম অবহেলার নিদর্শন মহারাজা দশরথ ! এমত গম্ভীর বিষয়ের কোন প্রতিকার চিন্তা না করে রাজন  আপনি এখনো কেন কালবিলম্ব  করে চলেছেন ? আপনি না প্রজারঞ্জক ! ‘

দশরথ হাত জোড় করে উঠে দাঁড়ালেন এবং সলজ্জে বললেন, ‘দেবর্ষি আপনার কথায় আমি লজ্জিত বোধ করছি। মহামুনী, সর্বত্র আপনার অনায়াস ভ্রমন । আপনি সবার দোষগুণ দেখে বেড়ান। আপনি প্রয়োজনে সকলের ভুল ইত্যাদি ধরিয়ে দেন। আপনি আজ আমার রাজসভায় আবির্ভূত হয়ে মহারাজা দশরথকে স্মরন করিয়ে দিলেন রাজ্যবাসীর কষ্টের কথা। আমি রাজা দশরথ বড়ই লজ্জিত হলাম। কিন্তু মহামুনি আমি তো এই বিষয়ে নিতান্ত  অপারগ। এই অনাবৃষ্টির আমি নিতান্ত কি সুরাহা করতে পারি বলুন ।’

দেবর্ষি নারদ বললেন,‘ রাজন, আমার একটি পরামর্শ শুনুন। আপনি তেজপ্রতাপ মহামহিম রাজা দশরথ। আপনি স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রর ভবনে গিয়ে দেখা করুন এবং আপনার রাজ্যের এই ভীষণ অনাবৃস্টির সংবাদ নিন।   

                           সূর্য বংশে রাজ্যে কভু দুঃখ নাহি জানি

                          চৌদ্দবৎসর অনাবৃষ্টি  উদক বিহীণ প্রানী

                           অনাবৃস্টি হেতুতে  বৃক্ষেতে নাহি ফল ,

                            নদ নদী সরোবর তাহে ও নাহিক জল !        [কৃত্তিবাস ]

মহারাজ আপনার রাজ্যের এই মহাসংকটের আশু সমাধান এখনই প্রয়োজন নয় কি?  প্রজারা নিত্যদিন আপনার বন্দনা গাহেন। তাঁরা বলেন আমাদের রাজা দশরথ মহান ! মহারাজ, তবে তাহাদের এই সংকটের এখনই কেন না কোন সমাধান আপনি অবিলম্বে করুন ?’

মহারাজা দশরথ অনুভব করলেন রাজ্যের এই ভীষণ অনাবৃস্টির আশু সমাধানের। তিনি নারদকে বললেন,’ আপনার আদেশ শিরোধার্য মহামুনিবর। আমি এখনি আমার রাজ্য পরিভ্রমনে বাহির হ’ব এবং স্বচক্ষে রাজ্যের অবস্থা ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখব! তারপরে দেবরাজ ইন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর পুরীতে যাব। এ কেমন ইন্দ্রদেব এর বিচার ? আমার  অযোধ্যাখন্ডে কেন এমন অনাবৃস্টি হাহাকার ? ‘ 

নারদ বললেন, ‘সাধু সাধু। এই তো প্রজ্ঞাবান রাজার মত কথা রাজন আপনার ! আমি তবে এখন প্রস্থান করি । ’ – এবং তিনি ‘নারায়ন’ ‘ নারায়ন’ ধ্বনি তুলে আবার আকাশমার্গে প্রস্থান করলেন।  

   ১০

গরুড় নন্দন জটায়ু  

রাজা দশরথ এইবার তাঁর রথে আসীন হয়ে সারথীকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্য পরিভ্রমনে বাহির হলেন।

        রথে চড়ি রাজ্য দেখি বেড়ায় রাজন

        জলহীন  রাজ্যবাসী পশুপক্ষীগন

        নদনদী দেখেন রাজা নাহি তাহে জল ,

        দিঘী  সরোবর দেখেন শুস্ক সে সকল ।।  [কৃত্তিবাস]          

