পয়লা বৈশাখে

পয়লা বৈশাখে


অভিজিৎ চৌধুরী


আস্তে আস্তে মানুষ বুঝতে পারে তার খুব একটা বন্ধু নেই।অথচ সে যে পয়লা বৈশাখে শুরু করেছিল জীবনে তাতে দুজন বন্ধু ছিলই।অকৃত্রিম বন্ধু – বাবা ও মা। সেই, যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায়।
বয়স বাড়লে নীরবতার পাহাড় জমে, আর বন্ধু ক্রমশ হারাতে থাকে।শেষমেশ দুজন বন্ধু হয়, একজন বউ আরেকজন ছেলে।
এসব কথা থাক।একজন কিশোর পাঞ্জবির মাপ দিচ্ছে, তার রোগা শরীরে আদ্দির পাঞ্জাবি পতাকার মতন উড়ছে। শুধু গলার কাছে চিকনের কাজ হয়তো নীল সুতোয় একমাত্র অহংকার।তারপর লিখতে লিখতে কিশোরটি যুবক হল, তারপর চোখের পলক না ফেলতেই প্রবীণ।সে কখন যে লেখক হল বা না হল নিজেই জানল না।তবে বড় বড় প্রকাশকের দরজায় লেপাপা আঁটা খামে তার চিঠি আসে,যাওয়ার।এসব তার কাছে রাজার চিঠি। পয়লার একলা দুপুরে সে যায়,কখনও সবান্ধবে।আর তখন প্রচুর দামী মানুষের মাঝখানেও সে ভারী একা।পয়লা বৈশাখের দুপুর গড়িয়ে গড়িয়ে বিকেল।কলেজ স্কোয়ারের দীঘিতে সে অবশেষে জলকেলি দেখে কিশোর – কিশোরীর, বালক – বালিকার।সে ছুঁতে চায়,সময় ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে কখন।এক বৈশাখে দেখা হল দুজনায় – না,তাও নেই।
পয়লা বৈশাখে শুরু করে নতুন লেখা। সংশয় আজও আছে সে লেখক তো! সেই সংশয় কাটাতে আবার আবার নতুন লেখায় হাত দেয়।একা আর লাগে না,ছায়ার পাখিরা আসে কখনও ভোরে,কখনওবা নীড়ে ফেরা সন্ধেয়।
সে বোঝে, এই তার জীবন খানিকটা বোধগম্য, খানিকটা অনির্বচনীয়।

Author

আপনার মতামত লিখুন

Facebook
Twitter
LinkedIn

বর্তমান কভার স্টোরি

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »

পূর্ববর্তী কভার স্টোরি

২৩ : এক দৃষ্টিহীন পেঁচা

এক দৃষ্টিহীন পেঁচা ১ : এক দৃষ্টিহীন পেঁচা ২ : এক দৃষ্টিহীন পেঁচা ৩ : এক দৃষ্টিহীন পেঁচা ৪ : এক দৃষ্টিহীন পেঁচা ৫ :

Read More »

সলিল সমাধি

ধারাবাহিক অনুবাদ উপন্যাস ( অসমিয়া ) রাজীব বরা [ রাজীব বরা ১৯৭০ সনে অসমের মাজুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।ডিব্রগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সনে অসমিয়া সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে

Read More »