রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
১
গোধুলী আলোয় স্বগত বৈশাখে
বন্ধ্যা জমিতে বেতস লতার গুচ্ছ
বাঁচার তাগিদে শুষে নেয় প্রাণরস,
আমার সোনালী-রূপোলী স্বপ্নগুলো
আবছা আলোয় ভাসে,
হেমলক বিষ পান করি নিঃশ্বাসে
যেভাবে কলম শব্দ ফুটিয়ে তোলে
কাগজের ওপর কালির আঁচড়ে — অনাঘ্রাত
ভেরমিয়েরের কুণ্ডল পরিহিতা
তাকিয়ে থাকে মায়াভরা চোখে
এবং যেভাবে আসরে সারাটা সন্ধ্যে
অর্ফিয়াস গায় বিষাদের পদাবলী,
সেভাবেই আজ স্বগত বৈশাখ সন্ধ্যায়
ইচ্ছেডানায় ভর দিয়ে ওড়ে স্বপ্ন,
জল-জোছনায় সুরমূর্ছনা ভাসে
অলক্ষ্যে দিগললনারা হাসে
২
অনাঘ্রাত বৈশাখের দিনে আমি তুলি ছোঁয়াই ক্যানভাসের উপর
জানি কালবৈশাখীর ঝড়ে ধুয়ে-মুছে যেতে পারে সবটুকু রং
তুলির প্রতিটি আঁচড়ে অনুভূতিকে ধরে রাখতে চাই এমনভাবে
যাতে পরে দেখলে নিজেরই চমক লাগবে,
ভোররাতে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন
যেন আর মনে না পড়ে
কেননা প্রাতঃভ্রমণে যাব নিয়মমাফিক, কতকটা অভ্যাসের বশে
যেসব সম্পর্ক প্রতিদিন জন্ম নেয় রেললাইনের ধারে আর জাহাজঘাটায়,
যেসব স্মৃতিগুলি নীরবে অনাস্থা জানায় ঘটমান বর্তমানের প্রতি
তাদের মনে রেখে সময়-সরণীতে আমিও হাঁটি সায়াহ্নে
আহার্য সংগ্রহে ব্যর্থ মাছরাঙার মতন — দৃষ্টি পথের প্রতি নিবদ্ধ
চেনা মানুষের ভিড়ে মিশি, আবার পা চালাই দ্রুত, চলে যাই সেখান থেকে
যেসব কথা বলব না কোনওদিন রঙে ও রেখায় — বৈদেহী শোনো মন দিয়ে
সংকেত নয়, বাইরের আলগা চটক নয়, চারপাশে ভিড় করে দাঁড়াবে বাস্তব
ঝরবে না দু’-চার ফোঁটা চোখের জলও, কেবল জরুরি ভিত্তিতে
লেখা হয়ে যাবে কয়েকটি লাইন
আমাদের সত্ত্বার মধ্যেই একদিন জন্ম নেবে যুগপুরুষ
যেদিন অন্তরীক্ষ থেকে পৃথিবীর মাটিতে নেমে আসবেন ইশ্বর