এইবার রাজা দশরথ স্বচক্ষে রাজ্যবাসীর অসহনীয় কষ্ট দেখে অনুভব করলেন কি ভীষণ অনাবৃষ্টিতে রাজ্যবাসী একান্তই

জেরবার হয়ে রয়েছেন। রাজা মনে মনে আক্ষেপ করলেন এবং  দেবরাজ ইন্দ্রের এমত অবজ্ঞা তাঁর রাজ্যের প্রতি  দেখে অত্যন্ত  ক্রুদ্ধ হলেন এবং সেইক্ষনে এক ভীষণ মানসিক উষ্মা নিয়ে সদর্পে তিনি দেবরাজ ইন্দ্রর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হলেন সেই অনাবৃস্টির সুরাহা করতে এবং গম্ভীর সম্বোধন করলেন ‘ দেব রাজ !’ 

      কোথা বাসব, দশরথ করেন সম্বোধন !

      মম রাজ্যে অনাবৃস্টি হয় কি কারন ?

       অনাবৃষ্টি হেতুতে বৃক্ষেতে নাহি ফল ,

      নদ নদী সরোবর তাহে নাহি জল ? [কৃত্তিবাস ]

দেবরাজ ইন্দ্র সচকিত হলেন এবং রাজা দশরথকে সাদর অভ্যর্থনা করলেন,’ আসুন, আসু্‌ন, মহারাজা দশরথ ! শান্ত হ’ন ,

শান্ত হ’ন। আপনার দর্শন পেয়ে বড়ই সুখী হলাম। বলুন কি সমাচার আপনার রাজ্যের !‘ 

রাজা দশরথ ইন্দ্রের প্রিয় সখ্য ও বটেন। তিনি দেবরাজ ইন্দ্র দ্বারা আপ্যায়িত হয়ে এইবার  জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ দেবরাজ ইন্দ্র,  আপনার কাছে আজ আমার আগমন এক বিশেষ কারনে। 

     ভূপতি বলেন মম’ রাজ্যে নাই বৃষ্টি। 

    অনাবৃষ্টি হেতু মোর নষ্ট হৈল সৃষ্টি। 

    মম রাজ্যে বৃষ্টি নাহি হয় কোন কারজে !

    অনাবৃষ্টি হেতু যত প্রজাগণ মজে । 

    চৌদ্দবর্ষ অনাবৃষ্টি , নাহি হয় ধান। 

     প্রজাগণ দুঃখে মরে হই হীনমান ॥ [কৃত্তিবাস] 

আমার রাজ্যে চৌদ্দবৎসর যাবত ঘোর অনাবৃস্টি ঘটে চলেছে। সেখানে বিন্দুমাত্র বারিধারার কোন লক্ষন নেই। প্রজাগন অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। এর সমূহ কারণ কি, সে কথা আপনি আমাকে বুঝিয়ে বলুন। আমার রাজ্যের ধার্মিক প্রজাগন এর দুর্দশা আমি স্বচক্ষে দেখে বড়ই দুঃখিত হয়ে রয়েছি ইন্দ্রদেব। ফলহীণ বৃক্ষ কর্ষণহীন জমি।’ 

          ইন্দ্র কহেন দশরথ না করিহ রোষ

রোহিনীতে শনি দৃষ্টি সমূহ কারণ

          জলদ সে বর্ষিবে গেলে ওই দোষ

কর গিয়া অনুনয় শনিরে এখন ।। [স্বরচিত ]

ইন্দ্র তখন রাজা দশরথকে সভয়ে জানালেন,‘ মহারাজা দশরথ, অবধান করুন, আমি আপনাকে সত্য সত্য কহি, এই বিষয়ে আমার কোন দোষ নাই। ‘

রাজা দশরথ জিজ্ঞাসা করেন ,’ অর্থাৎ ? আপনি স্বয়ং বৃস্টির দেবতা  আর আপনি বলছেন আপনার কোন দোষ কিছু নাই ? এ কি অদ্ভুত কথা ইন্দ্রদেব ?’

ইন্দ্রদেব বলে ওঠেন,‘রাজন, সত্য কহি আমি, রোহিনী নক্ষত্রে শনিদেবের দৃষ্টি  আপনার রাজ্যে সেই অনাবৃস্টির সমূহ কারন। আর আপনার অবগতির জন্য আমি বলি, শনিদেবের সেই দৃস্টি ও একপ্রকার অচল। অন্ততঃ সে ও এক দীর্ঘ সময়ের জন্য। আর তাই চৌদ্দবৎসর ধরে আপনার রাজ্যে চলছে ঘোর অনাবৃষ্টি। 

দশরথ বলেন, ‘অদ্ভুত !   এমন  কথা আমি কোন কালেই অবগত নহি !’

ইন্দ্রদেব বলেন,‘জানি, আপনি এ কথা অবগত নহেন । মহারাজ জানবেন, তেমনটাই শনিদেবের চলন। মহারাজ কেন না আপনি স্বয়ং শনি মহারাজের ভবনে গিয়ে শনিদেবকে একবার নিজেই অনুনয় করুন যাহাতে তিনি রোহিনী নক্ষত্রে তাঁর দৃষ্টি ছাড়েন এবং  তা হলেই আপনার রাজ্যে বৃষ্টি হতে পারবে।‘ 

দশরথ বলেন,‘ বেশ, আপনার কথা মত আমি তবে স্বয়ং শনিদেব এর সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করব। আমি যারপরনাই  বিভ্রান্ত হয়ে রয়েছি আমার রাজ্যে এই ভীষণ অনাবৃষ্টির কারনে।  ইন্দ্রদেব এখন তবে আমি চললাম। সারথী চলো শনিভবন !’’  

রাজা দশরথ ইন্দ্রের কথামত এবার তাঁর রথে করে  শনিদেবের ভবনের পথে সাক্ষাত করতে চললেন। অন্তরীক্ষে রথে আসীন রাজা দশরথ দেখতে পেলেন তাঁর গন্তব্য গ্রহরাজ শনিগ্রহকে। 

তিনি উৎসাহীত হয়ে বলে উঠলেন,‘ ওই তো শনিভবন!  মহারাজ শনিদেব ?  ‘ – তিনি ডেকে উঠলেন।

 দশরথ শনিভবনে উপস্থিত হয়ে শনিদেবের দর্শন প্রার্থনা করলেন।  

            চলিলেন দশরথ ইন্দ্রের বচনে।

            রথ চালাইয়া যান শনির সদনে’। 

       শনি কোথা ! বলি রাজা , ডাকিলেন তায়।

            বাহির হইয়া শনি সম্মুখে দাঁড়ায়।

       শনির দৃষ্টিতে রাজার ছিঁড়ে রথ দড়া।

        আকাশ হইতে পড়ে তার অষ্ট ঘোড়া ॥ [কৃত্তিবাস ]

শনিদেব রাজা দশরথের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রত্যক্ষ হতেই রাজার রথের দড়িদড়া ছিঁড়ে গিয়ে রাজা শুন্য হতে নীচে পড়ে যেতে থাকেন।  এ কি অঘটন ? 

             ছিড়িল রথের দড়া নাহি পায় স্থল।

            পাকে পাকে পড়ে রথ করে টলমল ॥ 

                 চক্রবৎ ফিরে রথ গগণ উপরে।

                হেন জন নাহি যে রাজায় রক্ষা করে ।। [কৃত্তিবাস ]

দৈবক্রমে তখন পক্ষীরাজ জটায়ু অন্তরীক্ষে উড্ডিয়মান ছিলেন এবং জটায়ু সেখান হতেই লক্ষ্য করেন সেই ভীষণ  অঘটন। রাজা দশরথ রথের দড়িদড়া ছিঁড়ে পাকে পাকে সেই মহাশুন্য হতে রথ সহ পতিত হতে চলেছেন ভূমিপৃষ্ঠে। কি দুর্দৈব ! 

         জটায়ু নামেতে পক্ষী এড়ে অন্তরীক্ষে।

       আকাশে থাকিয়া পক্ষী রথ যে নিরীখে।

             ভূমিতে পড়িবে রাজা না পাইয়া স্থল।

               রাজার হইবে চূর্ণ শরীর সকল ॥ [কৃত্তিবাস ]

জটায়ু এইবার তীব্র বেগে অন্তরীক্ষ হতে নেমে আসতে থাকে রাজার রথের দিকে। শনি বলয়ের কাছাকাছি হতেই রাজা দশরথের রথের দড়িদড়া ছিঁড়ে গিয়ে স্বয়ং রাজা দশরথ  আচম্বিতে শুন্য হতে নীচে পড়ে যাচ্ছেন ! কি সর্বনাশ ! 

           হেনকালে করি যদি রাজার উদ্ধার।

          ঘোষিবে সংসার যশ আমার অপার ॥

             দশরথ মহারাজ ধর্ম অধিষ্ঠান ।’

         হেন রাজা তাজে প্রাণ মম বিদ্যমান ! [কৃত্তিবাস]

জটায়ু তাঁর সর্বশক্তি  দিয়ে ত্বরিত গতিতে তাঁর বিশাল দুই পক্ষ বিস্তার করে পতনোন্মুখ রাজাকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।  শনিদেবের দৃস্টি বড় সাংঘাতিক। তাঁর দৃষ্টির সন্মুখে যা কিছু গতিশীল তাঁর নাশ অবশ্যম্ভাবী। রাজা দশরথকে রক্ষা করা একান্ত কর্তব্য ।                               

            কাতর হইবে রাজা পড়িলে ভূমিতে। 

           ইহা ভাবি পক্ষীরাজ দুই পাখা পাতে ॥

            পাখা পাতি রহিল জটায়ু মহাবীর।

            হইলেন তাহার উপর রাজা এবে স্থির ॥ [কৃত্তিবাস ]

অন্তরীক্ষে উড্ডিয়মান পক্ষীরাজ জটায়ু এইবার ভীষণ বেগে উড়ে এসে স্বীয় দুই বিশাল পক্ষ বিস্তার করে পতনোন্মুখ রাজা দশরথের রথ এবং ঘোড়া সহ রাজার প্রাণরক্ষা করলেন।  রাজা জিজ্ঞাসা করেন , ‘ কে তুমি ?’

পক্ষিরাজ জটায়ু বলেন, ‘আমি জটায়ু !’

রাজা অবাক হয়ে বললেন , ‘ অহো ! এ কি অদ্ভুত !’

এক্ষনে পক্ষিরাজ জটায়ু রাজা দশরথকে অভিবাদন করে বলে ওঠেন,‘ মহারাজা দশরথ, আমি ওই দূর আকাশে  উড্ডিয়মান ছিলাম। আমি আপনাকে অন্তরীক্ষ হতে দেখতে পেয়ে ভীষণ বেগে নেমে এসে আপনাকে আমার এই দুই পক্ষ মেলে রক্ষা করেছি।  আপনি কি অবগত নহেন, শনিদেবের প্রত্যক্ষ দৃষ্টি অত্যন্ত  অশুভ। এখনই আপনার প্রানসংশয় হয়ে পড়েছিল।  মহারাজ আপনাকে আমি শনিদেবের দৃষ্টি হতে সর্বদা সাবধান হবার উপদেশ দেব।’ 

          রাজা বলেন পক্ষী মোর বাঁচাইলে জীবন
            কিবা তব পরিচয় কহ এবে মোরে  ।।
                জটায়ু কহে আমি গরুর নন্দন
        বিহঙ্গম জাতি আমি আকাশেতে উড়ে ।। [স্বরচিত ]

রাজা দশরথ তাঁর সমূহ বিপদ হতে মুক্তি পেয়ে পক্ষীরাজ জটায়ুকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন, ‘পক্ষীরাজ আমি আপনার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। আমার বিপদে আপনি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছেন । এমন উপকার কয়জনে করেন ?   পক্ষীরাজ , আমি আপনার পরিচয় জানতে ইচ্ছা করি।’

      কোন দেশে থাক তুমি কাহার নন্দন।

     পরিচয় দেহ মোরে তুমি কোন জন ॥ [কৃত্তিবাস]

জটায়ু এইবার রাজা দশরথের কাছে তাঁর পরিচয় প্রদান করেন ।

      পক্ষীরাজ কহিলেন আমি পক্ষীজাতি। 

      মম জ্যেষ্ঠভ্রাতা পক্ষী ভূপতি সম্পাতি ॥

      জটায়ু আমার নাম গরুড় নন্দন। 

     অন্তরীক্ষে ভ্রমি আমি উপর গগণ ॥

       আছাড় খাইয়া পড়েন দেখিয়া-রাজন।

       পাখা পাতি রাখিলাম তোমার জীবন। [কৃত্তিবাস ]

জটায়ু বলেন ,’ মহারাজ, আপনার অবগতির জন্য বলি, আমি অরুণদেবের পুত্র, গরুড়ের ভ্রাতুষ্পুত্র। সম্পাতি আমার বড় ভাই।  যিনি গরুড়, স্বয়ং নারায়নের বাহন, তিনি আমার খুল্লতাত মহারাজ।  আপনাকে পতনোন্মুখ দেখে আমি আমার দুই পক্ষ বিস্তার করে আপনাকে শুন্যে পতন হ’তে রক্ষা করার প্রয়াস করলাম। 

জটায়ুর পরিচয়ে রাজা দশরথ অবাক হলেন এবং বললেন, ‘ গরুড়ের ভ্রাতুষ্পুত্র তবে আপনি ‘ জটায়ু ‘ !  পক্ষীরাজ আপনার পরিচয়ে আমি বড়ই প্রীত হলাম। আমার প্রানরক্ষার জন্য আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ রইলাম।  আসুন পক্ষীরাজ , এক্ষনে আমরা উভয়ে অগ্নিসাক্ষী করে মিতালি করি।’

           দশরথ বলিলেন তুমি মোর মিত্র।

           ‘প্রাণদান দিলা মোরে কি মহৎ চরিত্র ॥ [কৃত্তিবাস ]

জটায়ু বলেন,‘ এ আমার মহৎ সন্মান। মহারাজা দশরথ ,আমি  অবশ্যই আপনার সঙ্গে মিতালিতে আনন্দ লাভ করব। আসুন আমরা অগ্নিসাক্ষী করি।’ 

রাজা দশরথ এক্ষনে অগ্নিরচনা করলেন এবং অগ্নিসাক্ষী করে তাঁর প্রাণদাতা জটায়ুর সাথে হাতে হাথ রেখে মিতালি করলেন। 

      অগ্নি সাক্ষী করি দোঁহে মিতালী করিল
    উড়ি গেল আপন বাসে জটায়ু মহাবীর ।।
      রক্ষীব পুত্রে তোমার পক্ষী আশ্বাসিলা
      রাজা মনে পুত্র তরে হইল অধীর ।। [স্বরচিত ]

জটায়ু বললেন,‘ মহারাজ, আপনার সঙ্গে মিতালি হয়ে আমি আনন্দিত হলাম।  আপনার সঙ্গে মিতালির নিদর্শন স্বরূপ আমি  আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি এই যে, আমি আপনার পুত্রকে কোথাও কোনদিন কোনরকম বিপদে পড়লে নিশ্চই রক্ষা করব। মহারাজ আজ তবে অনুমতি করুন আমাকে, আমি এইবার আমার আবাসে গমন করি ! ‘ -এবং এমত আশ্বাস দিয়ে জটায়ু তাহার বিশাল দুই পক্ষ বিস্তার করে নিজ আবাসে উড়ে গেলেন।

রাজা অবাক হয়ে বললেন, ‘ আশ্চর্য, আমি পুত্রহীণ। পক্ষীরাজ জটায়ু এ কি কথা বলে গেলেন আমাকে? রক্ষীব পুত্রে তোমার পক্ষী আশ্বাসিলা ! অদ্ভুত ! অহো,  এখন আমি অন্য বিষয় নিয়ে  বিশেষ বিব্রত রয়েছি । বশিস্ট দেবের সঙ্গে এ ব্যাপারে  আলাপ করে দেখতে হবে।   আমি এখন আগে শনিদেবের ভবনে  গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং আমার প্রারব্ধ কর্ম সম্পাদন করি ।’

রাজা দশরথ এইবার শনিদেবের ভবনে গিয়ে ঘন্টা বাজিয়ে তাঁর দর্শন প্রার্থনা করলেন । শনিদেব কি কেঁপে উঠলেন । রাজা দশরথ এসেছেন সাক্ষাৎ প্রার্থী হয়ে।  কি বলবেন তাঁকে !

শনিদেব এইবার আপন চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে নিলেন এবং রাজা দশরথকে বলে ওঠেন, ‘ রাজন, আমার কথা রাখুন,  আপনি এই মুহূর্তে আমার সাক্ষাৎ দৃষ্টির সন্মুখ হতে সরে যান এবং আপনি আমার পশ্চাৎ দিকে এসে দাঁড়ান। আমার সন্মুখ দৃষ্টি অত্যন্ত ভয়ানক। সেই দৃষ্টির সন্মুখে যাহা কিছু সবই বিনষ্টি প্রাপ্ত হয়। পার্বতীর পুত্র গনেশের মুন্ড ও আমার দৃষ্টিতেই নাশ হয়েছিল। তবে রাজন, যেহেতু আপনি একজন সূর্যবংশীয় এবং আমি ও একজন সূর্যবংশীয়,  তাই  আপনি আজ সামান্যতঃ ভাবে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কারন আমি ও যে সূর্যতনয় শনি ।‘

দশরথ বললেন,‘ এ আমার পরম সৌভাগ্য ! মহারাজ, আপনাকে আমি সেই বার্তা জ্ঞাপন করি। আজ আপনার দৃষ্টি কোপে আমার সমুহ বিপদ উপস্থিত হয়েছিল। আমাকে আমার সমুহ বিপদ হতে স্বয়ং  পক্ষীরাজ জটায়ু  দূর অন্তরীক্ষ হতে রক্ষা করেন। আমি জটায়ুর কাছে কৃতজ্ঞ। ’  

শনিদেব বললেন , ‘সে আপনার পূর্বজন্মের সুকৃতি। এক্ষনে আমি আমার দৃষ্টি আপনার রাজ্য হতে সরিয়ে নিলাম।  এখন বলুন , কি হেতু আমার নিকট আপনার আগমন ?’ 

রাজা দশরথ এইবার শনিদেবকে তাঁর আসার কারন ব্যক্ত করলেন।                                                      

-’ মহারাজ, আমার কোশল রাজ্যে আজ চোদ্দ বৎসর যাবত অনাবৃস্টির কারনে প্রজাগন ভীষণ কষ্ট ভোগ করছেন। আমাকে মহামুনি নারদ এসে ইন্দ্রদেব এর সঙ্গে দেখা করে আমার কোশল রাজ্যে বৃস্টিপাতের অনুরোধ করতে বলেন। আমি ইন্দ্রদেবের শরনাপন্ন হলে তিনি আমাকে আপনার সাথে সাক্ষাত করতে বলেন এবং অনুরোধ করতে বললেন রোহিনী থেকে আপনার কোপদৃস্টি সরিয়ে নিতে। এবং তবেই কোশল রাজ্যে অনাবৃস্টি সম্ভবে।’

              শনি সদনে রাজা পহুঁছিলে পরে

              শনিরে কহেন রাজা অনাবৃষ্টি কথা  ,

              শনি কহে ছাড়িলাম দৃষ্টি আমার রাজন

              রাজ্য তব হোক এবে বারিধারা স্নাতা ।। [স্বরচিত ]

অতঃ শনিদেব এইবার রাজা দশরথকে আশ্বাস দিলেন, ‘ রাজন, আমি রোহিনী নক্ষত্র হতে এই মুহূর্তে আমার  দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। এইবার মহারাজা দশরথ, আপনার রাজ্য অবশ্যই বারিস্নাতা হবে। ‘

রাজা দশরথ এক্ষনে  শনিদেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ রাজ্যে প্রস্থান করলেন। রাজ্যে বৃষ্টি নেমে আসে তুমুল ধারে। সাতদিন ধরে প্রচুর বৃষ্টিতে জনজীবন সুস্থ হয়ে ওঠে। রাজ্যবাসী সকলে উল্লসিত হয়ে ওঠেন।  রাজ্যে আনন্দের সাড়া পড়ে যায়।

              অনাবৃষ্টি ঘুচিল তবে কোশলের দেশে

            জীবন পাইয়া সব জীবের হইল সমৃদ্ধি ।।

            গুন গাহে দশরথের প্রজাগন হর্ষে

তপস্যার অন্তে যেন মনোরথ সিদ্ধি ।।  [ স্বরচিত ] 

মহারাজা দশরথ প্রজাবর্গের আনন্দ কোলাহলে বড় আত্মিক স্বস্তি অনুভব করেন। তিনি প্রজাপালক। প্রজাগনের সুখই তার সুখ। কিন্তু তিনি তাঁর পুত্রহীনতার কথা নিয়ে বড়ই চিন্তিত। শনিদেবের ভবন হতে ফিরে এসে তিনি তাঁর তিন রানীর নিকট সমুদয় বৃতান্ত বয়ান করলেন এবং পক্ষীরাজ জটায়ুর সেই অদ্ভুত আশ্বাসের কথা শোনালেন।

 ‘ রক্ষীব পুত্রে তোমার ,পক্ষী আশ্বাসিলা ! ’

রানীগন বললেন, ‘ এ তো তবে মিথ্যা হতে পারে না।  মহারাজ, কেন না আপনি কুলগুরু বশিষ্ঠদেব এর র কাছে এ কথা জানতে আগ্রহ করুন যদি কোন তপোনুষ্ঠান করে অথবা কোন প্রায়শ্চিত্ত যদি সম্ভবে ?’

রাজা দশরথ তেমনটাই  যুক্তিযুক্ত মনে করলেন। তিনি কুলগুরু বশিষ্ট্যের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করতে স্থির করলেন।

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »

আজন্ম-অর্জিত ভাষার পক্ষে লড়াইয়ের কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর পথযাত্রী …সৃষ্টির শেষ রহস্য, ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন “…সৃষ্টির শেষ রহস্য,ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »

আজন্ম-অর্জিত ভাষার পক্ষে লড়াইয়ের কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

আলোর পথযাত্রী – বিতস্তা ঘোষাল আলোর পথযাত্রী ২ : আলোর পথযাত্রী …সৃষ্টির শেষ রহস্য, ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব সেন “…সৃষ্টির শেষ রহস্য,ভালোবাসার অমৃত”- নবনীতা দেব

Read More »

ভজ মন রাম চরণ

ধ্রুপদী সাহিত্য শ্যামলকৃষ্ণ বসু ৯ অযোধ্যাপতি রাজা দশরথ  [ সর্গ ৫-৭ ] সরযূ নদীর তীরে কোশল নামে সে এক বিশাল দেশ। বিশাল আয়তনের মহতী সমৃদ্ধিশালী

Read More »